Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

পান্তা ইলিশে বাঙালিয়ানার আত্মার উদযাপন

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ০০
পান্তা ইলিশে বাঙালিয়ানার আত্মার উদযাপন

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠছিল, একদম লাল টুকটুকে, যেন আগুনের ছোট্ট চাঁদ। আকাশ মেঘমুক্ত, কুয়াশাহীন–এমন ভোরের সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য খুব কমই হয়েছে আমার। বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে, সেই নতুন দিনের আলোয় মনে হচ্ছিল রমনার বটমূলে থাকা স্বজনেরা হাসিমাখা চোখে দেখছে আমাকে। গান গাইছিলাম, ‘এসো হে বৈশাখ’, কিন্তু অন্তরে বাজছিল অন্য এক সুর–বিদেশের পথে যাত্রার ব্যথা, ফ্লাইটের সঙ্গে মিলিত বুকের আর্তনাদ। সেই আর্তনাদ, আর কখনো আগের নববর্ষের মতো ফিরে যায়নি। দিনপঞ্জি তো আর পেছনে যায় না।

Advertisement

আমেরিকা পৌঁছে, প্রথম কয়েক দিন মনটা যেন আনচান করে। তখনো হাতে মোবাইল বা ইন্টারনেট নেই। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হিলসাইডের ১৫০ নম্বর স্ট্রিটের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসে আমি স্বদেশের খোঁজ নিই। মা পাশে বসে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, “মন এত খারাপ কেন?”

“পান্তা ভাত আর ইলিশের জন্য”–বলতেই মা হাসলেন। মনে হলো, তিনি বুঝলেন–আমি কোনো মেয়ের জন্য নয়, বরং স্বদেশের জন্য মন খারাপ করছি। মা তখনই সমাধানের খোঁজে ব্যস্ত হলেন। বললেন, “এখানে আমরা চেষ্টা করি। ঠান্ডা ভাত আছে, ভিজিয়ে পান্তা ভাত করব। ইলিশ মাছও চেষ্টা করে দেখি।”

এরপর গল্পও জুড়ে দিলেন, “তোমরা এখন যেভাবে ঘটা করে বাংলা নববর্ষ পালন কর, আমাদের সময় তা ছিল হালখাতার দিন। মনে আছে তোমার বাবা জীবিত থাকলে কত লোক তখন নাড়ু-মিঠাই নিয়ে আসত!” মায়ের চোখে-মুখে তখন স্মৃতির ঝিলিক ফুটে উঠেছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা উৎসব। ফাইল ছবি
লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা উৎসব। ফাইল ছবি

জ্যাকেট জড়িয়ে মা বেরিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন, সাটপিন বুলেভার্দের চাইনিজ দোকান থেকে মাছ নিয়ে। বললেন, “এটাই এখানে ইলিশের মতো স্বাদ।” আমেরিকায় সেই প্রথম পান্তা-ইলিশ খাওয়া। স্বাদ ছিল তাজা, অথচ মনে হচ্ছিল স্বদেশের মাটির রূপ, স্বাদের ছোঁয়া। মা টের পেলেন। বললেন, “আমরা সিলেটের মানুষ স্বাভাবিকভাবে পান্তাভাত খাই না, কিন্তু এটিই আমাদের বাঙালিয়ানা।”

নববর্ষের ভেতর-বাহিরMangal Shobhajatra

তারপর ধীরে ধীরে জানতে পারলাম–তখনকার অল্প কয়েকজন বাঙালি প্রবাসীই এই সংস্কৃতিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। নার্গিস আহমেদ নামের এক প্রবাসী, বাংলা নাটকের দল ‘ড্রামা সার্কেল’-এর সঙ্গে মিলিয়ে ছোট আয়োজনের মাধ্যমে নববর্ষ পালন শুরু করেছিলেন। শাড়ি, চুড়ি, ঘুঙুর, লাল-সবুজের উজ্জ্বলতা–সেই সব পদক্ষেপ বিদেশিদেরও মুগ্ধ করেছিল। নার্গিস আহমেদ আমাকে শোনালেন, কীভাবে কয়েকজন প্রবাসীর হাত ধরে নিউইয়র্কে পয়লা বৈশাখের রূপ তৈরি হয়। দিনগুলোকে পেছনে ফেলে সেই অল্পসংখ্যক উদ্যোগ আজ প্রায় এক দশক ধরে নিউইয়র্কের কুইন্স, ব্রংক্স, ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনে বড় আকারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। সেই সময় থেকে মার্কিন কংগ্রেসম্যানসহ মূলধারার লোকজনও বাংলা নববর্ষের সঙ্গে পরিচিত হন এবং অংশ নিতে থাকেন।

পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। ফাইল ছবি
পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। ফাইল ছবি

পয়লা বৈশাখ এখন শুধু দিন নয়, বাঙালির আত্মার উৎসব। নতুন প্রজন্ম দেশি পোশাক, শাড়ি, ঘুঙুর পরে আনন্দধ্বনির মধ্যে গান গায়–এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও বার্তা দেন, স্বীকৃতি দেন, এবং দেশ থেকে দূরে জন্ম নেওয়া বাঙালিরা নিজেদের সংস্কৃতিকে আবারও আবিষ্কার করে।

উত্তর আমেরিকায় এখন শুধু চীনা নববর্ষ, জাপানি নববর্ষ (Shōgatsu), কোরিয়ান নববর্ষ (Seollal), ইরানীয় নববর্ষ (Nowruz), হিব্রু নববর্ষ (Rosh Hashanah), ইসলামি নববর্ষ (Muharram), থাই নববর্ষ (Songkran) ও পশ্চিমী নববর্ষ (Gregorian New Year) উদ্‌যাপন হয়। কিন্তু বাংলার নববর্ষ–পয়লা বৈশাখ সবচেয়ে বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়। নিউইয়র্কের টাইম স্কোয়ারও জেগে ওঠে বৈশাখের আহ্বানে, ঢাক-ঢোল, বাঙালিয়ানার আনন্দে, মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

প্রায় এক দশক আগে, মা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমরা সবাই মায়ের পাশে জড়ো হয়েছিলাম। বাংলা টিভিতে চলছিল পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান। প্রবাসে জন্মানো নাতি-নাতনিসহ আমরা ঘরোয়াভাবে শেষবার বৈশাখ পালন করি। মা তখন বলেছিলেন, “যেখানেই থাক, দেশ ও সংস্কৃতিকে ধারণ করবে।”

আজ মা নেই, কিন্তু দেশ তো আছে। এবং সেই দেশের প্রতি অনুরাগ, সেই স্মৃতি–এখনো আমার শ্বাসে, রক্তে–যা প্রতিটি বৈশাখে বাজে। দেশ যত দূরে হোক–আমাদের হৃদয়ে বাঙালিয়ানা চিরকাল বিরাজমান।

বিষয়: উৎসববৈশাখ চরচাবাঙালিবৈশাখ চরচা ১৪৩৩সংস্কৃতিনববর্ষউত্তর আমেরিকাপয়লা বৈশাখ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন