Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> জীবনচরচা

মাল্টিটাস্কিং ভালো নাকি মন্দ?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ২৫
মাল্টিটাস্কিং ভালো নাকি মন্দ?

দিন যত এগোচ্ছে, কাজের পরিমাণ তত বাড়ছে আর সেই সঙ্গে বাড়ছে ‘মাল্টিটাস্কিং’-এর প্রবণতা। আধুনিক কর্মজীবনের বড় একটি অংশ বিশ্বাস করে, একসঙ্গে যত বেশি কাজ করা যায়, ততই মানুষ বেশি সক্ষম। বিভিন্ন অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীকে মাল্টিটাস্কার হওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া কিন্তু আসলেই কি তাই? মাল্টিটাস্কিং আমাদের দক্ষতা বাড়ায় নাকি উল্টো কমিয়ে দেয়?

Advertisement

মাল্টিটাস্কিং কী?

সাধারণভাবে, একসঙ্গে একাধিক কাজ করার প্রবৃত্তিকেই মাল্টিটাস্কিং বলা হয়। যেমন- আপনি ভিডিও কল করছেন, সেই সময়েই ইমেইল লিখছেন; অথবা রান্না করতে করতে ফোনে বারবার সোশ্যাল মিডিয়া দেখছেন। শুনতে মনে হয় যেন অনেক কিছু একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে মস্তিষ্ক একই সময়ে একাধিক কাজ ১০০% মনোযোগ দিয়ে করতে পারে না। আমাদের ব্রেন আসলে কাজ বদলাতে থাকে খুব দ্রুত, যাকে বলা হয় ‘টাস্ক সুইচিং’।

মাল্টিটাস্কিং-এর বাস্তব উদাহরণ

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মাল্টিটাস্কিং আমাদের নিত্যদিনের আচরণে এতটাই মিলেমিশে গেছে যে আমরা অনেক সময় বুঝতেও পারি না কখন এটি করছি। যেমন-

  • অনলাইন ক্লাস চলাকালীন একই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা
  • কাজের ডেস্কে বসে রিপোর্ট লেখার পাশাপাশি মেসেজের জবাব দেওয়া
  • বাসে করে যাওয়ার সময় গান শুনতে শুনতে গেম খেলা
  • রান্নার ফাঁকে ভিডিও দেখার পাশাপাশি ফোনে কথা বলা

এসব কাজ একসঙ্গে করা যতই কার্যকর মনে হোক, গবেষণা বলছে বিষয়টি ততটা সহজ নয়।

গবেষণায় কী বলছে?

বহু গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কিং-এর কিছু স্পষ্ট নেতিবাচক দিক রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো হলো-

মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার মতে, যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। তারা গুরুত্বপূর্ণ আর অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদা করে চিনতে বেশি সময় নেন। ফলে একই কাজ করতে তাদের আরও বেশি সময় লাগে।

যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। ছবি: পেক্সেল ডট কম
যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। ছবি: পেক্সেল ডট কম

কাজের মান কমে যায়

বেশ কয়েকটি নিউরোসাইকোলজিক্যাল সমীক্ষা বলছে, মাল্টিটাস্কিং করতে গিয়ে আমাদের মস্তিষ্ককে এক কাজ থেকে আরেক কাজে বারবার সুইচ করতে হয়। এই সুইচিং-এর কারণে কাজের গতি যেমন কমে, তেমনি ভুল করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব কাজ নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ দাবি করে- যেমন লেখালেখি, কোডিং, প্রেজেন্টেশন তৈরি- এসব ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার হার দ্বিগুণ পর্যন্ত দেখা যায়।

স্মৃতিশক্তির ক্ষতি হতে পারে

সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বারবার মনোযোগ বদলাতে থাকলে ব্রেনের ‘ওয়ার্কিং মেমরি’ দুর্বল হয়। এটি সেই স্মৃতি যা আমরা অল্প সময়ের জন্য তথ্য ধরে রাখতে ব্যবহার করি। মাল্টিটাস্কিং অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে এই স্মৃতিকে ক্লান্ত করে তোলে।

মানসিক চাপ বাড়ায়

একাধিক কাজ একই সময়ে সামলাতে গেলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এজন্য মাল্টিটাস্কিং করা ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি মানসিক চাপ অনুভব করেন। এতে কর্মস্থলে বা ঘরোয়া জীবনে বিরক্তি, অস্থিরতা ও হতাশার অনুভূতি বাড়তে পারে।

সৃজনশীলতা কমে

মাল্টিটাস্কিং আমাদের চিন্তার গভীরতা কমিয়ে দেয় বলে জানাচ্ছে অনেক সাইকোলজি গবেষণা। যখন মনোযোগ ভেঙে ভেঙে যায়, তখন নতুন আইডিয়া তৈরি করার ক্ষমতা কমে যায়। লেখক, ডিজাইনার বা গবেষকদের জন্য এটি বড় বাধা।

মাল্টিটাস্কিং আমাদের চিন্তার গভীরতা কমিয়ে দেয়। ছবি: ফ্রিপিক
মাল্টিটাস্কিং আমাদের চিন্তার গভীরতা কমিয়ে দেয়। ছবি: ফ্রিপিক

তাহলে কি মাল্টিটাস্কিং পুরোপুরি খারাপ?

সব সময় নয়। কিছু সহজ ও স্বয়ংক্রিয় কাজ যেমন হাঁটতে হাঁটতে গান শোনা বা রান্না করতে করতে পডকাস্ট শোনা- এসব ক্ষেত্রে মাল্টিটাস্কিং তেমন ক্ষতি করে না। কারণ একটির প্রতি মনোযোগ কম লাগে। তবে যেসব কাজ মনোযোগ দাবি করে, সেগুলোর সঙ্গে আরেকটি মনোযোগ-নির্ভর কাজ মেলানোই সমস্যার মূল।

মাল্টিটাস্কিং আমাদের সময় বাঁচায়-এমন ধারণা অনেকের মধ্যে থাকলেও গবেষণাগুলো তার উল্টো কথাই বলছে। এক সময়ে একটি কাজ করা, সেটিতে গভীর মনোযোগ দেওয়া, তারপর পরবর্তী কাজ শুরু করা, এই পদ্ধতিটাই আসলে সবচেয়ে কার্যকর।

দ্রুতগতির জীবনে কখন কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেটিই মূল চ্যালেঞ্জ। আর মাল্টিটাস্কিং করার চেয়ে স্মার্ট টাস্কিং বা সঠিকভাবে কাজ ভাগ করে নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের মস্তিষ্ক, মনোযোগ ও কর্মদক্ষতার জন্য বেশি উপকারী।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড, হেডস্পেস

বিষয়: অভ্যাসঅফিসমানসিক স্বাস্থ্যকর্মীজীবনধারাগবেষণালাইফস্টাইল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    আমাদের ২৪ ঘণ্টার সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ছন্দ মূলত আলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের চোখ মস্তিষ্কের প্রধান ঘড়িতে সংকেত পাঠায়, যা শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া—যেমন জেগে থাকা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

  • মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    বয়স বাড়লে মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা বার্ধক্যের অন্যতম একটি ভীতিজনক দিক। তবে বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া কিন্তু একেবারেই অনিবার্য নয়।

  • সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

  • সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।