ভাবনা

ট্রাম্প সম্পর্কে সি আসলে কী ভাবেন
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের মধ্যকার সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলটি এমন একটি বিষয়, যা আমরা সম্ভবত কখনোই জানতে পারব না- অথবা জানলেও তা জানতে অনেক সময় লেগে যাবে। এর সাথে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশে প্রতিনিধিদলগুলোর ব্যর্থতা

রাড্ডা বা সালমান মুক্তাদির সরকারকে ফেলছে কোন গাড্ডায়?
সম্প্রতি দুটি ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। দুটিই ঘটেছে রাজধানী ঢাকার মধ্যে। যেহেতু আমাদের দেশটা দিনশেষে অত্যন্ত রাজধানীকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে দিনে দিনে, তাই এই দুই ঘটনা পুরো দেশের একটি ভয়ঙ্কর প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র হওয়ার পথে আছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে ঘটনাগুলো জেনে নেওয়া যাক।

জাসদ অফিসে আটক নাটকে সরকারের কী ‘সওয়াব’ হলো?
একই দিনে ঢাকা শহরে এতগুলো অঘটনের নজির নিকট অতীতে নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব থেকে শুরু করে স্টুডিওতে হামলা। চাঁদার দাবিতে অ্যাপার্টমেন্টে চড়াও হওয়া থেকে রাজনৈতিক দলের অফিসে সাঁড়াশি অভিযান। এর কোনোটা আইনের শাসনের সঙ্গে যায় না। গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর বিএনপির সাবেক এক নেতা ৫২ বছরের পুর

ডেঙ্গুর ভয়: কে জানে ক’ঘণ্টা আছে এই জীবনটা!
সপ্তাহদুয়েক আগের ঘটনা। এক সহকর্মী হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন যেকোনো একটা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একটা আইসিইউ বেড। কারণ তার এক প্রবাসী বন্ধুর কয়েক বছরের সন্তানটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অবস্থা সুবিধার না। বাঁচাতে হলে প্রয়োজন ইনটেনসিভ কেয়ার সুবিধা। আর সেই জন্যই চলছিল অনুসন্ধান। কিন্তু প্রয়োজন হলেই তো হ

ছড়া–গানেই অমর হয়ে থাকবেন আখতার হুসেন
বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার আখতার হুসেন, প্রিয় আখতার ভাই আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন। প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি শিশুতোষ ছড়ার যে ভুবন তৈরি করছিলেন, তার সমাপ্তি হলো। ছড়া লিখে সবার মন অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে অনন্তের পথে চলে গেলেন।

‘পাগল’ ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামান
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকশ মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্যদের কাছে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

বোয়িং দিয়ে কি সাধারণ মানুষের পেট ভরবে?
কেনাকাটা মানেই হচ্ছে প্রয়োজন মেটানো। অন্তত এই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কেনাকাটা মানে সেটাই। কথা হলো, প্রয়োজনটা কোন ঘরানার আসলে। বিত্তভেদে এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ অতীব বা আবশ্যিক প্রয়োজন মেটাতেই বাজারে যায়। যদিও বিত্তবানদের হিসাব আলাদা। বিত্তবানদের যেটা প্রয়োজন, সেটা এই দেশের সিংহভাগ মানুষের

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: যে বীরকন্যাকে আমরা ভুলে গেছি
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে আক্রমণের নেতৃত্ব দেন এক তরুণী–প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯১১ সালে চট্টগ্রামে জন্ম হওয়া এই তরুণী বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলেছিলেন তিনি। সফল আক্রমণের পর ধরা পড়ার অপমান এড়াতে পটাশিয়াম সা

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই এগিয়ে যেতে চায় তার মিত্ররা?
১৯১৭ সাল। উত্তর ফ্রান্সের ভিমি রিজে কানাডার সেনারা তখন যুদ্ধ করছিল। সেই সময়ে লেফটেন্যান্ট লেসলি মিলার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছু ওক গাছের বীজ সংগ্রহ করে কানাডার অন্টারিওতে নিয়ে যান। আর এর প্রায় এক শতাব্দী পর সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া ওক গাছের চারা আবার ফ্রান্সে পাঠানো হয়।

জ্বালানি তেলের দাম, সত্য ও মিথ্যা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হচ্ছে, দাম বাড়ল কেন? কিন্তু আমাদের এখানে প্রশ্নটি করার আগেই উত্তর হাজির: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে। ব্যস, হিসাব শেষ। অথচ জ্বালানি তেলের হিসাব এত সরল নয়। বরং এই সরলীকরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে আসল

গ্যাসের ওপর ভাসা থেকে গ্যাস সংকটের দেশ: পোড়া দেশলাই কাঠির ট্র্যাজেডি
১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ার সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকার শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে চীনা রেস্তোরাঁ পর্যন্ত একটি স্বস্তিদায়ক মিথ ছড়িয়ে ছিল। বলা হতো, দেশটি এত বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে যে, আগামী ১৫০ বছর অনায়াসে আমাদের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটানো

মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মায়, নাকি সমাজ গড়ে তোলে?
একই মহল্লার আলো-আঁধারি গলি ছুঁয়ে বেড়ে ওঠা দুই বালকের গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। তাদের শৈশব কেটেছে একই চেনা ধূসর পথ ধরে। জীর্ণ স্কুলের একই ভাঙা বেঞ্চে বসে তারা পাশাপাশি বিদ্যা কুড়িয়েছে, মাথার ওপর ছিল একই রকম সামাজিক অনটন ও টানাপোড়েন। অথচ পনেরো বছর পর দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি।

একেকটি ঘটনা একেকটি বেদনার গল্প
অপ্রতীমের মৃত্যুতে সমস্ত দেশ শোকে স্তব্ধ হলেও আমাদের রাজনীতিকদের চৈতন্ন্যোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীনেরা সবকিছু ঠিক আছে বলে জনগণকে সান্ত্বনা দেবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের ধরার বাহবাও নিতে চাইবে।

চিকিৎসকের দেওয়া টেস্ট রিপোর্ট দেখতেও আবার ফি!
প্রথম পরামর্শে চিকিৎসক নিজেই যদি রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা দেন এবং সেই পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখা পর্যন্ত তার ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট দেখা কি নতুন পরামর্শ, নাকি আগের ‘পরামর্শের পরিপূর্ণতা’?

ইরানের উত্থান ঠেকানোর উপায় নেই
চীনের বিপ্লবোত্তর ইতিহাস বিশ্বের জন্য অত্যন্ত শিক্ষাগ্রহণের মতো একটি বিষয়। এটি আমাদের দেখায় কীভাবে একটি বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, অর্থায়ন ও কূটনীতির মূলধারায় পুনর্বাসিত হতে পারে এবং নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে পারে।

শিক্ষা দিবস: ৬৪ বছর পরও কেন বৈষম্যের পাঠ শেষ হলো না?
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের তৎকালীন ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছিল একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে রেখে। সেটি হলো, শিক্ষা কি রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার, নাকি সামর্থ্যবান মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পণ্য? পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শিক্ষা সংকোচনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মোস্তফা

ছাগল নিয়ে শঠতা
কাঁঠালগাছে দেশটা ভরে গেলে এই দেশ ভরে যাবে ছাগলে—এ রকম একটা ভাবনা কি আমাদের মনে সঙ্গোপনে ছিল? হতেও পারে। তা না হলে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পর ছাগল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কেন?

দ্বিজাতিতত্ত্বের দেশে জিন্নাহই তো জাতীয় বীর!
দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক রাজনীতিক ও রাজনৈতিক দলের মনোজগতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভূত চেপে বসেছে, সেখানে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবিই যে প্রাধান্য পাবে, তাতে হতবাক হওয়ার কিছু নেই।

মক্কা চুক্তি উন্মুক্ত করে দিল হুতিরা
সম্ভবত সবাই মক্কা চুক্তির পাদটীকাগুলো পড়তে ভুলে গিয়েছিল। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক যখন মক্কায় তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্মোচন করে, তখন এর ভাষা ছিল অত্যন্ত মহৎ-ভ্রাতৃত্ব, প্রতিরোধ, সংহতি ও সাধারণ নিরাপত্তা। বিশ্বকে বলা হয়েছিল যে, যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে

ডাকসু: গণতন্ত্রের অনুশীলন নাকি ক্ষমতার কৌশল?
বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মূলত অগণতান্ত্রিক অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই এই উদ্যোগগুলো আমরা লক্ষ্য করি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে

‘পদত্যাগী’ শিক্ষকদের পদ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিন
কয়েক দিন আগে উত্তরবঙ্গে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ‘পদত্যাগী’ শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে এক যুগ কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষক একসময় সাংবাদিকতাও

‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’
ইতিহাসের পাতায় হয়তো ঘটনাটি এক দিনের। কিন্তু এর প্রভাব আমরা বহন করছি বছরের পর বছর ধরে–আমাদের চিন্তায়, প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের অভিজ্ঞতায়, নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আর বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে।


