Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

বিশ্বের বর্তমান অশান্তির মূল ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ১০
বিশ্বের বর্তমান অশান্তির মূল ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা

ক’দিন আগে একটি বাংলা দৈনিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার একটি বক্তব্য ছাপানো হয়। এটি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে ভাষান্তরিত করে বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিম গোলার্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দ্য সিলভার অভিমত অতিশয় গুরত্বের দাবি রাখে। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের একচ্ছত্র ক্ষমতা বর্তমান অশান্তির মূল কারণ। নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য ১৫ জন। এর ভেতর পাঁচজন স্থায়ী, যথা- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এদের ভেটো পাওয়ার রয়েছে। অর্থাৎ এদের একজন কোনো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলে সেটি অকার্যকর হয়ে যায়।

Advertisement

মি. লুলার ভাষায় ভেটোকে ঢাল ও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে স্থায়ী সদস্যরা প্রায়ই লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা যদি আলোচ্য সমস্যার যথাযথ বিচার বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ না করে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেখানে ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ কোথায়? ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল নাসের দেশের স্বার্থে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। তখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং তাদের দোসর মিশরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এখানে উল্লেখ্য যে সুয়েজ খালের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ একটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে যার অধিকাংশ শেয়ার ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের হাতে। সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সকে সংঘর্ষ থামাতে বলে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়। তখন বস্তুত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র একদিকে, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন অপর দিকে। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবার ভেটো প্রয়োগ করেছিল। পূর্বে বলেছি যে, সদস্যরা বিবেককে কাজে না লাগিয়ে কোন মুরুব্বির নির্দেশে ভোট প্রয়োগ করলে সেখানে সংকট আসবে। ১৯৭১ সালের ৯ মাস পাকিস্তান দখলীকৃত বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালাল, তা জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যের চোখে পড়ল না। নিরাপত্তা পরিষদেরও একই অবস্থা।

যুদ্ধ নয়, দরকার সংলাপiran-usa flag

যাহোক, বিশ্বে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক ক্ষমতার একটা ভারসাম্য ছিল। পারমাণবিক শক্তির পাল্লা কার দিকে কতটা ভারী তার পরিমাপ না করতে পারলেও এটা অনুমান করা হতো যে এরকম একটি যুদ্ধের ফল হবে ভয়াবহ। কে বলেছিলেন তা মনে নেই, তবে কথাটা এরকম যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ব্লকের পতনের পর এ পাঠ চুকে গেল। রিগানের ভাষায় শয়তানের গৃহ ধ্বংস হল। পশ্চিমা নেতাদের সুখনিদ্রা ফিরে এল। কেননা নানা ধরনের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হত মারণাস্ত্র সীমিত করা নিয়ে।

মি. দ্য সিলভা বলেছেন যে, যেখানে নিয়মের কোনো বালাই নেই সেখানে বিশ্ব স্বাভাবিকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এরকম বিশ্বে যে কেউ পরবর্তী শিকার হতে পারে। দ্য সিলভা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন। ইরাক জাতিসংঘের একজন সদস্য অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে আক্রমণ করে পরাজিত করল এবং দ্য সিলভার কথার প্রতিধ্বনি করে বলতে হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। দ্বিতীয় যুদ্ধের পর বিশ্বের সামরিক ক্ষমতার পূর্ব পর্যন্ত এরকম রাজ্য দখল করার ঘটনা ঘটেনি, যা ইরাকে ঘটল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরানে বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে যে বিশ্ব এখন বসবাসের অযোগ্য। আগের রাত পর্যন্ত আলোচনা চলছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের। কোনোরকম যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। অথচ ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করল ইরানের ওপর। যুদ্ধে হাসপাতাল, বিদ্যালয় এবং সাধারণ জনবসতির উপর হামলা চালানোর কথা নয়, তারপরও চলে এবং যারা করে, তারা গলাবাজি করে না। কিন্তু ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সংবাদ সম্মেলন করে এই মানবতাবিরোধী কাজ করার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যে হটকারিতার পরিচয় দিল, তার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে দুর্লভ। প্রত্যাশা ছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ একজোটে এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করবে এবং সেই সঙ্গে তাদের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক করার কথা বলবে। উল্টো তা না করে ইরানের আক্রমণকারীদের কাছে চলে গেল। শুধু তাই নয়, ইরানের ড্রোন টেকনোলজির কৌশল আহরণের জন্য সুদূর ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তি করতে গেল। অথচ এরা মুসলিম উম্মাহ এবং ওআইসির সদস্য। তারা কি ইরানকে দ্বিতীয় গাজা বানাতে চায়?

যুক্তরাজ্য ইসরায়েলকে বসাল মধ্যপ্রাচ্যে। আজ ইসরায়েল পরিকল্পনা করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগলিক পরিবর্তন আনতে। এর জন্য ইসরায়েলের আগাম বাজেটে প্রচুর তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।

বর্তমান যে হটকারী যুদ্ধাটা শুরু করেছে, এতে কিন্তু ইউরোপের কোনো দায়িত্বপূর্ণ রাষ্ট্র নিন্দা করেনি। অতএব, বিবেকহীন সদস্য রাষ্ট্র দিয়ে কিভাবে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাউন্সি গড়ে তোলা সম্ভব? ইরানের জনজীবনকে ধ্বংস করার জন্য ভয়াবহ আক্রমণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইরান সাধ্যমত প্রতিরোধ করছে, তারপরও নিজের বিবেককে পরিষ্কার রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে। পক্ষান্তরে পাশ্চত্যের দেশ যারা বেশি মানবতার কথা বলে, তারা শুধু হরমুজ প্রণালীর কথা বলছে, মুখ খুলছেন না ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মানবতাবিরোধী যুদ্ধের ব্যাপার।

অনিরাপদ বিশ্ব নিরাপদ হবে না যতদিন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব না হয়। সেটি সম্ভব-যদি Balance of Terror প্রতিষ্ঠিত হতো। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভারতের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সমর্থনে বলেছিলেন, ‘Strength respects strength’। জানি না কতদিনে বিশ্বের এই একতরফা ক্ষমতার অবাসন হবে?

বিষয়: আন্তর্জাতিকইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন