Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

গাজায় কি সত্যিই নতুন ইহুদি বসতি গড়তে পারে ইসরায়েল?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬: ০৪
গাজায় কি সত্যিই নতুন ইহুদি বসতি গড়তে পারে ইসরায়েল?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকার অবশিষ্ট অংশে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

Advertisement

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত সোমবার স্মোট্রিচ সাংবাদিকদের জানান, তার মন্ত্রণালয় উত্তর গাজায় তিনটি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুমোদনের অপেক্ষা।

পরদিন নেতানিয়াহু ডানপন্থী এক টেলিভিশন চ্যানেলে (চ্যানেল ১৪) এক সাক্ষাৎকারে গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রশ্ন হলো, আপনি কাজ করতে চান, নাকি শুধু কথা বলতে চান। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য না করতেই পছন্দ করছি।”

গাজায় গণহত্যা: ইসরায়েল কত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে?Gaza

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বসতির বৈধতা

বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের যে বসতিগুলো রয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।

গাজায় ভবিষ্যতে বসতি স্থাপনের সম্ভাবনার পাশাপাশি নেতানিয়াহু সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় স্থানান্তরের’ কথাও বলেছেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনের বহু বিশেষজ্ঞ এই ধারণাকে জাতিগত নির্মূল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে গাজার যুদ্ধে ইসরায়েল ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, গাজায় বেঁচে থাকা মানুষের ওপর পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে বা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছে?

বাস্তবে গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা ও ২১টি বসতি প্রত্যাহার করে। এরপর থেকে সেখানে আর কোনো ইসরায়েলি বসতি নেই।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ছবি: রয়টার্স

বর্তমানে উত্তর গাজার বিশাল এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বসতি-সমর্থকেরা এই এলাকাকে ভবিষ্যৎ বসতি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন।

নির্বাচনের রাজনীতি

ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে থাকায় স্মোট্রিচ ও নেতানিয়াহুর মতো রাজনীতিকদের জন্য গাজায় বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নেভে গর্ডন বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের জনপরিসরে চরমপন্থী বক্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, ইসরায়েলের অনেক মানুষ গাজায় প্রকৃত ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পান না।

তিনি বলেন, “স্মোট্রিচের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের পক্ষে ইসরায়েলের রাজনীতির একটি বড় অংশে ধারাবাহিক চাপ রয়েছে।”

না, গাজায় কোনো যুদ্ধবিরতি নেইgaza

দীর্ঘদিনের লক্ষ্য

২০০৫ সালে গাজা থেকে প্রত্যাহারের পর থেকেই কট্টরপন্থী ধর্মীয় ইসরায়েলিরা সেখানে পুনরায় বসতি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

চরমপন্থী বসতি-সমর্থক সংগঠন নাহালা যুদ্ধ চলাকালেই ‘বসতি নিরাপত্তা ও বিজয় নিশ্চিত করে’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে স্মোট্রিচসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও স্মোট্রিচের দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম জনমত জরিপে প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। ফলে গাজা ইস্যু সামনে এনে তিনি ডানপন্থী ভোট আরও সংহত করার চেষ্টা করতে পারেন।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানও জটিল।

তিনি বর্তমানে একাধিক দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি। একই সঙ্গে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত না করার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গের মতে, নির্বাচনের আগে নিজেকে আরও দৃঢ় ডানপন্থী নেতা হিসেবে তুলে ধরতে নেতানিয়াহু গাজায় বসতি স্থাপনের ইঙ্গিত ব্যবহার করতে পারেন।

তার মতে, বর্তমানে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা খুবই সীমিত।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কি যথেষ্ট হবে?

গাজায় বসতি স্থাপন করলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে—সেটিও বড় প্রশ্ন।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইসরায়েলকে অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার সুযোগ দেয়।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (ইসিএফআর) গবেষক হিউ লাভাট বলেন, ২০২৩ সালের পর পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা হয়েছে, বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ ছিল খুবই সীমিত।

তার মতে, গাজায় একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কতটা কঠোর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

তবে তিনি মনে করেন, গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের চেষ্টা হলে ইউরোপীয় দেশগুলো আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

গাজায় নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের কিছু নেতার প্রকাশ্য বক্তব্য এ ধরনের পরিকল্পনার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

এ কারণে বিষয়টি এখনো মূলত রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। এটি বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।

বিষয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুপ্রধানমন্ত্রীইহুদিজেরুজালেমগাজা উপত্যকাযুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ