
কিছু সময়ের জন্য কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করা গেলেও সব সময়ে সব মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় না। ইতিহাসে যার যেটুকু প্রাপ্য, তাকে তা দিতে হবে। এ কথা যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য জিয়াউর রহমানসহ অন্য নেতাদের জন্যও।

মুক্তিযুদ্ধের এক বীর সেনানি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন গণহত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ বাঙালিকে বিলীন করে দিতে পারেনি। বাঙালি বরং আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ স্বাধীনতা আদায়ের জন্য। নিজেদের

পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে নয় মাস যুদ্ধের পর এসেছিল যে স্বাধীনতা, উড়েছিল লাল-সবুজের পতাকা; সেই স্বাধীন স্বদেশ বিনির্মাণের ৫৫তম বার্ষিকীতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে সেই বিশ্বাসকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়—যেখানে বলা হয়েছিল–হিন্দু ও মুসলিম দুটি ভিন্ন জাতি এবং তারা একই ভূখণ্ডে শান্তিতে থাকতে পারে না। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, মাত্র ২৪ বছরেই জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করেছিল যুক্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী বাঙালিরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিন জনের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত।

এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায় না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২১ সালে বিএনপি মূলত গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছিল। তাই তাদের কাছে ভাষণটি প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো ভাষণটিকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২ মার্চের সেই উত্তাল দিনটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আ স ম আবদুর রব জানিয়েছিলেন, সমাবেশটি বটতলায় হলেও পতাকাটি তিনি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন কলা ভবন ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ছাদে, যাতে সেটি সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

শেখ মুজিবুরের নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করা হয়। বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে, শেখ মুজিব তখন পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন।

কী অসাধারণ এক বিদায়! লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায়। এমন সৌভাগ্য আসলে কয়জনের হয়? দেশটির নাম যখন বাংলাদেশ, তখন সেই ‘সৌভাগ্য’ যেন আরও দুর্লভ হয়ে ওঠে