
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
চরচা প্রবাস ডেস্ক

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অর্থবহ ও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার একটি ‘বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি’ করা উচিত বলে আজ বুধবার জানিয়েছে মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন) ও ফোর্টিফাই রাইটস।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া বিভিন্ন সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল। তারপরও শ্রমিকরা অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, ঋণের ফাঁদ, মজুরি আত্মসাৎ, পাসপোর্ট জব্দ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফোর্টিফাই রাইটস বলেছে, বাধ্যতামূলক নয় এমন এমওইউয়ের পরিবর্তে একটি দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তিতে দুই সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এতে শ্রমিকদের সুরক্ষার বিধানগুলো বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
যেকোনো দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তিতে অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, ঋণের ফাঁদ, মজুরি আত্মসাৎ, পাসপোর্ট জব্দ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অন্য নির্যাতন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্কের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিবাসী শ্রমিকেরা প্রতি বছর তাদের পরিবারের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছে। কিন্তু তাদের অনেকেই এখনো শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অতীতে শ্রমিকদের যেসব নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে, সেগুলো যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করার পরই নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা উচিত।”
ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসী শ্রমিক যাওয়া পুনরায় শুরুর আগে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অধিকার লঙ্ঘিত হলে শ্রমিকেরা যাতে কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পান, তা দুই সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।”
২০২৪ সালে মালয়েশিয়া বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন অভিবাসী শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয়।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় অন্তত তিনটি উচ্চপর্যায়ের সফর হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুন মাসের সরকারি সফরও রয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি এমওইউ সই করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এর মাধ্যমে ২০০৩, ২০১২ ও ২০১৬ সালে সই হওয়া আগের এমওইউগুলো প্রতিস্থাপিত হয়। শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই চুক্তিগুলো বারবার স্থগিত করা হয়েছিল।
২০২১ সালের চুক্তিতে নিয়োগকর্তাদের বিমানভাড়া, অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয়, আবাসন এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিমার খরচ বহনের বাধ্যবাধকতা ছিল বলে জানা যায়। এ ছাড়া, শ্রমিকদের সপ্তাহে এক দিন ছুটি এবং দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য ওভারটাইমের অর্থ দেওয়ার বিধান ছিল। কর্মক্ষেত্রে আহত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী বার্ষিক ছুটির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে আহত হওয়া বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও অন্য সুবিধার ব্যবস্থাও ওই চুক্তিতে ছিল।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি রয়েছে। এর ফলে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় উৎস।
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকেরা সাধারণত নির্মাণ, উৎপাদন ও বাগানশিল্পসহ শ্রমঘন ও ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন খাতে কাজ করে।
অভিবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ২ হাজার ৯৩৩ কোটি আমেরিকান ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
২০২৬ সালের এপ্রিলে অভিবাসী শ্রমিকসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা দেশে ৩১৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।
ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি বলেন, “আগের এমওইউগুলো শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছে, যার ফলে সেগুলো বারবার স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ এমওইউ নয়, বরং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক একটি দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়।”
সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর
মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’
‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।