Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

পয়লা বৈশাখে পোলাও-বিরিয়ানিও খান

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ০৩
পয়লা বৈশাখে পোলাও-বিরিয়ানিও খান

পয়লা বৈশাখের দিন পান্তা না খেলে অনেকেরই মনে হয় তিনি বোধহয় আর বাঙালি নন। বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছটাও কিনতে হয়। তা সে যত দামই হোক। তবে ইলিশ তো মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্ত এখন নানা রকম ভর্তা দিয়ে ইলিশ খায়। তেলাপিয়া, রুই মাছ ভাজা দিয়েও খায়। ফেসবুকে ইলিশ নিয়ে বেশ জ্ঞানী জ্ঞানী কথাও লেখে। ইলিশ সংরক্ষণ নিয়েও তার ওই সময় বেশ সচেতনতা তৈরি হয়। দাম কম হলে কী হতো, সেটা আপাতত থাক! তবে বৈশাখে পান্তা তার খেতেই হয়।

Advertisement

ঠিক কবে থেকে বাঙালির পাতে পান্তা পড়েছে, তার হদিশ পাওয়া যায় না। ধান হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের এই উপমহাদেশে আছে। তার মানে ভাতও আছে। ভাত যেহেতু আছে, তাহলে পান্তাও আছে বহুকাল ধরে। তবে লিখিতভাবে পান্তার কথা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম প্রধান কাব্য চণ্ডীমঙ্গলে পাওয়া যায়। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ‘কালকেতুর ভোজন’-এ লিখেছেন, “মোচড়িয়া গোঁফ দুটা বান্ধিলেন ঘাড়ে/এক শ্বাসে সাত হাড়ি আমানি উজাড়ে/চারি হাড়ি মহাবীর খায় খুদ জাউ/ছয় হান্ডি মুসুরি সুপ মিশ্যা তথি লাউ।” এখানে যে ‘আমানি’-এর কথা বলা হলো, সেটা হলো পান্তার জল। চৈত্র সংক্রান্তির শেষ বেলায় হাঁড়িতে অপরিপক্ক আতপ চাল ছড়িয়ে কচি আমপাতার ডাল বসিয়ে দেওয়া হতো। নতুন বছরের প্রথম দিন সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে আমপাতা সহযোগে সেই পানি উঠোন ও ঘরে ছড়িয়ে দেন গৃহিনী। এরপর সেই ভেজানো চাল পরিবারের সবাইকে খেতে দেওয়া হয়। এই লোকাচার কৃষক সমাজে প্রচলিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত লিখেছেন “আনিয়া মানের পাত বাড়ি দিল পান্তাভাত”। ‘মান’ বলতে এখানে মানকচুর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মানকচুর পাতায় করে পান্তা ভাত বেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। ছবি: চরচা
ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। ছবি: চরচা

নববর্ষের এখনকার যে উদ্‌যাপন সেটা মূলত নগরকেন্দ্রিক। নাগরিক মনে করেন একটা দিন আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিতে স্নান করে সে আরো বাঙালি হয়ে উঠবে। পরদিন আবার আগের মতো হয়ে যাবে। বাসি খাবার যা থাকে, বাড়ির কাজের লোককে দিয়ে দেবে। বাংলা নববর্ষ উৎসবের দুটি দিক আছে। প্রথমটি বহু দিনের ধারাবাহিকভাবে চলে আসা সামাজিক বিভিন্ন রীতি। আরেকটি ছয়ের দশকে পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। রমনা বটমূলকে ঘিরে শুরু হলেও বর্তমানে যার বিকশিত রূপ সারা বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। পয়লা বৈশাখের নাগরিক উদ্‌যাপনে পান্তার প্রবেশ খুব বেশি দিন নয়। যতটুকু জানা যায়, আটের দশকে রমনাকে কেন্দ্র করে নববর্ষে কিছু খাবারের দোকান বসে। যারা ছায়ানটের অনুষ্ঠান দেখতে যেতেন, তারা সেখানে খেয়ে নিতেন। এমনই একবার অল্প কয়েকজন মিলে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা বিক্রি করলেন। সব বিক্রিও হয়ে যায়। সেই থেকে অনেকের মধ্যে এই পান্তা-ইলিশের ব্যাপারে ভাবনার শুরু হয়। তারপর ব্যবসা। লাভও হতে শুরু করল দেদার। যেখানে লাভ, সেখানে পুঁজি তার লকলকে জিভ নিয়ে ভোউ ভোউ করবে না–তা তো হয় না।

চারুকলার বর্ণিল শোভাযাত্রায় বৈশাখ বরণMangal Sovajatra

ছোট্ট জেলা শহরে আমাদের বাড়িতে পয়লা বৈশাখের দিন মাংস পোলাও রান্না হতো। আমার আম্মার যুক্তি ছিল–বছরের একটি উল্লেখযোগ্য দিন ‘ভালো কিছু’ খেতে হয়। এই ‘ভালো কিছু’ মানেই আমাদের বাড়িতে পোলাও-মাংস। পান্তা পয়লা বৈশাখে আমরা খাইনি কোনোদিন। বরং অন্য সময় মাঝে মাঝেই খাওয়া হতো। কখনো ডিম ভাজা দিয়ে কখনো বা শুধু পেঁয়াজ আর পোড়া মরিচ দিয়ে। পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে পান্তা যেদিন হতো, সেদিন চটকে চটকে আম্মা মেখে দিতেন। ডিমের জায়গায় পেঁয়াজ-মরিচ দেখে খুব যে একটা ভালো লাগত, এমন নয়। তবে সেই বিষাদের সঙ্গে স্বাদটাও কম ছিল না। উৎপলা সেনের গাওয়া ‘পথের ধারে মুক্তো আমি ছড়িয়ে দিলাম’ গানে মুখরায় প্রথম লাইন শেষ হওয়ার সাথে অ্যাকোর্ডিয়ানের যে ব্যবহার সুধীন দাশগুপ্ত করেছেন, সেটা যে রকম সুখ দেয়, ঠিক ও রকম একটা সুখ বোধহয় ও সময় পেতাম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পয়লা বৈশাখের আজকালের যে আয়োজন, অর্থাৎ নাগরিক আয়োজন সেখানে পান্তা গুরুত্ব পেলেও পোলাও-মাংস, বিরিয়ানি কেন গুরুত্ব পায় না? এটাও তো বাঙালির খাবার। অবাক হওয়ার কিছু নেই। অনেকেই বলবেন, এসব খাবার কবে বাঙালির হলো! হয়েছে, অন্তত ৩০০ বছর ধরে বাঙালি পোলাও-মাংস খাচ্ছে। এই বাংলাদেশের রাজধানীতে পোলাও-বিরিয়ানি অন্তত ৩০০ বছর ধরে নাগরিক সংস্কৃতির অংশ। এখানে নাগরিক বলতে একসময়কার ধনীদের বোঝানো হচ্ছে। এখনো ইলিশ ধনীদের খাবার। যদি ধরেও নিই পোলাও, বিরিয়ানি মোগলদের থেকে আসা (সেটা নিয়ে বিস্তার আলোচনার দাবি রাখে) তবুও রাজধানী হিসেবে ঢাকার বয়স তো ৪০০ বছরের। আর মোগলরাই ঢাকাকে রাজধানী করেছিল। আমাদের এই উপমহাদেশে বিরিয়ানি সদৃশ খাবার খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দেও পাওয়া যেত। নাম ছিল ‘উন সরু’। সেটাও যদি ধরি, তাহলে আর কথাই থাকে না। আমাদের তামাম উপমহাদেশের অনেক কিছুই বিভিন্নভাবে সংযুক্ত। থাক, ওদিকে আলোচনা না হোক আজ। বরং চলুন একটু দেখি, বিরিয়ানি-পোলাও কীভাবে বাঙালির খাবার হয়ে উঠল।

ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। ছবি: চরচা
ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। ছবি: চরচা

বিরিয়ানির ইতিহাস ঢাকায় খুব বেশি দিনের নয়। ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। নানারকম পোলাও। দুটো দোহাই দেওয়া যাক। প্রথমেই হেকিম হাবিবুর রহমান, যিনি সাতচল্লিশপূর্ব ঢাকার নাগরিক জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রদের একজন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ইতিহাস নিয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘ঢাকা পাচাস বারাস পেহলে’ তারই রচনা। হেকিম সাহেব তার ওই বইতে পোলাও নিয়ে বেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে। নানা রকম পোলাওয়ের কথা বলেছেন। যেমন, খাচ্ছা পোলাও (মোরগ পোলাও), বুন্দিয়া পোলাও, ইলিশ পোলাও, রুই পোলাও, তেহারি (এটাকেও হাকিম সাহেব পোলাও বলছেন এবং বলেছেন তেহারি রাস্তায় বিক্রি হতো)। ঘরোয়া খাবারে পরিবেশন হয় কিন্তু দাওয়াতে দেওয়া হয় না। আর ছিল শেবেত বা সোইয়া পোলাও, মজমুয়া পোলাও, মাগলুবা পোলাও (খাসির চর্বি ছাড়া মাংস দিয়ে রান্না হতো), নার্গিসি পোলাও। তিনি বায়দা পোলাও বা খাসি পোলাও বলে আরেক বস্তুর কথাও বলেছেন। হেকিম সাহেব ‘দোগোশা’ আর ‘কোরামা পোলাও’কে বিরিয়ানি বলেছেন এবং ‘জের বিরিয়ানি’ বলে এক বিলুপ্ত পদের নাম করেছেন।

লন্ডনের বুকে বৈশাখের রংBoishakh

এই যে নানারকম পোলাও, যা মাংস সহযোগে রান্না হতো–হেকিম সাহেবের লেখা পড়ে অনেকেই হয়তো বিভ্রান্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। এবং নিজেরা পরে সেই পোলাওকে বিরিয়ানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হেকিম সাহেব তার বইতে যে সময়ের বিবরণ দিয়েছেন, সেটা ১৯ শতকের শেষার্ধ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধ। পরের দিকের তথ্যও কিন্তু বলছে যে, দেশভাগের আগে ঢাকায় পোলাওয়ের চলই বেশি ছিল। শিল্প তত্ত্বজ্ঞ প্রফেসর শাহেদ সোহরাওয়ার্দির দোহাই দিই। পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দির বড় ভাই। ত্রিশের দশকে তিনি রন্ধন শিল্প নিয়ে ইংরেজিতে একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন। শাহেদ তার বইতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্নার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন ঢাকার মোরগ-পোলাওয়ের। তিনি লিখেছেন–ঢাকার মোরগ-পোলাওয়ের স্বাদ লিখে তুলে ধরা যায় না। এটি একটি অভিজ্ঞতা, যা অর্জন করতে হয়। অর্থাৎ, পোলাও (বা বিরিয়ানি) ঢাকার অনুপম একটি খাবার।

এই পোলাও যে গরীব সাধারণ মানুষ খেত, তা হয়তো নয়। কিন্তু নানা উপলক্ষে মধ্যবিত্ত ও ধনীরা তো খেতই। আর মানুষ যেটা বেশি খায়, সেটা ইতিহাসের নানা বাঁকে দেখা দেবে সেটা স্বাভাবিক। সেই পোলাও বা বিরিয়ানি নানা উৎসবে মানুষ খাচ্ছে। ছুটির দিনে খাচ্ছে। যেকোনো আয়োজনে খাচ্ছে। মাছ সহযোগে পোলাও খাচ্ছে। এই ঢাকা শহরেই একসময় রইস ঘরে নিয়মিত ইলিশ-পোলাও, রুই-পোলাও রান্না হতো। হওয়াটাই স্বাভাবিক। নদীর পারে গড়ে ওঠা শহরে মাছ তো থাকবেই। আর মাছে-ভাতে বাঙালি প্রবাদ তো আছেই।

1000049322.jpg

ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। এখন কতটা সস্তা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যেতে পারে। একসময় রাস্তার পাশে তেহারির দোকানে অনেক রিকশা শ্রমিককে দেখা যেত। এখন তারা খুব একটা সেখানে বসেন না। বরং ভ্যানে বিক্রি হওয়া তেহারির দোকানে তাদের ভিড় বেশি। ওখানে দামটা যে কম! এই তেহারি যে আদতে পোলাও, সেটা হেকিম সাহেব বলেছেন। তার রন্ধনপ্রণালীও পোলাওয়ের মতো। যারা একে বিরিয়ানি বলে, তারা না জেনে বলেন। আগেই বলা হয়েছে, তেহারি রাস্তায় বিক্রি করা হতো। তার মানে হলো এর প্রচলন ভালোভাবেই ছিল।

নববর্ষের ভেতর-বাহিরMangal Shobhajatra

এই যে বিরিয়ানি বা পোলাও মানুষ খাচ্ছে, সেই ঢাকাই বিরিয়ানি বা পোলাওয়ের সঙ্গে কী কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, লখনৌ-এর মিল আছে? দক্ষিণ ভারতের নানা বিরিয়ানি-পোলাওয়ের সঙ্গে মিল আছে? সহজ উত্তর, ‘না’। ঢাকা শহরের পোলাও-বিরিয়ানি দিনে দিনে বাঙালি হয়ে উঠেছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও তাই বলা যায়। বিশেষ করে ওখানকার ব্যারাকপুর স্টাইল বিরিয়ানি দেখে এটা মনে হয়েছে। এই বাঙালি হওয়াটা অনেক দিনের চর্চার ফল। ঠিক যেমন অন্য অনেক জায়গায় অনেক খাবার, আচার বাঙালির রীতি হয়েছে, তেমনই। ধরুন, কলকাতায় যদি কোনো বড় হোটেলে আপনি বিরিয়ানি খান, তবে মুখে খুব একটা ঝাল লাগবে না, যেটুকু পাওয়া যাবে সেটা গোলমরিচের একটা হালকা ঝাঁজ। দিল্লিতেও না। অথচ এই ঢাকা শহরে অনেক দোকান আছে, যেখানে বিরিয়ানিতে ঝালটা বেশ প্রাধান্য পায়। সেটা কতটা উচিত, সেই প্রশ্ন উহ্যই থাকুক। কিন্তু মানুষ খাচ্ছে বলেই ও রকম বানানো হচ্ছে। ঢাকাই কাচ্চি বিরিয়ানির আসল যে রেসিপি, সেখানে ঝাল দেওয়া হয় না। যে ঝাল ঝাল ঝাঁজ লাগে, সেটা গোলমরিচ আর লবঙ্গের। ওটাকে ঝাল বলা যাবে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। যারা ঢাকাই কাচ্চিতে গুঁড়া মরিচ বা কাঁচা মরিচ দেয়, তারা আসল রেসিপি হয় জানে না কিংবা জনরুচির কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন।

সেটাই হয়তো স্বাভাবিক। জনরুচি বড্ড গোলমেলে ব্যাপার। কথা হচ্ছে, মানুষ প্রতিদিন যেমন খাবার পছন্দ করে উৎসব বা বিশেষ আয়োজনের খাবারও তেমন করে নিয়েছে। তার নিজের স্বাদকোরক অনুযায়ী সে সবকিছু ‘কাস্টমাইজ’ করেছে। পয়লা বৈশাখের পান্তাও কিন্তু কাস্টমাইজড। কারণ, শহরের অনেক জায়গায় গরম পান্তা পাওয়া যায়। চিনিগুঁড়া বা কালোজিরা চালের পান্তা পাওয়া যায়। ‘কাস্টমাইজড’ পান্তা। তিন কোটিরও বেশি মানুষের শহরে বলতে গেলে মোড়ে মোড়ে পোলাও-বিরিয়ানি-তেহারির দোকান পাওয়া যায়। সব দোকানেই বিক্রি হয় নিশ্চয়। না হলে দোকান চলত না। অর্থাৎ, মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে এসব খাবার খাচ্ছে। যেটা দৈনন্দিনতায় ঢুকেছে, তার চরিত্র আর অন্য জাতের থাকে না। সেটা বাঙালিরই খাবার। তাই যারা পান্তা খাচ্ছে, খাক। সেইসাথে পয়লা বৈশাখের দিন পোলাও-বিরিয়ানিও খাওয়া চলুক। কারণ, ওটাও বাঙালির। অন্য জাতির তো বটেই।

বিষয়: বাংলা নববর্ষখাবারবৈশাখ চরচাখাবারদাবারবৈশাখ চরচা ১৪৩৩নববর্ষ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন