অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সহজে থামবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়। সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও, ইরান ধীরে ধীরে তাদের প্রতিরোধক্ষমতার জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অবস্থান এই সংঘাতকে জটিল করে তুলছে। অবকাঠামো ও জনমনে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের মানসিক দৃঢ়তা এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইতিমধ্যে অনুভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে রাজনৈতিক চাপও বাড়ে। বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়লে সরকারগুলোর জন্য তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। সংকট মোকাবিলায় বিভাজন নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগই বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে ভাবতে হতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোডলারভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পরিবর্তনের আভাস দেখা যেতে পারে। তেলের বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান কাঠামো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে, সংঘাত কেবল ধ্বংস ডেকে আনে, স্থিতি নয়। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া।
বিশ্বনেতাদের উচিত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। কারণ, যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এর মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকেই। শান্তির পথই শেষ পর্যন্ত একমাত্র টেকসই পথ।
লেখক: অধ্যাপক মোঃ ফজলুল করিম, বিজিই বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সহজে থামবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়। সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও, ইরান ধীরে ধীরে তাদের প্রতিরোধক্ষমতার জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অবস্থান এই সংঘাতকে জটিল করে তুলছে। অবকাঠামো ও জনমনে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের মানসিক দৃঢ়তা এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইতিমধ্যে অনুভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে রাজনৈতিক চাপও বাড়ে। বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়লে সরকারগুলোর জন্য তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। সংকট মোকাবিলায় বিভাজন নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগই বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে ভাবতে হতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোডলারভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পরিবর্তনের আভাস দেখা যেতে পারে। তেলের বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান কাঠামো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে, সংঘাত কেবল ধ্বংস ডেকে আনে, স্থিতি নয়। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি বিশ্বকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া।
বিশ্বনেতাদের উচিত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। কারণ, যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে না পারলে এর মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকেই। শান্তির পথই শেষ পর্যন্ত একমাত্র টেকসই পথ।
লেখক: অধ্যাপক মোঃ ফজলুল করিম, বিজিই বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।

অনিরাপদ বিশ্ব নিরাপদ হবে না যতদিন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব না হয়। সেটি সম্ভব-যদি Balance of Terror প্রতিষ্ঠিত হতো। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভারতের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সমর্থনে বলেছিলেন, ‘Strength respects strength’। জানি না কতদিনে বিশ্বের এই একতরফা ক্ষমতার অবাসন হবে?