
১৯৯০ সাল থেকে নেপালে মোট ৩২টি সরকার গঠিত হয়েছে। যার কোনটিই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি।

নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দেশটিতে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, আরএসপি ২০টিতে জিতেছে এবং ৯৫টিতে এগিয়ে রয়েছে। ফলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি বর্তমানে অন্তত ৪৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সাতটি প্রদেশের প্রায় সবখানেই তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক জনমত দেখা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা সরকার, গঠিত হয় অন্তর্বর্তী প্রশাসন। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্বাচন ঘিরে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিই ফিরে আসে। জেন-জি’র বিপ্লব কি ব্যালট বাক্সে টিকতে পারলো? বাংলাদেশ কি সত্যিই বদলাচ্ছে, নাকি একই চক্রে ঘুরছে আবার?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। জেন-জি অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচন বাংলাদেশে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্কার, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই চার স্তম্ভে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।

ঢাকায় যখন নির্বাচনী প্রচারণার পারদ তুঙ্গে, তখন এই ভোটের ফলাফল অন্য কোথাও কোনো ভোটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফল নির্ধারণ না করলেও, এটি পরবর্তী তিনটি নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে জেন-জি প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ম্লান।

বাংলাদেশের এই নির্বাচন অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতির একটি মৌলিক দ্বিধাকে সবার সামনে এসেছে, তা হলো কাঠামোগত বদল ছাড়াই শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন। হাসিনার পতন রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তা থেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়নি। ফলে তরুণ ভোটাররা এখন বাস্তববাদিতা এবং আদর্শের মাঝে আটকে পড়েছেন।

গত বছরে নেপালে ‘জেন জি’ দের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ ছিল অস্বাভাবিক ও পরিকল্পিত। নেপালে এমন কিছু হতে পারে বলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নেতারা নেপালকে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

গ্লাসডোরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ জেন জি কর্মী বড় বেতন বা ক্ষমতার হাতছানি না থাকলে ব্যবস্থাপক বা লিডারশিপের পথে হাঁটতে নারাজ। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘কর্মজীবনের মিনিমালিজম’ (Career Minimalism)।

নেপালি ভোটারদের কাছে এখনও দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা। এই উদ্বেগের গভীরে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠাও। নেপালের জনগণের গড় বয়স ২৬ বছর হলেও, দেশটির অর্থনীতি তরুণদেরকে তেমন কিছুই দিতে পারছে না।

অথচ আগের প্রজন্মের কাছে নেতৃত্বের চেয়ারে বসা মানেই ছিল সাফল্যের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাহলে এই প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি এত আলাদা হলো কীভাবে?

নিজের যত্ন বা সেল্ফ কেয়ারের দুনিয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে বা সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আসছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। নিজের যত্নের বেশিরভাগ ধারাগুলো আসছে জেন জি’দের হাত ধরে।

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-উত্তাল পরিস্থিতির পর পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু হওয়া জেন জি আন্দোলন ও তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নেপালের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-উত্তাল পরিস্থিতির পর পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু হওয়া জেন জি আন্দোলন ও তরুণদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ নেপালের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।