Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

ঝুলন্ত পার্লামেন্ট না নিরঙ্কুশ বিজয়?

সৈয়দ তারিক উজ জামান

সৈয়দ তারিক উজ জামান

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ১১
ঝুলন্ত পার্লামেন্ট না নিরঙ্কুশ বিজয়?

ভোটের প্রচারে দেশ এখন সরগরম। টিভি খবর, পত্রিকা খুললেই দেখা যায় দলীয় প্রার্থী, নির্দলীয় প্রার্থীরা সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ প্রচারণায়। নির্বাচন কমিশন আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সবটা না হলেও অনেকটাই মানা হচ্ছে, ফলে পোষ্টার, ব্যানার ইত্যাদি শহর অঞ্চলকে ঢেকে দিতে পারেনি; দেয়াল, রাস্তা, বাজার, ঘাট ইত্যাদি এখনো অনেকটা পরিষ্কার। সামান্য হলেও সভ্য করা গেছে দলীয় নেতা, কর্মীদের। তবে খোঁচাখুচি, মারামারি, আক্রমণাত্মক কথা, অপ্রিয় সমালোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

Advertisement

বড় দলগুলোর নেতারা ভালই জানেন যে এমন দাঙ্গাবাজি বেশি বাড়তে দেওয়া যাবে না, বাড়লে সবার জন্যই তা হবে আত্মহত্যার সামিল। তাদের কারণেই পতিত স্বৈরাচারের স্বপ্ন সফল হবে। কিন্তু তারপরেও নিজ নিজ দলের কিছু নেতা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, এ যে দীর্ঘদিনের অভ্যাস যা শরীরের রক্ত কণিকায় জমা হয়ে আছে; ঘষিলে, মাজিলেও এই চরিত্র সহজে যাবে না।

কিন্তু এমন ভোট প্রচারের ফলাফল কি হতে পারে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা, কল্পনা! কোন দল কেমন সংখ্যক আসনে জয়লাভ করতে পারে?

ঐতিহাসিক প্রবণতা দেখলে একবাক্যে সবাই বলবে যে বিএনপি জোট এই ভোটে ব্যাপক জয়লাভ করবে, কিন্তু ইতিহাস তো পরিবর্তনশীল, আমাদের মনের মত স্থির দাঁড়িয়ে থাকে না। এর কিছু আলামত পাওয়া গেছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে। সেসব নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের জয়লাভ গণমনে নতুন ধ্যান ধারণার ইঙ্গিত দেয়। শিবির কি ওসব নির্বাচনে টাকা বা লাঠি ব্যবহার করে জয়লাভ করেছিল? না এমনটা কোথাও শুনিনি। তারা কি হিন্দু বা অন্যান্য সংখ্যালঘু বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিল; না তেমনটা শোনা যায়নি, বরং তারা সেসব অংশের প্রতিনিধিদেরও সাথে নিয়ে যাকে বলা যায় অংশগ্রহণমূলক-তেমন নির্বাচনই করেছে। তারপরেও গণমানুষের এই শিক্ষিত অংশ ১৯৭১ এর ইতিহাসে আটকে না থেকে তাদের ভোট দিয়েছে, অনেক ভাল, প্রগতিশীল দাবীদারদের, বা বড় সংগঠন এবং ছাত্রদলকে দেয়নি! এটা কী শিক্ষা দেয়? এ থেকে কি শিক্ষা নেবার কিছু আছে? নেওয়া হয়েছে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বিপরীত মেরুর জামাত-শিবিরের অবস্থা দেখে মনে হয় যে তারা কিন্তু কিছুটা হলেও শিক্ষা নিয়েছে, ঠিক আগের মত নাই। তারা সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টেছে, এবং মনে করে যে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের সব নাগরিকের ধর্ম করাসহ সব ব্যাপারে সমান অধিকার। তাই তারা পূজামণ্ডপেও ইদানিং পাহারা দেয়, অন্যরা গোলযোগ করে যেন তাদের উপরে দোষারোপ না করতে পারে।

তবে দলটি এখনো নারীদের সমান অধিকারের ব্যাপারে একমত নয়, কিন্তু তাদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার, পড়াশোনা, চাকুরিতে অংশ নেওয়ার পক্ষে। তবে এসব ব্যাপারে তাদের সব কিছু এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পরিবর্তন যে হচ্ছে এবং হবে তা পরিষ্কার। পরিবর্তন মানেই মৌলবাদ থেকে বেরিয়ে আসা।

কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষের পরিবর্তন কিন্তু অতটা পরিষ্কার নয়। বিএনপির তরুণ নেতা তারেক রহমানের বেশ কিছু কথা, কর্মসূচি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বেশিরভাগ মানুষ সে সবকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু একটা বিষয়ে সন্দেহ রয়ে যাচ্ছে, বিএনপির যে সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং যেসব পুরনো চিন্তার নেতারা রয়ে গেছেন, তারা, তাদের ছোট-নেতা, কর্মীদের চরিত্রের যে সামগ্রিক অবস্থা সেসবের পরিবর্তন না হলে তারেক রহমান বা সৎ নেতা হিসেবে পরিচিত মহাসচিব মির্জা আলমগীর পার্টির জনপ্রিয়তা কি ধরে রাখতে পারবেন? সারা দেশের নিম্নস্তরে, মাঠ পর্যায়ের গণমানুষের আস্থা, ভালবাসা কি থাকবে?

ইতিমধ্যেই চাঁদাবাজি–দখলবাজির কারণে বিএনপির তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের বদনাম হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দলের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে। ভোটের মাঠে সেটা কীভাবে উদ্ধার করবে সেটাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দেখা দিতে পারে।

এর বাইরে আছে ছোট ছোট বাম–ডান ও তরুণদের নতুন দল। এরা বুঝে নিয়েছেন যে তাদের পক্ষে এককভাবে আসন পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তারা এই দুই বড় জোটের সঙ্গী হয়েছেন, বা নিজেরা আলাদা জোট করেছেন–সেটা কতটা আদর্শগত আর কতটা কৌশলগত তা পরিষ্কার নয়! এসব ঘটনার আলামত ও মাঠ পর্যায়ের ভোটের চিত্র বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হতে পারে। কিন্তু সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১৯৯১ ও ১৯৯৬ এর মতো হলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। চরচার সঙ্গে আলাপে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের বলেছেন, একটি পক্ষ ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে বিএনপি ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতলেও এককভাবে গঠন করতে পারেনি। অন্যদের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে মাঠ পুরোপুরি বিএনপির পক্ষে। কিন্তু তারা সেই সুফল ঘরে তুলতে পারবে কি না সেই প্রশ্ন আছে। তবে শহরে তাদের প্রতিপক্ষের যেই সাংগঠনিক তৎপরতা, গ্রামাঞ্চলে তার চেয়ে অনেক কম। এটাই হয়তো বিএনপিকে সুবিধা দিতে পারে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়। দলের প্রবাসী নেতৃত্ব ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু দেশের ভেতরে নানাভাবে চাপে থাকা দলের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আদৌ সেই আহবাান সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। যেই নেতৃত্ব সাধারণ নেতা–কর্মীদের ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছেন, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও বিপদ ডেকে আনবে কেন?

সৈয়দ তারিক উজ জামান: গবেষক ও লেখক

বিষয়: জামায়াতবিএনপিতারেক রহমানত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটমতামত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন