গরমের সময় হোক বা শীতের দিন- ব্যস্ত রুটিন, ঘাম এবং এর দুর্গন্ধ রোধ করতে ডিওডোরেন্ট এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু একটি প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে- ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহারের সঠিক সময় কোনটি? সকালের শুরুতে নাকি রাতে ঘুমানোর আগে? সাম্প্রতিক গবেষণা এই প্রশ্নের জবাব কিছুটা বদলে দিয়েছে।
দিনে ব্যবহারের প্রচলিত ধারণা
বেশির ভাগ মানুষই সকালে গোসল শেষে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। কারণ দিনের শুরুতে সতেজ গন্ধ ও ঘাম নিয়ন্ত্রণে থাকার প্রয়োজনীয়তা বেশি। কর্মস্থল, কলেজ বা বাইরে বের হওয়ার সময় ডিওডোরেন্ট অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাসের অংশ। দিনের বেলা শরীর বেশি ঘামে, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ব্যস্ততায়। ফলে অনেকে মনে করেন দিনে ব্যবহার করলেই কাজ বেশি হবে।
কর্মস্থল, কলেজ বা বাইরে বের হওয়ার সময় ডিওডোরেন্ট অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাসের অংশ। ছবি: পেক্সেল ডট কমগবেষণা যা বলছে
আমেরিকান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজির জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট সবচেয়ে কার্যকর হয় রাতে ব্যবহার করলে। কারণ রাতে আমাদের ঘামগ্রন্থি বা সোয়েট গ্ল্যান্ড অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় থাকে। এই সময় ত্বকের ওপর অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের সক্রিয় উপাদান যেমন অ্যালুমিনিয়াম সল্ট ভালোভাবে বসে কাজ শুরু করতে পারে। ফলে পরের দিন সকালে যখন আপনি ব্যস্ত হয়ে ঘামাচ্ছেন, তখন এটি আগেই ত্বকের ভেতর সক্রিয় হয়ে থাকে। এতে ঘাম কমে এবং দুর্গন্ধও নিয়ন্ত্রণে থাকে দীর্ঘ সময়।
কোনটি আপনার জন্য? রাতে ব্যবহার:
যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয় বা গরমে খুব দ্রুত দুর্গন্ধ হয়ে যায়, তাদের জন্য রাত সবচেয়ে ভালো সময়। নিয়মিত রাতে ব্যবহার করলে পুরো দিনের ঘাম কমবে, গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।
দিনে ব্যবহার?
যারা কেবল সতেজ থাকতে চান, বা যারা সাধারণ ডিওডোরেন্ট (যেখানে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট নেই) ব্যবহার করেন, তাদের জন্য সকালে ব্যবহারই যথেষ্ট। সকালে গোসল শেষে প্রয়োগ করলে দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ভালো থাকে।
দুই সময়ে ব্যবহার?
সাধারণত প্রয়োজন নেই। অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট রাতে ব্যবহার করাই যথেষ্ট কার্যকর। তবে আপনি চাইলে সকালে শুধু সুগন্ধযুক্ত ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন, যেটা ঘাম আটকায় না, শুধু দুর্গন্ধ কমায়।
তথ্যসূত্র: বার্ডি