Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন
রাজশাহী

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: কৃষক-ব্যবসায়ী-শ্রমিক, সবাই চাপে

আমজাদ হোসেন

আমজাদ হোসেন

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ০৪
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: কৃষক-ব্যবসায়ী-শ্রমিক, সবাই চাপে
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা জনগণ। ছবি: চরচা

সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে রাজশাহীর কৃষক, পাইকারী ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তেলের দাম বাড়ায় লাগামহীনভাবে বেড়েছে পণ্য পরিবহন খরচ। এতে একদিকে যেমন পাইকারি ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে আড়তে ক্রেতা বা বেপারী না থাকায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকরা। পরিবহন খাতের ব্যয় বাড়ায় যাত্রী ও চালকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান চরচাকে বলেন, “এটি খুবই আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কেউ তা প্রত্যাশা করেনি। যদিও সরকারের ওপরে বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দেওয়ার চাপ ছিল এবং সরকারের অনেক লস হচ্ছিল, কিন্তু এত দ্রুত এবং এত বেশি পরিমাণে বাড়াবে তা কারো প্রত্যাশায় ছিল না।”

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত সাত মাসে মোট তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল প্রথম দফায় ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা করা হয়।

জ্বালানি তেলের দাম, সত্য ও মিথ্যাতেলের দাম বৃদ্ধি

পরে ১ জুন দ্বিতীয় দফায় ডিজেল ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও কেরোসিন ১৩০ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকা করা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সবশেষ ২১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

রাজশাহী বানেশ্বর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী রায়হান চৌধুরী চরচাকে বলেন, “বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুব বেশি ভালো না, খরচটা অনেক বেশি। আগে যেটা পাঠাতে কেজিপ্রতি ৫ টাকা খরচ হতো এখন তা ৬ টাকা হয়ে গেছে। লেবার খরচ বেশি, সবই বেশি।” তিনি জানান, পাইকারি ব্যবসায় এক টাকা, দুই টাকা লাভ হলেই তাদের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এখন খরচ এক থেকে দেড় টাকা বেড়ে গেছে। ফলে লাভ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

এই ব্যবসায়ী আরও জানান, আগে যে গাড়িগুলো রাজশাহী থেকে ঢাকার ভাড়া ২০ হাজার টাকা ছিল, তা এখন ২৫ হাজার হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার কারণেই মূলত এটা হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, ফলে লোকসানের সম্ভাবনাটাই বেশি থাকছে।

কাটছে জ্বালানি সংকট, সচল হচ্ছে কারখানা, প্রশ্ন স্থিতিশীল সরবরাহ নিয়েfuel-supply-is-now-normal

বানেশ্বর বাজারের আড়তদার রমজান আলী চরচাকে বলেন, “বাজারে বেপারী নেই, অথচ বেপারীদের নিয়েই তাদের মূল ব্যবসা। বাইরের বেপারী এসে যখন দুটি মাল কেনে, তখন আড়তদারেরা কিছু টাকা পান এবং কৃষকও কিছু দাম পায়। বর্তমানে বেপারী কম কিন্তু পণ্যের আমদানি বেশি, তাই মালের দাম কৃষকও পাচ্ছেন না এবং তাদের ব্যবসাও হচ্ছে না। জ্বালানি তেলের কারণেই মূলত গাড়ি ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি ভাড়াও বেশি, এজন্যই ব্যাপরীরা অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে রাখছেন।

রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের খুটিপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ নয়জ উদ্দিন চরচাকে বলেন, জ্বালানি তেলের কারণে সাধারণ কৃষক হিসেবে তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে আছেন। বাজারমূল্যে পটল, শসাসহ যেকোনো সবজি নিয়ে আসলেও তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। কৃষিপণ্যের দাম না পাওয়ার কারণেই তারা ভোগান্তিতে আছেন, একটু দাম বেশি হলে তাদের জন্য স্বস্তি হতো।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়েছে দেশের পরিবহন খাতে। ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ায় একলাফে বাস, ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। মাঠপর্যায়ে এই বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তীব্র ক্ষোভ।

পরিবহন খাতের চিত্র তুলে ধরে বানেশ্বর আন্তঃজেলা কাউন্টার মাস্টার জিয়া চরচাকে বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া একটু বেশি হয়েছে। এই বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীদের সঙ্গে, বিশেষ করে লোকাল যাত্রীদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে এবং তারা তা মানছে না। যেমন বানেশ্বর থেকে রাজশাহীতে ভাড়া ৪০ টাকা হলেও অনেক লোকাল মানুষ ২০ টাকা দিয়ে গণ্ডগোল লাগিয়ে দিচ্ছে। কিছু বলাও যাচ্ছে না এবং নানান কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, বহু সময় মানুষের সঙ্গে গণ্ডগোলও হচ্ছে।”

ট্রাকচালক মোহাম্মদ শাওন ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় ভাড়া এবং তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় পর্যাপ্ত ভাড়া তারা বাড়াতে পারেননি বা বাড়েনি।

এক লিটার ডিজেলের ১৩৫ টাকা আসলে কোথায় যায়? oil crisis

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খানের ভাষ্য, “দ্রব্যমূল্যের দাম সামগ্রিকভাবে অনেক বেশি এবং জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা অনেকটাই বেশি। এরকম পরিস্থিতিতে মানুষ নিজেরাই কুলে উঠতে পারছিল না এবং জীবিকার ওপর বড় প্রভাব পড়ছিল, যার ওপর আবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানুষকে বড় ধরনের আশঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। জ্বালানি এমন একটি উপাদান যার বহুমুখী প্রভাব রয়েছে এবং এটি প্রতিটি জিনিসকেই প্রভাবিত করবে, যা দিনশেষে মূল্যস্ফীতিকে আরও একধাপ পুশ দেওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রাখে।”

ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “ক্ষুদ্র কৃষকদের ডিজেলের ওপর ভর্তুকি দেওয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মোটরসাইকেলের ডিজেল বা জ্বালানির ওপর ভর্তুকি দিয়ে নানাভাবে সাপোর্ট করা যায়। এই সাপোর্ট না করা গেলে দিনশেষে এই শ্রেণীটার ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে, কারণ তাদের আয় বাড়ছে না বরং কমে যাচ্ছে এবং ইনফ্লেশনের কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাই সরকারের অবশ্যই পাশে দাঁড়ানো উচিত এবং ভর্তুকি কমানোর ফলে সরকারের যে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তার একটি অংশ দরিদ্র বা নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে কোনো না কোনোভাবে আয় প্রোটেকশন হিসেবে দিলে এর প্রভাব কিছুটা হলেও মিনিমাইজ করা সম্ভব।”

বিষয়: বিএনপিরাবিরাজশাহীকৃষকব্যবসায়ীশ্রমিকমূল্যবৃদ্ধি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ২

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৩

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৪

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

  • ৫

    চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

সম্পর্কিত
  • সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

    মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সাংবাদিক নিধি রাজদানকে বিয়ে করেছেন। আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে নিজেদের বিয়ের খবর জানিয়েছেন এই দম্পতি। ৫৬ বছর বয়সী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দুজনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখে

  • ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    ভাইরাল হওয়ার নেশায় ‘উড়ছে’ বাস, কর্তৃপক্ষ করছে কী?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকবছর ধরে নতুন কিছু ভাইরাল গ্রুপ আর পেজের দেখা মিলছে। ‘বাস লাভার’, ‘ট্যুর বাস লাভার’, ‘বাস স্পটার’ নামের অনেক গ্রুপ আর পেজ দেখা যায় ফেসবুকে। এই গ্রুপ বা পেজগুলোয় বাস নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এসব গ্রুপের সদস্য বা পেজের অ্যাডমিনরা কিছুদিন পরপরই বাস ভাড়া করে দূরপ

  • সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    সংসদের সামনে ছিনতাই ও হত্যা: জামিন পাওয়া রাকিব তাহলে গ্রেপ্তার হয়েছিল কেন?

    “আমাকে গাড়িতে উঠিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ফেলে। তখনই আমার ভিতরে আত্মা নাই। এরপর র‍্যাবের (এসআরবি) অফিসে নিয়ে তাদের শেখানো স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেয় এবং কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মারে। যদি তাদের মতো করে স্বীকারোক্তি না দিই, তাহলে জামিন পাব না–এমনটিও বলেন র‍্যাবের (এসআরবি) কর্মকর্তারা”

  • খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    খুলনায় থামছেই না খুনখারাবি, ‘অসহায় পুলিশ’

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যেন অসহায়। চেষ্টা করেও খুলনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না তারা। পুলিশের অভিযোগ, ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে চাইছে না।