Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০২ নভেম্বর, ২০২৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০২ নভেম্বর, ২০২৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: রাজনীতি, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা

সহিদুল আলম স্বপন

সহিদুল আলম স্বপন

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৩৫
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: রাজনীতি, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি সতর্ক করেছে—বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়লে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও বাড়তে পারে, যদি সেই বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতায় রূপ নেয়। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণটি সরল হলেও, এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে একটি জটিল প্রশ্ন—বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত এই প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার জন্য?

Advertisement

এআই এখন আর ভবিষ্যতের কল্পবিজ্ঞান নয়; এটি বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে এআই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলতে পারে—এমনটাই বলছে আইএমএফ। কিন্তু এই আশাবাদের আড়ালে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা—বাংলাদেশ কি সত্যিই এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত?

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি এখনো স্পষ্টভাবে শ্রমনির্ভর। তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং কৃষি—এই তিনটি খাতই প্রবৃদ্ধির প্রধান স্তম্ভ। অথচ এআই বিপ্লব এই তিন ক্ষেত্রেই মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলো দ্রুত স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ও স্মার্ট ফ্যাক্টরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যেখানে মানবশ্রমের প্রয়োজন কমছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে, যেখানে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কর্মরত। দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ ছাড়া অটোমেশন একদিকে উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও, অন্যদিকে বড় আকারের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি করতে পারে।

প্রবাসী আয়ের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ এখন রোবোটিকস ও প্রযুক্তিনির্ভর শ্রমবাজার গড়ে তুলছে। ফলে স্বল্পদক্ষ বিদেশি শ্রমের চাহিদা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। এই বাস্তবতায় দক্ষতাবঞ্চিত বাংলাদেশি শ্রমিকরা আগামী দশকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই শ্রমবাজার পুনর্গঠন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন নীতির সংস্কার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বিলাসিতা নয়; এটি অনিবার্য দায়িত্ব।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এআই এক নতুন চ্যালেঞ্জ হাজির করছে। এতদিন বাংলাদেশের উন্নয়ন রাজনীতি অনেকাংশে সস্তা শ্রম ও অবকাঠামোভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই মডেল বদলে যাচ্ছে। অথচ দেশে এখনো এআই, তথ্য সুরক্ষা কিংবা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারে সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতিমালা গড়ে ওঠেনি। শক্তিশালী রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তি যুক্ত হলে তা সহজেই নজরদারি, তথ্য বিকৃতি বা রাজনৈতিক পক্ষপাতের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।

তবে সম্ভাবনার দিকটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ প্রযুক্তিমনস্ক, সৃজনশীল এবং উদ্যোক্তাপ্রবণ। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, ফিনটেক ও ই-কমার্স খাতে ইতিমধ্যেই এআইভিত্তিক স্থানীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা যদি তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল বিপণন এবং স্মার্ট লজিস্টিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তবে ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে সামাজিক বাস্তবতায় এআই একটি নতুন বিভাজনের ঝুঁকিও তৈরি করছে। এটি হতে পারে দক্ষতাভিত্তিক সমাজ, যেখানে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এগিয়ে যাবে, আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে শিক্ষা ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে বৈষম্য এখনো প্রকট, সেখানে এই ‘প্রযুক্তি ফাঁক’ সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে ডিজিটাল সমতা নিশ্চিত করা—যাতে প্রযুক্তি মানুষের মধ্যে দেয়াল নয়, সেতু তৈরি করে।

ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। চীন ও ভারতের মাঝামাঝি অবস্থান এই অঞ্চলকে আগামী দশকে এআই বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন মানচিত্রে পরিণত করতে পারে। চীন এআইনির্ভর উৎপাদনে দ্রুত এগোচ্ছে, আর ভারত বলছে “এআই ফর অল”। বাংলাদেশ যদি নিজস্ব প্রযুক্তি রোডম্যাপ ও কৌশল নির্ধারণে পিছিয়ে থাকে, তবে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রবল।

সবশেষে, এআই কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি নতুন রাজনীতির ভাষা। আগামী সরকারের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, অন্যদিকে কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতি ও ন্যায্যতা রক্ষা।

প্রশ্ন একটাই: আমরা কি গড়তে পারব একটি স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি—নাকি অজান্তেই জন্ম দেব বৈষম্যের এক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির? এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

সহিদুল আলম স্বপন: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: রাজনীতিঅর্থনীতিমুক্ত মতপ্রযুক্তিমুক্ত আলোচনাবাস্তবতাবাংলাদেশ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।