Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

তরুণদের ‘নতুন’ নেপালে পরিবর্তন আসবে কতটা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ৪১
তরুণদের ‘নতুন’ নেপালে পরিবর্তন আসবে কতটা?

অজয়া ভদ্র খানালের অফিস থেকে কয়েক শ ফুট দূরে পড়ে আছে সিংহ দরবারের পোড়া কাঠামো। এই প্রাসাদটি ১১৭ বছরের পুরোনো এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি ছিল নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই দিন, উন্মত্ত জনতা এটিকে এবং সেই সঙ্গে সংসদ ভবন, অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর ও বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলের তালা খুলে দেওয়া হয় এবং রাজনীতিবিদদের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। পুলিশ উধাও হয়ে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় এক নৈরাজ্য।

Advertisement

অথচ এর ঠিক আগের দিনই পরিস্থিতি এমন ছিল না। সেদিন দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, পুলিশ নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের দিকে গুলি চালালে, তা তীব্র রূপ নেয়। আর তাতে নিহত হন ১৯ জন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী। এতে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। সমালোচকদের মতে, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে সুবিধাবাদীরা নিজেদের পুরোনো বিরোধ মেটাতে রাস্তায় নেমে পড়ে।

কেবল ১০ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে। দুই দিন পর নেপালের প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন এবং সততার জন্য পরিচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। খানাল সাহেব হলেন সেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা। পুরোনো প্রাসাদের ঠিক পাশের অফিস থেকে, তাঁদের কাজ হলো দেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। খানাল সাহেব দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাকেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আগামী বছরের ৫ মার্চ ভোটের দিন নির্ধারিত হয়েছে এরই মধ্যে।

নেপালি ভোটারদের কাছে এখনও দুর্নীতিই প্রধান সমস্যা। এই উদ্বেগের গভীরে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠাও। নেপালের জনগণের গড় বয়স ২৬ বছর হলেও, দেশটির অর্থনীতি তরুণদেরকে তেমন কিছুই দিতে পারছে না। প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন বেকার। মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৪০০ ডলারের সামান্য বেশি, যা প্রতিবেশী ভারতের প্রায় অর্ধেক। নেপালিদের অনেকেই ভারতে কাজ খুঁজতে যান। বাকিরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া বা পশ্চিমা দেশগুলোতে পাড়ি জমান ভাগ্যান্বেষণে। নেপালের ২ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২২ লাখ মানুষ বিদেশে বসবাস করে, যাদের বেশির ভাগই পুরুষ। অর্থাৎ, দেশের ভেতরে অর্থকরী কর্মকাণ্ড খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

সরকারের পতনের প্রায় তিন মাস পর কাঠমান্ডুতে এক অদ্ভুত অবস্থা বিরাজ করছে। রাজধানীকে এখন দুটি অনুভূতি প্রাণবন্ত করে রেখেছে: আশা ও ভয়। আশা হলো, নির্বাচন এমন একটি নতুন জোট উপহার দেবে যাদের মধ্যে দেশের বহু সমস্যা (যার মধ্যে প্রধান হলো দুর্নীতি ও বেকারত্ব) সমাধানের মতো উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকবে। ভয় হলো, নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ অথবা প্রধান দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের কারণে ভোট পিছিয়ে যেতে পারে, যা একটি নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওপরের এই দুই ঘটনাই ঘটা সম্ভব। নেপালের রাজনীতিতে বামপন্থীরা বিশেষ করে তিনজন পুরোনো নেতা আধিপত্য বিস্তার করে আছেন। এরা হলেন, নেপালি কংগ্রেসের শের বাহাদুর দেউবা (৭৯), মাওবাদীদের পুষ্প কমল দাহাল (যিনি প্রচণ্ড নামে পরিচিত, বয়স ৭১), এবং কমিউনিস্ট পার্টির ৭৩ বছর বয়সী নেতা কেপি অলি। নিন্দুকেরা মনে করেন, ২০১৫ সালে দেশটি বর্তমান সংবিধান কার্যকর হবার পর থেকে, এই তিনজনই জোটের মাধ্যমে একে অপরকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেছেন। আর একে অনেকেই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলা হিসেবে দেখে থাকেন। তবে এটা আসলে খুবই অস্থিতিশীল একটা অবস্থা। তার প্রমাণ দেয় ২০১৫ সালের পর গত ১০ বছরে সাতটি সরকার গঠনের বিষয়টি। অর্থাৎ, কোনো সরকারই আসলে নিজেরাই থিতু হতে পারছে না, দেশকে থিতু কি করবে!

তবে এই রাজনীতিবিদেরা এখনও ভালোভাবেই সক্রিয় আছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় অলি এখনও অসন্তুষ্ট। তিনি পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবিও জানাচ্ছেন। ওদিকে মাওবাদীরা দাবি করছে যে, তারা তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। আর নেপালি কংগ্রেস তো দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেই জেরবার। যদিও মজার বিষয় হচ্ছে এই তিন পক্ষই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছেন।

নেপালের পার্লামেন্টে নেপালের জেন-জি আন্দোলনকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের পার্লামেন্টে নেপালের জেন-জি আন্দোলনকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

তবে নেপালের রাজনীতিতে নতুন শক্তি সঞ্চার করছে তরুণ প্রতিবাদী নেতারা। অনেকেই নিজেদের দল বানিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিশোরী কার্কি। কিশোরী সেপ্টেম্বরে একজন আহত প্রতিবাদকারীকে উদ্ধারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক দল নিবন্ধিতও হয়ে গেছে। আরেক বিশিষ্ট প্রতিবাদকারী প্রদীপ গাওয়ালি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। অন্যদের মূল ধারার দলগুলো নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে। সাধারণ নেপালিদের মধ্যেও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা আছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ভোটার তালিকায়।

ইকনোমিস্ট বলছে, নেপালের দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারত ও চীন স্পষ্টভাবে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হয়েছে। ভারত প্রধান দলগুলোর ওপর নির্বাচনে অংশগ্রহণের চাপ দিচ্ছে এবং নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনও সীমান্তে কোনো অস্থিরতা চায় না। বরং নির্বাচন আয়োজনেই জোর দিচ্ছে দেশটি। আর পশ্চিমা দেশগুলো এ বিষয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও, নীরবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থনই করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নেপালের এই নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী হওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি কারণ হলো, ভয়। ক্ষমতা হারালে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। আবার আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ আছে। তারা প্রতিশোধের শিকার হওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন।

বিষয়: নেপালআন্দোলনপার্লামেন্টসংকটজেনারেশন জেড
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ