Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ইউরোপ-আমেরিকার দূরত্ব বাড়ছেই, এর শেষ কোথায়?

গত ২ মে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ প্রকাশিত বার্ট্রান্ড বেনোয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে জার্মানি থেকে একটি আর্মি ব্রিগেড প্রত্যাহার করা হবে।

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২১: ৪১
ইউরোপ-আমেরিকার দূরত্ব বাড়ছেই, এর শেষ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ভাঙন মহাদেশটির পুনরস্ত্রীকরণের গতির চেয়েও দ্রুততর হচ্ছে। জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটিকে জার্মান কর্মকর্তারা প্রতীকী বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ক্রমবর্ধমান ফাটল ইউরোপের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

Advertisement

গত ২ মে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ প্রকাশিত বার্ট্রান্ড বেনোয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে জার্মানি থেকে একটি আর্মি ব্রিগেড প্রত্যাহার করা হবে। লক্ষণীয় যে, এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা বের হয়ে আসার পন্থা নেই এবং তেহরান আলোচনার টেবিলে আমেরিকাকে অপদস্থ করছে।

যদিও জার্মানি বর্তমানে ইউরোপে মার্কিন শক্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে এবং রামস্টেইন এয়ারবেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে তার ক্ষমতা জাহির করে। তবুও এই সেনা প্রত্যাহারকে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস একটি ‘পূর্বাভাসযোগ্য’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পিস্টোরিয়াসের মতে, ইউরোপ ইতিমধ্যে এই শূন্যতা পূরণে বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং জার্মানি সঠিক পথেই রয়েছে।

ন্যাটো থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে। যদিও তারা এখনই নিজস্ব প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং ডার্ক ইগল হাইপারসনিক মিসাইল পরিচালনার জন্য জার্মানিতে একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন না করার মার্কিন সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর চুক্তিটি মানছে না। জার্মানির ‘ইনস্টিটিউট ফর রিস্ক অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’-এর পরিচালক নিকো ল্যাঞ্জ স্পষ্ট করেছেন যে, ইউরোপ যখন একটি অত্যন্ত গুরুতর হুমকির সম্মুখীন, তখন এই ধরণের প্রচলিত প্রতিরক্ষা ঘাটতি পূরণ না হওয়া একটি বাস্তব সমস্যা। যদিও ইউরোপের নিজস্ব সৈন্য রয়েছে, তবে এই ধরণের নির্দিষ্ট অত্যাধুনিক সক্ষমতা এখনও তাদের আয়ত্তে আসেনি।

আমেরিকা ছাড়া ইউরোপ নিরাপদ, এই ভাবনা নিছক স্বপ্ন: ন্যাটো মহাসচিবMark Rutte

এছাড়া, এই ব্যাটালিয়ন মোতায়েন না করার সিদ্ধান্তকে পুতিনের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতার একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর রাশিয়ার ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পরবর্তী পদক্ষেপ। ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপগুলো ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

চ্যান্সেলর মের্জের অধীনে জার্মানি ২০২৯ সালের মধ্যে ইউরোপের বৃহত্তম প্রচলিত সামরিক বাহিনীতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্ত্র সংগ্রহ ত্বরান্বিত করছে। এমনকি তারা আমেরিকার পারমাণবিক ছত্রছায়ার বিকল্প হিসেবে ফ্রান্সের সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জার্মানি আমেরিকার সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পথে থাকলেও মের্জ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই সংঘাত সেই প্রচেষ্টার জরুরি অবস্থাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

নিকো ল্যাঞ্জের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রাগার কমে যাওয়া ইউরোপের জন্য বড় দ্বিধা তৈরি করেছে। কারণ ইউরোপের পুনরস্ত্রীকরণ এখনও ধীর গতির এবং তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। এই সমস্ত পরিস্থিতি ইউরোপের জন্য এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইউরোপের মানচিত্র
ইউরোপের মানচিত্র

নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রতিকূলতাও জার্মানিকে বিপাকে ফেলেছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে গত বছর থেকে আমেরিকার বাজারে জার্মানির রপ্তানি ধসে পড়েছে। যদিও গত গ্রীষ্মে একটি ইইউ-ইউএস বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আলাদা মার্কিন শুল্কের কারণে তা জার্মান নির্মাতাদের কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। সরকার আশা করেছিল যে প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাবে। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সেই আশায় পানি ঢেলে দিয়েছে।

ফলে ব্যবসায়িক আস্থা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং জার্মান অটোমোবাইল শিল্পের ওপর শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ট্রাম্পের ঘোষণা জার্মানির প্রধান শিল্পের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চ্যান্সেলর মের্জের রাজনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বর্তমানে জার্মানির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয়তাহীন চ্যান্সেলরে পরিণত হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, সামরিক সক্ষমতার অভাব এবং অর্থনৈতিক সংকট জার্মানি তথা ইউরোপকে একটি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিষয়: অর্থনীতিআমেরিকাচুক্তিঅস্ত্রসামরিক বাহিনীইউরোপক্ষেপণাস্ত্রবাণিজ্যপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ