Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

আপনি কোন ধরনের লুচি খান?

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫: ৫৫
আপনি কোন ধরনের লুচি খান?

লুচি। বাঙালির ঘরের অন্যতম এই পদ নিয়ে মানুষের আবেগ কম নয়। আলুর তরকারি হোক বা মাংস কিংবা সুজির হালুয়া/ মোহনভোগের সঙ্গে লুচি থাকলে সকাল কিংবা সন্ধ্যার খাবার সাক্ষাৎ স্বর্গ হয়ে ওঠে অনেকের কাছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত নগরীতে বাসা-বাড়িতে লুচি হয়ত দৈনন্দিন তৈরি হয় না। কিন্তু রাজধানীতে কাবাব-চাপের সঙ্গে লুচি খেতে অনেকেই মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বেইলি রোডে চলে যান। লুচি বাঙালির ঘরে অনেক দিন ধরেই রাজত্ব করলেও এর নামটি এসেছে হিন্দি শব্দ থেকে। চলুন তাহলে লুচির তত্ত্ব-তালাশ করা যাক।

Advertisement

কোথা থেকে লুচি এলো

লুচি তৈরি মূল উপাদান ময়দা। আর ময়দা আসে গম থেকে। গম এই উপমহাদেশে বসবাস করছে বহু বহু বছর ধরে। পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো সিন্ধু সভ্যতায় গম চাষের প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ এই উপমহাদেশের আদি পুরুষদের মধ্যে গম থেকে তৈরি নানা পদের প্রচলন ছিল ধরেই নেওয়া যায়। হিন্দি ভাষায় নির্মিত ধারবাহিক তথ্যচিত্র ‘রাজা, রসুই অর কাহানিয়া’তে বলা হয়েছে আর্যরা ভারতীয় উপমহাদেশে আসার পর তাদের খাদ্যাভ্যাসে চালের প্রভাব বেশি দেখা যায়। সেই সময় আর্যরা গমকে নিচু শ্রেণির মানুষের খাবার হিসেবে মনে করত। এ থেকেও বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে গম থেকে তৈরির খাবারের জনপ্রিয়তা ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
হালিম কোথা থেকে এলোhalim-2

লুচির বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় একটি আয়ুর্বেদ সংক্রান্ত বইয়ে। সুশ্রুতের ভেষজ শাস্ত্রের পুঁথি নিয়ে প্রথম ভাষ্য লেখেন চক্রপাণি দত্ত। তিনি বাঙালি ছিলেন। পাল যুগের বিখ্যাত এই চিকিৎসক তার ‘দ্রব্যগুণ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘সুমিতায়া ঘৃতাক্তায়া লোপ্‌ত্রীং কৃত্বা চ বেল্লয়েৎ। আজ্যে তাং ভর্জয়েৎ সিদ্ধাং শষ্কুলী ফেনিকা গুণাঃ।।’ যার বাংলা অর্থ হল, ‘গম চূর্ণকে ঘি দিয়ে মেখে, লেচি করে বেলে, গরম ঘিয়ে ভেজে তৈরী হয় শষ্কুলী, যার গুণ ফেনিকার (খাজা) মত’। এই শষঙ্কুলীই হচ্ছে আজকের লুচি।

তা হলে লুচিকে আদি বাঙালি খাবারগুলোর একটি সিংহাসনে বসানো যেতেই পারে। চক্রপাণি দত্তের লেখা থেকে জানা যায়, লুচির তিন প্রকার। সেগুলো হলো- খাস্তা, সাপ্তা ও পুরি। বেশি করে ময়ান দিয়ে ময়দা দিয়ে যা তৈরি করা হতো তা ছিল খাস্তা লুচি। ময়ান ছাড়া ময়দা দিয়ে তৈরি লুচি ছিল সাপ্তা লুচি। আর ময়দার পরিবর্তে আটা দিয়ে যে লুচি তৈরি হত তা ছিল পুরি। পাল যুগের সেই খাস্তা লুচিই বর্তমানের প্রচলিত লুচি। সাধারণ বাঙালি বাড়িতে এই খাস্তা লুচিই তৈরি হয়।

কাবাব-চাপে সঙ্গে লুচি খাওয়া রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয়। ছবি: চরচা
কাবাব-চাপে সঙ্গে লুচি খাওয়া রাজধানী ঢাকায় জনপ্রিয়। ছবি: চরচা

আটা দিয়ে যে পুরি তথা লুচির কথা বলা হচ্ছে তা এখনকার ভারতের উত্তরাংশের প্রচলিত খাবার।

কিন্তু ‘লুচি’ শব্দটি এলো কীভাবে? জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের মানুষ ঋতেন্দ্র নাথ ঠাকুর ‘মুদীর দোকান’ বইয়ে লিখেছেন, “কোন সংস্কৃত প্রাচীন গ্রন্থেই ‘লুচি’, ‘লুচিকা’ অথবা লুচির অনুরূপ শব্দ কোন খাদ্যদ্রব্যের নামরূপে পাওয়া যায় না। ‘লুচি’ বস্তুত সংস্কৃত শব্দপ্রসূত নহে। কি মাহাভারতাদি পুরাণ, কি বৈদিক গ্রন্থ কি আয়ুর্ব্বেদীয় গ্রন্থ কোথাও ‘লুচি’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায় না। ভার প্রকাশের ন্যায় গন্থে যাহাতে ‘রুটী’ ‘পুরী’ প্রভৃতি আধুনিক প্রায় সকল প্রকার খাবারের প্রস্তুত প্রণালী লিখিত আছে তাহাতে কিন্তু লুচির কোন উল্লেখ নাই। লুচি দেশজ অর্থাৎ বাঙ্গালার প্রাকৃত শব্দও নহে। লুচির মূল হিন্দি ভাষায়। লুচি প্রকৃতপক্ষে হিন্দি শব্দ। অথচ আশ্চর্য্য যে এক্ষণে বঙ্গবাসীরা যেরূপ লুচির ভক্ত হিন্দুস্থানীয়রা তাহার একাংশও নহে….।”

দুই মিনিটের নুডলস এলো কীভাবেinstant noodle

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র ঋতেন্দ্রনাথ লিখেছেন, “কোন জিনিস হাত হইতে পিছলিয়া পড়িবার মত হইলে হিন্দিতে ‘লুচ্‌-যাতা’ বলে। আবার কোন কোমল পিচ্ছিল দ্রব্যকে ‘লুচ্‌লুচিয়া’ বলে। লুচি সচরাচর ঘৃতে পিচ্ছিল থাকে বলিয়াই হিন্দিভাষায় ‘লুচি’ নাম প্রাপ্ত হইয়া থাকিবে।”

ঋতেন্দ্রনাথ লিখেছেন, “বিশ্বকোষে ‘লুচি’ দেশজ শব্দ অর্থাৎ বাঙ্গলার প্রাকৃত শব্দ বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে তাহা ভ্রমাত্মক।

‘রামচরিতমানস’-এর লেখক সন্তকবি তুলসী দাস লিখেছেন, “পূর্বে ভিক্ষা করলে মেড়ুয়ার আটা মিলত না। কিন্তু এখন রাম নামের প্রতাপে দুবেলা লুচি পাচ্ছি।”

তবে অনেকের মতে, লুচি সংস্কৃত শব্দ ‘লোচক’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘চোখের মনি’। লুচি যেহেতু চোখের মনির মত গোল তা বোঝাতেই এই রকম নামকরণ।

বিষয়: খাদ্য সংস্কৃতিখাদ্যাভ্যাসখাবারদাবারখাবার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।