
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
নভোনীল রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবার যুক্ত হলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে কাজ করবেন জনস্বাস্থ্য, সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ৪৬ বছর বয়সী আরডার্নের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ অনুষদের অধীন স্কুল অব পাবলিক হেলথে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ পদে যোগ দিয়েছেন তিনি। সাধারণত বাস্তব পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টাইমস হায়ার এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য খণ্ডকালীন ও বেতনভুক্ত এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন আরডার্ন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি কত সময় উপস্থিত থাকবেন, তা জানানো হয়নি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করবেন যেভাবে
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আরডার্ন অতিথি বক্তা হিসেবে এবং বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের পরামর্শদানের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের পাশাপাশি সিডনি পলিসি ল্যাব এবং উপাচার্যের দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত থাকবেন তিনি।
তার কাজের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি, নাগরিক আস্থা, জনস্বাস্থ্যে সমতা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্বের বিকাশ।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধারণে মানুষের কল্যাণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক বিশ্বাসকে কীভাবে গুরুত্ব দেওয়া যায়, সে বিষয়ে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মার্ক স্কট সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, আরডার্নের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা শুধু একজন সাবেক সরকারপ্রধানের অভিজ্ঞতাই জানবেন না, বরং জনসেবামূলক নেতৃত্বের বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও শেখার সুযোগ পাবেন।
নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে আরডার্ন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর তিনি নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে ভাবছেন। বিশ্বের জটিল সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কেমন নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং সেই নেতৃত্বকে কীভাবে উৎসাহিত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার একটি পরিচিত গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রশাসন এবং নীতিনির্ধারণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে একজন সাবেক সরকারপ্রধানের বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা, সামাজিক আস্থা বজায় রাখা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।
করোনা মহামারির সময় নিউজিল্যান্ড সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব বিষয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আরডার্নের বক্তৃতা বা বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে আরডার্নের নেতৃত্বের একটি ঐতিহাসিক সংযোগ
জেসিন্ডা আরডার্নের প্রধানমন্ত্রিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশেরও বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন নিহত হয়। ওই সময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে ক্রাইস্টচার্চে অবস্থান করছিল।
দলের কয়েকজন ক্রিকেটার হামলার শিকার আল নুর মসজিদের কাছে পৌঁছেছিল। অল্পের জন্য তারা হামলা থেকে রক্ষা পায়।
ঘটনার পর মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আরডার্নের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়।
হামলার পর নিউজিল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার উদ্যোগও নেয় তার সরকার।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সরাসরি বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সেই ঘটনা দেশটির মানুষের কাছেও ক্রাইস্টচার্চ হামলাকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে।

রাজনীতি থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে
২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন জেসিন্ডা আরডার্ন। তিনি ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নেতৃত্বের সময় নিউজিল্যান্ড ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং করোনা মহামারির মতো একাধিক বড় সংকটের মুখোমুখি হয়।
সরকারপ্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন আরডার্ন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তার গবেষণা ও নেতৃত্ববিষয়ক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন তিনি।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর সিডনি অপেরা হাউসে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আরডার্নের।
‘দ্য আর্ট অব ডিসঅ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক ওই আলোচনায় লেখক আনা ফান্ডারের সঙ্গে মতপার্থক্যের মধ্যেও কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে আলোচনা ও সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে কথা বলবেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষাঙ্গনে আরডার্নের এই নতুন যাত্রা আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদ্যোগ।
বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য, প্রশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য তার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নতুন চিন্তা ও আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর
মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’
‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।