Advertisement Banner

চড়া দামে দুই কার্গো এলএনজি কিনল সরকার

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
চড়া দামে দুই কার্গো এলএনজি কিনল সরকার
ছবি: রয়টার্স

দ্বিগুনের বেশি দামে মার্চ মাসের জন্য বাংলাদেশ দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। ফলে চলতি মাসের জন্য এলএনজির কোনো ঘাটতি হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। চরচাকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি কিনেছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গানভোর থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৮ দশমিক ২৮ ডলার দরে একটি চালান কেনা হয়েছে, যা আগামী ১৫-১৬ মার্চের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া ভিটোল থেকে ২৩ দশমিক ০৮ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ দরে অন্য একটি চালান কেনা হয়েছে, যা ১৮-১৯ মার্চের মধ্যে দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বছরের শুরুতে কেনা এলএনজির তুলনায় বর্তমান মূল্য কয়েক গুণ বেশি। জানুয়ারিতেও বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ মাত্র ১০ ডলারের আশপাশে এলএনজি কিনতে পেরেছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ১০ ডলার থেকে দাম বেড়ে প্রায় ২৯ ডলারে পৌঁছানোয় দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে চুক্তিবদ্ধ এলএনজি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পেতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই কাতার এনার্জির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে পেট্রোবাংলা। তবে, কোম্পানিটি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি। এমনকি, চালান বাতিলের বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু না বলায় বিপাকে পড়ে পেট্রোবাংলা।

অবশেষে, কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহ স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করলে দুই দফা চেষ্টায় স্পট থেকে এলএনজি কেনে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনা ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না বলেও জানান জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী চরচাকে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস সন্ধানের চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের বর্তমান চড়া দাম অবশ্যই দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

আন্তর্জাতিক বাজারে এভাবে দাম বাড়তে থাকলে দেশের বাজারে দাম বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম জানান, সরকার দেশের জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়াতে চায় না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

জ্বালানি খাতের এই অস্থিতিশীলতা ইতিমধ্যে দেশের শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সার কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে সারের ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে সার কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ কমিয়ে গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে।

সম্পর্কিত