Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা
১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১

পাকিস্তানি বাহিনী হার মানলেও ভুট্টো অনড়

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ৩৭
পাকিস্তানি বাহিনী হার মানলেও ভুট্টো অনড়

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো যুদ্ধে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার জন্য দায়ী করেন এবং এই ‘লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ’ মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

Advertisement

সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে পোল্যান্ডের প্রস্তাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বলা হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির আদেশ দিতেও বলা হয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, “আজ আমার দেশের ইতিহাসে এক গুরুতর মুহূর্তে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি এবং আমি পরিষদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন আমার সঙ্গে থাকেন এবং সত্য শোনেন, সেই তিক্ত সত্য।...আমি পাকিস্তানের এই লজ্জাজনক আত্মসমর্পণের অংশীদার হব না। আপনারা আপনাদের নিরাপত্তা পরিষদ রাখুন। আমি চললাম।”

ক্ষোভে উন্মত্ত ভুট্টো একপর্যায়ে তার সামনে থাকা খসড়া প্রস্তাবের কাগজপত্রগুলি ছিঁড়ে ফেলেন এবং নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডাকে ‘শেমফুল ক্যাপিচুলেশন (লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ)’ বলে আখ্যায়িত করে তার প্রতিনিধি দল নিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ফিরে গিয়ে তিনি ‘লড়াই করবেন’।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
কবির কাটা মাথা কাপড় শুকানোর তারে ঝুলিয়ে রেখেছিল স্বাধীনতাবিরোধীরাGemini_Generated_Image_hl4yc3hl4yc3hl4y

কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য শেষবারের মতো নির্দেশ দেন। এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হারটি ডি স্পিভাকের মাধ্যমে দিল্লির যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যুদ্ধবিরতির আরজি পাঠান।

নিয়াজির বার্তায় সাক্ষী হিসেবে সই করেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। দিল্লির যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সেটি ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ’র কাছে পাঠায়। জেনারেল মানেকশ সঙ্গে সঙ্গে বিকেল ৫টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় বিমান হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মাধ্যমে তার উত্তরে মানেকশ যুদ্ধবিরতির বদলে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। তিনি জানান, বিমানবাহিনীর আক্রমণ বন্ধ থাকলেও ভারতীয় স্থলবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অভিযান চলবে। সকাল ৯টার মধ্যে শর্তহীন আত্মসমর্পণ না করলে আবার বিমান হামলা শুরু হবে। তারা আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশনের পূর্ণ সুযোগ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

ওদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই দিন পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী জাহাজ এন্টারপ্রাইজের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের একাংশ বঙ্গোপসাগরে আসে। বহরে ছিল আক্রমণক্ষম হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ ট্রিপল ই-সহ কয়েকটি রণতরি। ট্রিপল ই-তে ছিল ২৩টি হেলিকপ্টার, অন্য জাহাজে ছিল ডেস্ট্রয়ার এবং উপকূলে অবতরণের বঙ্গোপসাগরে আসে।

বুদ্ধিজীবী হত্যা: ব্রিটিশ সাংবাদিকের বয়ানে ‘সুপরিকল্পিত চক্রান্ত’rayer bazar

সপ্তম নৌবহরের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই দিন ২০টি সোভিয়েত রণতরি ভারত মহাসাগরে এসে জড়ো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্ররা বলেন, ৯ ডিসেম্বর সুসিমা প্রণালির ভেতর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি সোভিয়েত ফ্রিগেট এবং পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণক্ষম ডুবোজাহাজও বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ভারতীয় নৌবাহিনীর সমর্থনে সোভিয়েত রণতরি ভারত মহাসাগরে অবস্থান নিলে সপ্তম নৌবহর তার দিক পরিবর্তন করে। এর মধ্য দিয়েই মূলত আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং পরাশক্তিগুলোর মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে ভারত এবং পাকিস্তানের পক্ষে বিপক্ষের তৎপরতার যবনিকা পড়ে।

তথ্যসূত্র:

United Nations Security Council (UNSC) Records: Proceedings of the 1621st and 1622nd meetings concerning the India-Pakistan situation, December 15, 1971.

দ্যা ডন সংবাদপত্র আর্কাইভ: From The Past Pages Of Dawn: 1971: Fifty Years Ago: Bhutto walks out of UN (ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১ সংখ্যা)।

আনন্দবাজার পত্রিকা, ভারত

একাত্তরের দিনপঞ্জি, সাজ্জাদ শরিফ ও রাশেদুর রহমান

বিষয়: পাকিস্তানবাংলাদেশসোভিয়েত ইউনিয়নমুক্তিযুদ্ধযুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন