Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

‘একটি জাতির জন্ম’ ও দলীয় বাটখারায় ইতিহাস মাপা

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪১
‘একটি জাতির জন্ম’ ও দলীয় বাটখারায় ইতিহাস মাপা

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা গতানুগতিক বলে মনে হয়নি। তিনি বিষয়টি আরেকটু গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছেন।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাথা, তা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে- এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা অবশ্যই আমাদের জন্য ঠিক হবে না, যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব ইতিহাস, তাকে কোনোভাবে খাটো করতে পারে।

গত ৫৫ বছরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার নামে অনেক দলীয় আদিখ্যেতা দেখানো হয়েছে, কাউকে বড় করতে গিয়ে অন্যদের ছোট করা হয়েছে। এই কুঅভ্যাস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ‘সকল জাতীয় নেতার’ প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও নাম উচ্চারণ করেছেন একজনেরই, জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে যদি শুধু তার নাম বলা হয়, তখন মনে হয় আমরা পুরনো অভ্যাসেই আটকে গেলাম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
‘অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীত ভুলে গেলে দুই চোখ অন্ধ’tarique-rahman-

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা যেমন অতীতকে একদম ভুলে যাব না, ভুলে যাওয়া চলবে না, ঠিক একইভাবে অতীতেও আমরা দেখেছি, খুব বেশিদিন না, নিকট অতীতে আমরা দেখেছি যে, অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে, যেটা আমাদের সামনে ভবিষ্যৎ আছে, সেই ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত আওয়ামী লীগ আমলের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সে সময়ে নেতা–নেত্রীরা এক আওয়ামী লীগ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে কারও অবদান স্বীকার করতেন না। সবকিছু ছিল মুজিবময়। সেটা যেমন সত্যভাষণ ছিল না, তেমনি ইতিহাসকে মুজিবমুক্ত করাও ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রমাণিত হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র।’

একই সঙ্গে দেশবাসী অন্যান্য অনিবার্য চরিত্রের নামও জানতে চাইবেন। আমরা ইতিহাসের একদেশদর্শী বিচারের নিন্দা করি। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে যার যেটুকু অবদান আছে, তা স্বীকার করতে হবে। কাউকে অস্বীকার করা যাবে না।

তারেক রহমান ইতিহাস চর্চা করতে গিয়ে যথার্থভাবেই তার বাবা জিয়াউর রহমানের একটি প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেছেন।

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনpresident sahabuddin

১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত প্রবন্ধটির নাম ‘একটি জাতির জন্ম’। এই প্রবন্ধে তিনি পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের বৈষম্য ও শোষণের কথা বলেছেন। পাকিস্তানিদের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ও মনোভাব তুলে ধরেছেন। তবে এই প্রবন্ধে জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বেশিবার যে নামটি উচ্চারণ করেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এখানে তার নিবন্ধের কিছু অংশ তুলে ধরছি:

‘...১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে আমাকে নিয়োগ করা হলো চট্টগ্রামে। এবার ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্টম ব্যাটেলিয়নের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এর কয়েক দিন পর আমাকে ঢাকা যেতে হয়। নির্বাচনের সময়টায় আমি ছিলাম ক্যান্টনমেন্টে। প্রথম থেকেই পাকিস্তানী অফিসাররা মনে করতো, চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই হবে। কিন্তু নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনেই তাদের মুখে আমি দেখলাম হতাশার সুস্পষ্ট ছাপ। ঢাকায় অবস্থানকারী পাকিস্তানী সিনিয়র অফিসারদের মুখে দেখলাম আমি আতংকের ছবি। তাদের এই আতংকের কারণও আমার অজানা ছিল না। শীঘ্রই জনগণ গণতন্ত্র ফিরে পাবে, এই আশায় আমরা বাঙালী অফিসাররা তখন আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলাম।...’

‘...তারপর এলো ১লা মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সারা দেশে শুরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন। এর পরদিন দাঙ্গা হলো। বিহারীরা হামলা করেছিল এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে, এর থেকেই ব্যাপক গোলযোগের সূচনা হলো।...’

‘...৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রীন সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্তরূপ দিলাম। কিন্তু তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে তা জানালাম না। বাঙ্গালী ও পাকিস্তানী সৈনিকদের মাঝেও উত্তেজনা ক্রমেই চরমে উঠছিল।...’

আজ ৭ মার্চের ভাষণকে যে যার মতো ব্যাখ্যা করতে পারেন। কেউ কেউ এই ভাষণের মধ্যে আপসকামিতাও দেখতে পারেন। কিন্তু সেদিন বাঙালি মাত্রই এই ভাষণে উজ্জীবিত হয়েছিল। এটি তখন দেখা হয়েছে স্বাধীনতার পক্ষে গ্রিন সিগনাল হিসেবে। মনে রাখা প্রয়োজন, শাসক শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিব এক নন।

এ কারণেই আমরা দেখি, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় যখন মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের কোনো অবদান নেই বলে জমিয়াতুল উলামায়ে ইসলামের নেতা বক্তৃতা করেন, তখন সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পবিরারের সদস্যরা জোর প্রতিবাদ জানান। এমনকি তাদের প্রতিবাদের মুখে ওই ব্যক্তিকে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে হয়। তিনি যেই দলের নেতা, সেই দলকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি নির্বাচন করেছিল।

শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা আবদুল হক কাওসারী মঞ্চে উঠে বক্তব্যের শুরুতে বলেন, তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করেন, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান নেই এবং তিনি তা স্বীকার করেন না। তার এমন বক্তব্য শুনে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে রাজাকার বলে গালমন্দ করেন। এ সময় মিলনায়তনে হট্টগোল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসন ও দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির মুখে আবদুল হককে অনুষ্ঠান থেকে চলে যেতে বলে জেলা প্রশাসন। এ সময় তিনি দ্রুত শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন ত্যাগ করেন।

অর্থাৎ, কিছু সময়ের জন্য কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করা গেলেও সব সময়ে সব মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় না। ইতিহাসে যার যেটুকু প্রাপ্য, তাকে তা দিতে হবে। এ কথা যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য জিয়াউর রহমানসহ অন্য নেতাদের জন্যও। দলীয় বাটখারায় ইতিহাস মাপার যেই প্রবণতা আওয়ামী লীগ দেখিয়েছিল, বিএনপি তা থেকে বেরিয়ে আসবে আশা করি।

লেখক: সম্পাদক, চরচা

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানবাংলাদেশতারেক রহমানসরকারমুক্তিযুদ্ধরাজনীতিজিয়াউর রহমানস্বাধীনতাইতিহাস
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন