ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ছাড়া আমাদের জীবনই যেন পানসে হয়ে যায়! কিন্তু আমরা সেভাবে ভেবে দেখি না যে, এসবের অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের মন ও মনন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত যে কোনো কিছুই খারাপ, যা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এমনভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকিতে না পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিদিনের স্ক্রিন টাইম কমানো। এর জন্য কিছু সহজ উপায় হলো-
স্ক্রিন টাইমের বাইরে মানুষকে আনন্দ খুঁজতে হবে। ছবি: ফ্রিপিক- ফোনের সেটিংসে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম অ্যাপগুলোর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে
- নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে হবে। ঠিক করতে হবে কোন সময়টায় কোন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হবে।
- যেসব সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট দেখে নিজের সম্পর্কে খারাপ বোধ হয়, সেগুলো আনফলো করা যায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্ক্রিন টাইমের বাইরে মানুষকে আনন্দ খুঁজতে হবে। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ডে সময় দিতে হবে। যেমন হাঁটতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো। এসব কর্মকাণ্ড শুধু আনন্দই দেবে না, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বাড়াবে। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং স্ক্রিন টাইমও কমবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। নিজের ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে এটি আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা বুঝতে হবে। ছোট ছোট পরিবর্তন, যেমন: স্ক্রিন টাইম কমানো বা নিজের অনলাইন আচরণ সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কোন সোশ্যাল একাউন্ট দেখে নিজের সম্পর্কে খারাপ বোধ হলে আনফলো বা আনফ্রেন্ড করুন। ছবি: ফ্রিপিকআর যদি কখনও মনে হয় ফেসবুক, টিকটক ইত্যাদি ব্যবহারে আপনি বা আপনার প্রিয়জন মানসিকভাবে ভুগছেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার জন্য পেশাদার সহায়তা নেওয়া একদমই স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।