
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এই ঘটনায় ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন বলে ইতালীয় কোস্টগার্ডের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিরা গতকাল রোববার জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ৩২ জন জীবিত ব্যক্তির ভাষ্যমতে ওই জরাজীর্ণ নৌকাটিতে ১০০ থেকে ১২০ জন আরোহী ছিলেন। গত শুক্রবার গভীর রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে হালকা ওজনের কাঠের নৌকাটি অজানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।
জীবিতরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত বৈরী। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে যাত্রার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। লিবীয় জলসীমার ভেতরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় নৌকাটি। জীবন বাঁচাতে অনেকেই সাগরের হিমশীতল পানিতে ঝাঁপ দেন।
জার্মান উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’ জানিয়েছে, তাদের একটি পর্যবেক্ষণকারী বিমান শনিবার সাগরে একটি উল্টানো কাঠের নৌকার ওপর অন্তত ১৫ জনকে মরিয়া হয়ে কঙ্কালের মতো আটকে থাকতে দেখে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই চালানো ওই মানুষগুলো যখন সাহায্যের আশায় হাত বাড়াচ্ছিলেন, তখন আশপাশে বেশ কয়েকটি নিথর দেহ ভাসছিল।
ইতালির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’অ্যারিগো জানান, লিবীয় কর্তৃপক্ষের তদারকিতে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ এবং একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকৃত ৩২ জনই পুরুষ, যার মধ্যে একজন কিশোর রয়েছে। তাদের ইতালির দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে আসা হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বীপটি উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা হাজার হাজার শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইউরোপের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো এই যাত্রাকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এমন একটি হালকা ও জরাজীর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিল, যা এই উত্তাল সমুদ্রের জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না।” নিখোঁজ ৭০ জনের সন্ধানে এখনো অভিযান চললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
যদি নিখোঁজের সংখ্যা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের ভূমধ্যসাগরের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। সাবেক পোপ ফ্রান্সিস একবার ভূমধ্যসাগরকে ‘ইউরোপের বৃহত্তম কবরস্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার সেই উক্তির ভয়াবহতা আজকের এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো। প্রসঙ্গত, পোপ ফ্রান্সিস গত এপ্রিলে প্রয়াত হয়েছেন এবং তার উত্তরসূরি পোপ লিও চতুর্দশ আগামী ৪ জুলাই ল্যাম্পেদুসা সফরের পরিকল্পনা করছেন।
আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে লিবিয়া থেকে ইতালি বা মাল্টা যাওয়ার পথে।
এই ঘটনার পর মানবাধিকার ও উদ্ধারকারী সংস্থা ‘মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস’ ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, “এই নৌকাডুবি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতির সরাসরি ফলাফল। তারা নিরাপদ এবং আইনি প্রবেশের পথ বন্ধ করে রাখায় মানুষ নিরুপায় হয়ে এই মৃত্যুফাঁদ বেছে নিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরই কেবল কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত সপ্তাহেও ল্যাম্পেদুসা থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ডিঙি নৌকা থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল ইতালীয় কোস্ট গার্ড। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন ছিলেন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার।
আরও পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।