Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

মেড ইন চায়না: সুযোগ নাকি হুমকি?

ইয়াসিন আরাফাত

ইয়াসিন আরাফাত

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩: ০৮
মেড ইন চায়না: সুযোগ নাকি হুমকি?

চীনের অর্থনীতি ও উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যা সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৩০ শতাংশের বেশি এখন চীন একাই করছে, যা আমেরিকা, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি। এই দাপট শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যই বদলাচ্ছে না, বরং বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী ও সরকারগুলোকে আতঙ্কে ফেলছে।

Advertisement

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, চীনা পণ্য ক্রমশ আরও সস্তা হয়ে উঠছে। কারণ, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে দক্ষ, অন্যদিকে দাম নিয়ে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে আছে। টানা প্রায় তিন বছর ধরে চীনা পণ্যের দাম পড়তে থাকায় বহু কোম্পানি লোকসানে পড়েছে এবং বিদেশি বাজারে ঝুঁকছে, যেখানে মুনাফা তুলনামূলক ভালো।

করোনাভাইরাস মহামারির আগে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ রপ্তানি কনটেইনারে ছিল চীনের পণ্য; এখন তা বেড়ে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অথচ বিশ্ব জিডিপির মাত্র এক-পঞ্চমাংশই চীনের দখলে। চীন নিজ বাজারে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে- বিশেষ করে চিপ, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নানা কৌশলগত খাতে। কমিউনিস্ট পার্টি স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আমেরিকায় রপ্তানি কমলেও, চীনের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এই বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় রপ্তানি রেকর্ড গড়ছে। ব্রাজিলিয়া থেকে বার্লিন ও ব্যাংকক পর্যন্ত রাজনীতিবিদরা চীনা প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের শিল্পকে রক্ষার দাবির মুখে আছেন। কিন্তু একই সময়ে ভবিষ্যৎ শিল্প-যেমন ব্যাটারি উৎপাদন গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগও চাইছেন। ফলে চীনকে প্রতিরোধ করায় তাদের আগ্রহ সীমিত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
trump

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির চাপে আমেরিকা অভিমুখে রপ্তানি কমে গেলেও আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়ছে।

বার্তা সংস্থার এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শুধু ব্যালান্স অব ট্রেড দিয়ে বোঝা যাবে না। একদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ কঠোর নিয়ন্ত্রিত। অন্যদিকে, তারা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন নীতিমালা নিচ্ছে-যেমন ২০২৬ সাল থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহন রপ্তানিতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে।

xi jinping

শি জিনপিং প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন, চীনে লোকসানে থাকা কারখানা অনেক। কিন্তু তিনি এখনও শিল্পকে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু মনে করছেন। ২০২৬–২০৩০ সালের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনায় চীন বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অগ্রাধিকার এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ মোকাবিলায় ‘মনোযোগ-সন্ধানী’ উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিদেশি নেতারা বেইজিং সফরে গিয়ে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যায্য আচরণ বা চীনের অর্থনীতি পুনর্গঠনের দাবি তুললেও, চীনা কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করছেন। বরং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, বিদেশি সরকারগুলো যদি চীনা পণ্যের প্রবাহ ঠেকায়, তাহলে তারা প্রতিশোধ নেবে। চীনকে যখন রাশিয়ার হাতে ইউক্রেনে ব্যবহৃত ড্রোন যন্ত্রাংশ না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, তখন বেইজিং তা প্রত্যাখান করে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, চীনের নেতৃত্ব এখন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী; তারা মনে করছে বাণিজ্যযুদ্ধে তারা ট্রাম্পকে হারাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই শিল্পকেন্দ্রিক দৌড় টেকসই নাও হতে পারে। মার্কিন কূটনীতিক সারা বেরানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কাঠামোগত সংস্কারের বদলে রাজনৈতিকভাবে লাভজনক খাতে মনোযোগ দিচ্ছে, যা চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। একইসঙ্গে বিরল খনিজ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ চীনকে স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী করলেও, দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে পারে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন এক ‘ঐতিহাসিক শিল্পবিপ্লব’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। হাস্যকর বিষয় হলো, সেই বিপ্লব যদি সত্যিই সফল হয়, তবে তা ঘটতে পারে চীনেই।

আমেরিকার প্রতি চীনের অবিশ্বাস এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কারণ ট্রাম্প একদিকে চীনের প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে চেয়েছেন, অন্যদিকে আবার তা বিক্রির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

এক চীনা অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আমেরিকা বড় ভুল করেছে কারণে তারা চীনকে জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু দেশটিকে বিশ্বমানের শিল্প গড়তে ঠেকাতে পারেনি।

সবশেষে, চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রোবট কারখানা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে দেশটি বিশ্ব শিল্পে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা বদলাতে চায় না। প্রশ্ন হলো-এই শক্তি কি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে, নাকি এক অস্থিতিশীল প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবে?

বিষয়: আমেরিকারপ্তানিআমদানিপ্রযুক্তিপণ্যবাণিজ্যচীন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ