Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

মোগলাই পরোটার বাড়ি কোথায়?

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ৪২
মোগলাই পরোটার বাড়ি কোথায়?

ময়দা গোল্লা বেলে টেনে টেনে বেশ অনেকটা বড় করে তার ওপর ডিম ভেঙে আরও নানা কিছু দিয়ে আবার চারদিক মুড়ে তেলে ভাজা জিনিসটাকে আমরা বলি মোগলাই পরোটা। এই মোগলাই পরোটা কি আসলেই মোগল? জানেন কি, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অতি পছন্দ এই পরোটার সঙ্গে একজন বাঙালির নাম জড়িয়ে আছে। চলুন তাহলে মোগলাই পরোটার গল্প শোনা যাক।

Advertisement

মোগলাই পরোটা যিনি আবিষ্কার করেছিলেন সেই মানুষটির বাড়ি ছিল অবিভক্ত বাংলার (এখন পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমানে। আদিল হাফিজ উসমান। যিনি ছিলেন মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের বাবুর্চি। গল্প আছে, একইরকম খাবার খেতে খেতে সম্রাটের অরুচি চলে এসেছিল। ডাক পড়ল আদিল হাফিজের। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট আকবর তনয় জাহাঙ্গীর দশ দিন সময় দিয়ে আদেশ দিলেন নতুন পরোটা বানাতে হবে। একই পরোটা খেয়ে খেয়ে তিনি বিরক্ত। আদিল হাফিজ পড়লেন চিন্তায়। শুরু করলেন কাজ। নবম দিনের মাথায় নতুন পরোটা ‘জাবির ফালা’ নিয়ে হাজির হলেন সম্রাটের সামনে।

সম্রাট জাহাঙ্গীর অর্থাৎ মির্জা নূর উদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম পরোটা খেয়ে এতটাই খুশি হলেন যে হাফিজ উসমানকে ১০০১ স্বর্ণমুদ্রা বখশিস দিলেন। বাবুর্চি সাহেবতো পুরস্কার পেলেন। এদিকে পৃথিবী পেল মোগলাই পরোটা। যদিও অনেকে বলেন আদিল হাফিজের বানানো পরোটা আসলে তুর্কি ‘গোজেলেমাহ’র আরেক রূপ। আদিল হাফিজ তার ছেলেকে এই পরোটা বানানোর কৌশল শিখিয়ে বলে দিলেন আর কেউ যেন না জানে। তিনি নিজেও এই রেসিপি অন্য শাহী খানসামাদের থেকে লুকিয়ে রাখলেন। দিল্লি এবং লখনৌর বাবুর্চিরাও নাকি এর হদিস পাননি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
দুই মিনিটের নুডলস এলো কীভাবেinstant noodle

গল্প আছে, বহু বছর ধরে হাফিজ উসমানের পরিবার এই পরোটার রেসিপি বাইরে কারও কাছে প্রকাশ করেননি। ব্রিটিশ রাজত্বের সময় পরিবারটির সদস্যরা এটি বাইরে বিক্রি শুরু করেন বলে অনেকেরই বিশ্বাস।

ওপরে মুচমুচে আর ভেতরে নরম, গরম গরম মোগলাই পরোটা খেতে খেতে হুট করে মাথায় আসে একজন বাঙালি কীভাবে মোগলাই পরোটা তৈরি করতে পারেন? তাহলে মনে রাখবেন, সম্রাট জাহাঙ্গীরের তিনশ বছর আগে থেকে বাংলায় তুর্ক-আফগানি প্রভাব ছিল। আর ওই ‘গোজলেমাহ’ তো তুর্কি বস্তু। শুধু ডিম নয়, তার সঙ্গে মাংসের কিমা ও নানা ধরনের মশলা ভরা থাকত। তুরস্কের আনাতোলিয়ার গ্রামে যে খাবারের জন্ম তা এখন বলা যায় দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় ফাস্টফুড।

মোগলাই পরোটা। ছবি: চরচা
মোগলাই পরোটা। ছবি: চরচা

বিরিয়ানি আগে এসেছে কোথায়, ঢাকা না কলকাতায়?biryani

আবার ‘বায়দা রুটি’ নামের যে বস্তু আজকের ভারতের মহারাষ্ট্রে পাওয়া যায় সেও তো সেই ‘জাবির ফালা’। ‘জাবির’ আর ‘বায়দা’ দুটোর অর্থইতো ডিম। তাহলে যারা মনে করেন, মোগলাই পরোটা আসলে গোজলেমাহ’র আরেকটা রূপ তাদের ভাবনাটাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এই ঢাকা শহরেইতো একসময় ‘বায়দা রুটি’ পাওয়া যেত।

এই বায়দা রুটি ‘বার্মা রুটি’ নামেও পরিচিত। বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার), এই রুটির একটি সংস্করণ ‘পালাটা’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতে বার্মা রুটির আগমন ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলে, যখন সমগ্র ভারত এবং বার্মা ও শ্রীলঙ্কার কিছু অংশ ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। ধারণা করা হয়, সেই সময়ে যারা বার্মা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারাই এই রেসিপিটি ভারতীয় উপকূলে নিয়ে এসেছিলেন।

খাদ্য সমালোচক বিক্রমজিৎ রায় মোগলাই পরোটার সাথে আরবি বা লেবানিজ রুটির অনেক মিল খুঁজে পান; সেখানেও মাংসের পুর ভরা চারকোনা আকৃতির ডুবো তেলে ভাজা রুটি বা র‍্যাপ দেখা যায়।

এবার ফুড-হিস্টোরিয়ান পুস্পেশ পান্থ কী বলছেন একটু শুনি। দিল্লি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক বলছেন, খাবারের আগে ‘মোগলাই’ কথাটা জুড়ে দেওয়াটা আসলে ব্রিটিশদের কাজ। মোগল সাম্রাজ্যের পতন ইংরেজদের হাতেই। মোগলদের ‘যোগ্য উত্তরসূরি’ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করাতে তারা এই ‘মোগলাই’ অভিধা বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করে দেয়।

এদিকে, দিল্লি সালতানাতের পতনের পর শাহী খানসামারা ছোট ছোট রাজ্যের রাজা, নবাবদের হেঁশেলে ঠাঁই পেলেন। সেখানে গিয়ে বানাতে শুরু করলেন নানা পদ। যেহেতু তারা একসময় মোগলদের হেঁশেলে কাজ করতেন তাই তাদের খাবার হয়ে গেল ‘মোগলাই’। আর ব্রিটিশদের অবদানতো আছেই। ব্যাস! খাবার পেল রাজকীয় রূপ।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে শেফ সব্যসাচী গরাই বলেছেন, তার মতে, মোগলাই পরোটা ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে ঢাকা হয়ে কলকাতা পৌঁছেছিল!

বিষয়: খাদ্যখাবারখাদ্য সংস্কৃতিখাবারদাবারখাদ্যাভ্যাস
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।