চরচা প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলামের মেয়াদ আর কত দিন? সময় যত গড়াচ্ছে, প্রশ্নটা জোরালো হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়াতে ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন আমিনুল। ফিরেই টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান পড়ে গেছেন চাপে। একে একে পদত্যাগ করেছেন চার জন পরিচালক। অন্যদিকে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি)। পুরো পরিস্থিতি বোর্ডে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বেশ ভালো মতোই।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ভবিষ্যৎ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়েই জানান, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে কারও দিকে আঙুল তোলা না হলেও নজিরবিহীনভাবে বিসিবির পক্ষ থেকে এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এনএসসির ৫ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি রোববার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আমিনুল হকের কাছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছেন, তারা প্রতিবেদনটি আইসিসির কাছে পাঠাবেন। এরপর আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য চরচাকে জানিয়েছেন, “এই বোর্ড যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। একে একে পরিচালকদের পদত্যাগই তার প্রমাণ। আইসিসির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রক্রিয়া যাতে ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য। আইসিসি যদি আপাতত এই বোর্ডকে চালিয়ে যেতে বলে, সেটাই করা হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খেলার মানুষ, উনি এমন কিছু করবেন না যাতে ক্রিকেটের ক্ষতি হয়।”
ক্রিকেট মহলে অনেকেই অবশ্য আশঙ্কা করছেন, সরকারি হস্তক্ষেপে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে আইসিসি হয়ত বিসিবিকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তবে বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমন কিছু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ ব্যাপারে দ্য ডেইলি সান-এর ক্রীড়া সম্পাদক আতিফ আজম চরচাকে বলেছেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কী হচ্ছে, আইসিসি সে ব্যাপারে অবগত। তাই বাংলাদেশের নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা নেই। তবে আইসিসি ও বিসিসিআই এই বোর্ডকে সমর্থন করবে না। যে বোর্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে আপনাকে বিশ্বের দরবারে ছোট করল, তাদের পাশে তো থাকবে না আইসিসি। এই বোর্ড ভেঙে গেলে আইসিসি একটা এডহক কমিটি গঠন করে দেবে, যার মেয়াদ থাকবে ৯০ দিন।”

এই বোর্ডের সদস্যদের এডহক কমিটিতে থাকার গুঞ্জনে এরই মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। রোববারই দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ভয় ও লোভ দেখিয়ে বর্তমান বোর্ডের কয়েকজনকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি এই দাবিও করেছেন, আইসিসি যাতে বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ না করে, সে জন্য লবিং করছেন স্বনামধন্য একজন ক্রিকেটার। যদিও সেই ক্রিকেটার কে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা কারণে বোর্ডে রয়েছে জটিলতা। পরিচালকদের মাঝে দ্বন্দ্বের খবর এসেছে প্রায়ই। তারই প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করছেন। সবাই দেখিয়েছেন ব্যক্তিগত কারণ। তবে মাত্র চারটি বোর্ড সভায় এভাবে পদত্যাগের হিড়িক বলে দেয়, অনেক কিছুই ঠিক নেই বোর্ডের অভ্যন্তরে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করা একজন পরিচালকের তার দায়িত্বে বহাল রাখা নিয়েও বোর্ডে দ্বন্দ্ব আছে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে বিসিবির একজন কর্মকতা চরচাকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের ভাঙনের খবর, “বাইরে থেকে যতই ভালো ভালো কথা বলা হোক না কেন, বিসিবির ভেতরের খবর ভালো না। পরিচালকদের মধ্যে যারা এখনও আছেন, তাদের কয়েকজন আগে থেকেই পদত্যাগ করার চিন্তা করছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে যাই আসুক, এই বোর্ড বেশিদিন টিকবে না।”
সাম্প্রতিক বাস্তবতা তাই আভাস দিচ্ছে, আমিনুল ইসলামের বোর্ডের মেয়াদের অনেক আগেই শেষ হওয়ার পথে। বিসিবি সভাপতি শেষ পর্যন্ত একাই চেয়ারে থাকতে চাইলেও, ক্রমেই প্রতিকূল হয়ে যাচ্ছে তার আশপাশের পরিবেশ।
আমিনুল ইসলাম কী পারবেন কঠিন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলামের মেয়াদ আর কত দিন? সময় যত গড়াচ্ছে, প্রশ্নটা জোরালো হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়াতে ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন আমিনুল। ফিরেই টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান পড়ে গেছেন চাপে। একে একে পদত্যাগ করেছেন চার জন পরিচালক। অন্যদিকে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি)। পুরো পরিস্থিতি বোর্ডে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বেশ ভালো মতোই।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ভবিষ্যৎ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়েই জানান, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে কারও দিকে আঙুল তোলা না হলেও নজিরবিহীনভাবে বিসিবির পক্ষ থেকে এটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এনএসসির ৫ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি রোববার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আমিনুল হকের কাছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছেন, তারা প্রতিবেদনটি আইসিসির কাছে পাঠাবেন। এরপর আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য চরচাকে জানিয়েছেন, “এই বোর্ড যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। একে একে পরিচালকদের পদত্যাগই তার প্রমাণ। আইসিসির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রক্রিয়া যাতে ঠিক থাকে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য। আইসিসি যদি আপাতত এই বোর্ডকে চালিয়ে যেতে বলে, সেটাই করা হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খেলার মানুষ, উনি এমন কিছু করবেন না যাতে ক্রিকেটের ক্ষতি হয়।”
ক্রিকেট মহলে অনেকেই অবশ্য আশঙ্কা করছেন, সরকারি হস্তক্ষেপে বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে আইসিসি হয়ত বিসিবিকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তবে বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমন কিছু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ ব্যাপারে দ্য ডেইলি সান-এর ক্রীড়া সম্পাদক আতিফ আজম চরচাকে বলেছেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কী হচ্ছে, আইসিসি সে ব্যাপারে অবগত। তাই বাংলাদেশের নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা নেই। তবে আইসিসি ও বিসিসিআই এই বোর্ডকে সমর্থন করবে না। যে বোর্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে আপনাকে বিশ্বের দরবারে ছোট করল, তাদের পাশে তো থাকবে না আইসিসি। এই বোর্ড ভেঙে গেলে আইসিসি একটা এডহক কমিটি গঠন করে দেবে, যার মেয়াদ থাকবে ৯০ দিন।”

এই বোর্ডের সদস্যদের এডহক কমিটিতে থাকার গুঞ্জনে এরই মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। রোববারই দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ভয় ও লোভ দেখিয়ে বর্তমান বোর্ডের কয়েকজনকে পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি এই দাবিও করেছেন, আইসিসি যাতে বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ না করে, সে জন্য লবিং করছেন স্বনামধন্য একজন ক্রিকেটার। যদিও সেই ক্রিকেটার কে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা কারণে বোর্ডে রয়েছে জটিলতা। পরিচালকদের মাঝে দ্বন্দ্বের খবর এসেছে প্রায়ই। তারই প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করছেন। সবাই দেখিয়েছেন ব্যক্তিগত কারণ। তবে মাত্র চারটি বোর্ড সভায় এভাবে পদত্যাগের হিড়িক বলে দেয়, অনেক কিছুই ঠিক নেই বোর্ডের অভ্যন্তরে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করা একজন পরিচালকের তার দায়িত্বে বহাল রাখা নিয়েও বোর্ডে দ্বন্দ্ব আছে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে বিসিবির একজন কর্মকতা চরচাকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের ভাঙনের খবর, “বাইরে থেকে যতই ভালো ভালো কথা বলা হোক না কেন, বিসিবির ভেতরের খবর ভালো না। পরিচালকদের মধ্যে যারা এখনও আছেন, তাদের কয়েকজন আগে থেকেই পদত্যাগ করার চিন্তা করছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে যাই আসুক, এই বোর্ড বেশিদিন টিকবে না।”
সাম্প্রতিক বাস্তবতা তাই আভাস দিচ্ছে, আমিনুল ইসলামের বোর্ডের মেয়াদের অনেক আগেই শেষ হওয়ার পথে। বিসিবি সভাপতি শেষ পর্যন্ত একাই চেয়ারে থাকতে চাইলেও, ক্রমেই প্রতিকূল হয়ে যাচ্ছে তার আশপাশের পরিবেশ।
আমিনুল ইসলাম কী পারবেন কঠিন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে?

মোহাম্মদ আবদুস সবুর। গত মাসে অবসরে যান শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা। সবশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্নীতির অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তাকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদায়ন করতে যাচ্ছে স