Advertisement Banner

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োল। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্শাল ল’ জারির চেষ্টার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারকাজে বাধা সৃষ্টি এবং ভুয়া নথি তৈরির অভিযোগে আজ শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। এটি তার বিরুদ্ধে চলমান চারটি মামলার মধ্যে প্রথমটির রায়, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

২০২৪ সালে হঠাৎ করে মার্শাল ল’ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়ার পরই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে দেশটি। সংসদ সদস্যরা জাতীয় পরিষদে জড়ো হয়ে তার সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা বলেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার পরই ইউন সুক-ইয়োল অভিযুক্ত হন।

আদালতের রায়ে বিচারক বলেন, ইউন সুক-ইয়োলের কর্মকাণ্ড দেশকে রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং তিনি এই ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনাও দেখাননি। আদালত উল্লেখ করে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংবিধান ও আইন রক্ষার যে দায়িত্ব তার ছিল, তিনি তা উপেক্ষা করেছেন।

এই মামলায় সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দেহরক্ষীদের ব্যবহার করে নিজের গ্রেপ্তার ঠেকানোর চেষ্টা, মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মার্শাল ল’ ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের ভুয়া নথি তৈরি ও পরে তা ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে।

যদিও প্রসিকিউশন এই মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল, পরে আদালত পাঁচ বছরের সাজা দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য উভয় পক্ষকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে ইউনের শতাধিক সমর্থক জড়ো হন। কেউ কেউ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দেন, আবার কেউ কেউ রায় ঘোষণার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে অনেকে নীরব ও গম্ভীর অবস্থায় ছিলেন।

ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অবৈধ এবং জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুরো মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রসিকিউশন বলছে, তার অনুশোচনার অভাবই কঠোর শাস্তির কারণ।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো রাষ্ট্রদ্রোহ বা বিদ্রোহের অভিযোগ, যেখানে প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। সেই মামলার রায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনের বিচার ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সম্পর্কিত