Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> জীবনচরচা

টানা ৩ দিন স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে মস্তিষ্কে যে প্রভাব পড়ে

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪১
টানা ৩ দিন স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে মস্তিষ্কে যে প্রভাব পড়ে

আজকের জীবনে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগ নয়, বিনোদন, কাজ, অভ্যাস-সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। তাই টানা তিন দিন ফোন ছাড়া থাকা অনেকের কাছেই অদ্ভুত বা অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু তিন দিনের এই ছোট্ট বিরতিতেই মস্তিষ্কে এমন কিছু সূক্ষ্ণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হয়, যা মানুষকে ডিজিটাল চাপ থেকে সাময়িকভাবে মুক্ত হতে সাহায্য করে।

Advertisement

কম্পিউটারস ইন হিউম্যান বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় ঠিক এই বিষয়টিই অনুসন্ধান করা হয়েছে। গবেষণা পত্রে ২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ওপর ৭২ ঘণ্টা ধরে স্মার্টফোন সীমাবদ্ধতার প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেখানে দেখা যায় তিন দিন স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড রিলেটেড রিজিওনাল এরিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়।

মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতাল-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শৌনক অজিঙ্ক্য বলেন, “এটি আপনার মস্তিষ্ককে পুনরায় সেট করার, মনোযোগ বৃদ্ধি করার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির একটি শক্তিশালী উপায়। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নিয়মিত বিরতি বাস্তব বিশ্বের সম্পর্ক এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তা উন্নত করতে পারে কারণ মানুষ ‘নন-ভার্বাল রি অ্যাকশনের’ সঙ্গে আরও বেশি করে মানিয়ে নেয়। এবং পাশাপাশি শ্রবণ দক্ষতার বিকাশ ঘটে।”

প্রথম দিনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে মনের অস্থিরতা থেকে। স্মার্টফোনের প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশন, পিং, মেসেজ- এসব আমাদের মস্তিষ্ককে এক ধরনের ‘অঘোষিত সতর্কতা অবস্থায়’ রাখে। ফোন হাতে না থাকলে অথবা ব্যবহার বন্ধ করলে এই সতর্কতা হঠাৎ কমে যায়। কিন্তু একই সঙ্গে মস্তিষ্ক এক ধরনের উইথড্রয়ালের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়। বারবার হাত ফোন খোঁজে, মনে হয় কিছু একটা মিস হয়ে যাচ্ছে। এটাকে বলে ‘ফ্যানটম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’। মানুষ মনে করতে থাকে ফোন ভাইব্রেট করছে, যদিও ফোন তার কাছে নেই। প্রথম দিনের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে আমাদের ডোপামিন সিস্টেম ফোনের উত্তেজনায় কতটা অভ্যস্ত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্বিতীয় দিনে আসে মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেটিং প্রক্রিয়ার শুরু। সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস, ছোট ভিডিও, স্ক্রলিং- এসব তাৎক্ষণিক আনন্দ বা পুরস্কারের অনুভূতি তৈরি করে। ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে এই ছোট ছোট ‘ডোপামিন হিট’ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ ক্লান্ত, একটু বিরক্ত বা মনখারাপ অনুভব করতে পারে। তবে একই সময়ে মস্তিষ্ক স্বাভাবিক কাজকর্মে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে শুরু করে। গবেষণা বলছে, দ্বিতীয় দিন থেকেই মনোযোগের স্থায়িত্ব অল্প অল্প বাড়ে, কারণ মস্তিষ্ক আর দ্রুত উত্তেজনা খোঁজার অভ্যাসে থাকে না। কাজের প্রতি বা বই পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়তে শুরু করে।

প্রথম দিনে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে মস্তিষ্ক এক ধরনের উইথড্রয়ালের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়।
প্রথম দিনে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে মস্তিষ্ক এক ধরনের উইথড্রয়ালের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়।

তৃতীয় দিনে আসে সবচেয়ে লক্ষণীয় মানসিক পরিবর্তন। মস্তিষ্কের শান্ত স্থিতি। নোটিফিকেশনের ক্রমাগত চাপ কমে গিয়ে মস্তিষ্ক তার প্রাকৃতিক ছন্দে চলতে শুরু করে। এই সময় মানুষ প্রায়ই অনুভব করে-মনটা যেন একটু হালকা, মাথায় যেন চাপ কম আছে। ঘুমও তুলনামূলক ভালো হয়, কারণ রাতে স্ক্রলিং বা ব্লু-লাইটের বিরক্তি থাকে না। অনেকেই বলেন, মাথা পরিষ্কার লাগে, নিজের চিন্তা, সমস্যার সমাধান এবং পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। এই তিন দিনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো- মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় নয় বরং বিরামহীন চাপ থেকে মুক্ত হয়।

এছাড়া সামাজিক আচরণেরও সূক্ষ্ণ বদল দেখা যায়। ফোন না থাকায় মানুষ দীর্ঘ সময় কথোপকথন ধরে রাখতে পারে, পারিপার্শ্বিক জিনিসে মনোযোগ দিতে পারে। চোখের সামনে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে সংযোগ একটু গভীর হয়। মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করে-দূর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, মানুষের মাঝে থেকে বাস্তব উপস্থিতিই আসলে কতটা শান্তি দেয়।

সব মিলিয়ে, টানা তিন দিন স্মার্টফোন ছাড়া থাকা মস্তিষ্কে একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী ‘রিবুট’ হয়। যদিও অভ্যাস ভাঙার জন্য এটি খুব দীর্ঘ সময় নয়, তবুও এই তিন দিনে মানুষ বুঝতে পারে- মস্তিষ্ককে একটু ছুটি দিলে সেটি কত দ্রুত তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিষয়: স্মার্টফোনমানসিক স্বাস্থ্যমস্তিষ্কজীবনধারাস্মার্ট ফোনলাইফস্টাইল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    আমাদের ২৪ ঘণ্টার সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ছন্দ মূলত আলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের চোখ মস্তিষ্কের প্রধান ঘড়িতে সংকেত পাঠায়, যা শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া—যেমন জেগে থাকা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

  • মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    বয়স বাড়লে মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা বার্ধক্যের অন্যতম একটি ভীতিজনক দিক। তবে বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া কিন্তু একেবারেই অনিবার্য নয়।

  • সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

  • সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।