
সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পেট্রোল পাম্পে অযথা ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি এবং সরবরাহও কমানো হয়নি। ফলে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকার ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের টানা দুটি তেল সংকটের চেয়েও খারাপ। ওই সময় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর গ্যাসের বাজারে যে ধস নেমেছিল, বর্তমান অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ।

কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ইরান ফের হামলা চালায়, তবে দেশটির পুরো ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র ‘বিশাল বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

এলএনজি ব্যবস্থার বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ব্যয়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী আমদানি করা এলএনজির দাম দেশীয় গ্যাসের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩.৫-৪ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার জন্য বছরে প্রায় ২-৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয় বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার

এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।

দ্বিগুনের বেশি দামে মার্চ মাসের জন্য বাংলাদেশ দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। ফলে চলতি মাসের জন্য এলএনজির কোনো ঘাটতি হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করার পর প্রথমবারের মতো একটি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আজ থেকেই দেশে গ্যাস রেশনিং (সাশ্রয়) শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোবাংলা।

ড্রোন হামলার জেরে কাতার এনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে দেশটির জ্বালানি কোম্পানিগুলো।

আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করে বলেন, "যদি কাতার থেকে সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম পার মেগাওয়াট আওয়ারে ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।"

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

আপাতত সরবরাহ নিশ্চিত থাকলেও আর্থিক ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বিমার প্রিমিয়াম বেড়ে গেলে এই খরচ আরও বাড়বে।

আপাতত সরবরাহ নিশ্চিত থাকলেও আর্থিক ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বিমার প্রিমিয়াম বেড়ে গেলে এই খরচ আরও বাড়বে।