Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

বার্ট্রান্ড রাসেল ৯৫ বছর বয়সে কেন সিনেমা করতে রাজি হলেন?

রাসেল গৌতমকে মানবসেবার মিশনে নামার জন্য অভিবাদন জানান, আশীর্বাদ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই সংকট গোটা বিশ্বের। আমি আশা করি, তুমি এই কাজে সফল হবে। আমি তোমার চিন্তাকে সম্মান করি। তোমার কাজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রত্যাশা, সারা পৃথিবী তোমার এই দুরূহ কাজের প্রশংসা করবে।”

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৯: ০১
বার্ট্রান্ড রাসেল ৯৫ বছর বয়সে কেন সিনেমা করতে রাজি হলেন?

আচ্ছা যদি বলি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও গণিতবিদ, সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন? তাও বলিউডের সিনেমায়? হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, হিন্দি সিনেমায়। নিশ্চয় ভাবছেন গুল মারছি? না, তিনি আসলেই ১৯৬৭ সালে ৯৫ বছর বয়সে একটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।

Advertisement

১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় হিন্দি সিনেমা ‘আমান’। এই সিনেমায় কয়েক মিনিটের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল বার্ট্রান্ড রাসেলের জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্রে অভিনয়। ১৯৬৭ সালে তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তখনো তিনি আত্মজীবনী লেখার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও যুদ্ধের বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহতা তাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। তিনি হয়ে ওঠেন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার উদ্যোগেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত ‘রাসেল-আইনস্টাইন ম্যানিফেস্টো’। এই উদ্যোগই পরে যুদ্ধবিরোধী ‘পাগওয়াশ কনফারেন্স অন সায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স’কে এগিয়ে নিয়ে যায়।

রাসেলের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে এত কথা বলার কারণ, তিনি যে হিন্দি সিনেমাটিতে ক্যামিও রোল করেছেন, সেই সিনেমাটিও ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সিনেমার নাম ‘আমান’। আমান অর্থই—শান্তি। এর পরিচালক মোহন কুমার। প্রধান চরিত্র ডা. গৌতমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাজেন্দ্র কুমার। গৌতম লন্ডনে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে জাপানে যেতে চান। তার লক্ষ্য—হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি বার্ট্রান্ড রাসেলের আশীর্বাদ নিতে যান। এখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বার্ট্রান্ড রাসেল নিজেই!

Advertisement
Advertisement
Advertisement
সিনেমায় বার্ট্রান্ড রাসেলের চরিত্রে বার্ট্রান্ড রাসেল। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
সিনেমায় বার্ট্রান্ড রাসেলের চরিত্রে বার্ট্রান্ড রাসেল। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

রাসেল গৌতমকে মানবসেবার মিশনে নামার জন্য অভিবাদন জানান, আশীর্বাদ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই সংকট গোটা বিশ্বের। আমি আশা করি, তুমি এই কাজে সফল হবে। আমি তোমার চিন্তাকে সম্মান করি। তোমার কাজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রত্যাশা, সারা পৃথিবী তোমার এই দুরূহ কাজের প্রশংসা করবে।” সংক্ষিপ্ত হলেও, পুরো সিনেমার দর্শন এই একটি দৃশ্যে ফুটে উঠেছে। দৃশ্যটি লন্ডনে বার্ট্রান্ড রাসেলের বাড়িতেই ধারণ করা হয়েছিল।

প্রথম সিনেমাতেই জাতীয় পুরস্কার, ডুবে মরলেন গ্রহণের আগেইChaarcha Main CinemaNama film 2.jpg

বার্ট্রান্ড রাসেল কীভাবে এই সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি হলেন? তিনি তো আগে কখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি, করার মানুষও নন। ‘আমান’ সিনেমার মূল বিষয় ছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে মানবতার আহ্বান। হয়তো এই বার্তাকে সমর্থন করতেই তিনি ৯৫ বছর বয়সেও সিনেমাটির সঙ্গে থাকতে রাজি হয়েছিলেন।

বলিউডের মূলধারার চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আমান’ নিয়ে একদমই কথা হয় না। তবে ইতিহাসের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা। কারণ, প্রথমত এটি একটি যুদ্ধবিরোধী ছবি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দুর্লভ। আর দ্বিতীয়ত, এই সিনেমার মাধ্যমেই ব্রিটিশ দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলকে প্রথম ও শেষবার কোনো সিনেমায় দেখা গেছে।

আমান মুক্তি পেয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ চরমে। কোল্ড ওয়ার, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সিনেমাটি মানবতার পক্ষে এক শক্তিশালী বার্তা বিশ্ব মোড়লদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। বার্তাটি হলো, যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না; যুদ্ধে শুধু পরাজয় হয়—মানবসভ্যতার পরাজয়। রাসেলের উপস্থিতি সেই আবেদনকে আরো জোরাল করে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওপেন কালচার ও ব্রিটানিকা

বিষয়: অস্ত্রপরমাণু অস্ত্রসিনেমাবিশ্বযুদ্ধনোবেল পুরস্কারবলিউডসিনেমা রিভিউসাহিত্যচলচ্চিত্র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।

  • ‘ব্রেইন ফেড’ শটে মুশফিকের জায়গা আরও পোক্ত করলেন হৃদয়?

    ‘ব্রেইন ফেড’ শটে মুশফিকের জায়গা আরও পোক্ত করলেন হৃদয়?

    ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ‘ব্রেইন ফেড’ খুবই পরিচিত একটি শব্দ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে যারা সম্যক পরিচিত, তাদের কাছে ২০১৯ বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিমের সেই রানআউট মিস ছিল তেমনই এক ঘটনা।