ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর কবিরহাট থানার নতুন বাড়ি এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৯) এবং মাদারীপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান কাজী (১৮)।
মেহেদী হাসান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে, রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ স্ট্রোক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কারারক্ষী মো. সাহাবুল ইসলাম জানান, মাদারীপুরের শিবচর থানার উত্তর কাজীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ফারুক কাজীর ছেলে মেহেদী হাসান কারাগারে থাকা অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাহাবুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় করা একটি মামলায় বিচারাধীন বন্দী হিসেবে মেহেদী হাসান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। কারাগারে তার বন্দী নম্বর ১০৭১৮/২৬।
মেহেদীর বড় ভাই সাঈদ কাজী বলেন, তার ভাই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কামরাঙ্গীরচর থানায় দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলায় গত সাত মাস ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মেহেদী হাসানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, মেহেদী হাসানের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের দাবি জানান স্বজনেরা। এ নিয়ে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে শাহবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়ে কারারক্ষী হারুন শেখ জানান, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন রফিকুল। এরপর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হারুন শেখ বলেন, রফিকুল ইসলামের মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রফিকুল ইসলাম কোন মামলায় কারাবন্দী ছিলেন সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু বলতে পারেননি কারারক্ষী হারুন।