
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
নভোনীল রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মাটি খুঁড়ে এক কেজির বেশি ওজনের স্বর্ণের খণ্ড পেয়েছেন এক শৌখিন স্বর্ণসন্ধানী। খণ্ডটিতে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ বাংলাদেশের প্রচলিত হিসাবে ৮০ ভরির বেশি। এর বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার হলেও বিরল সংগ্রহযোগ্য বস্তু হিসেবে বিক্রি হলে দাম দুই লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশা করছেন স্বর্ণসন্ধানী।
গতকাল সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় টিবুবুরা শহরের কাছে মাউন্ট স্টুয়ার্ট স্টেশনে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে স্বর্ণের খণ্ডটি পাওয়া যায়।
ব্রোকেন হিল এলাকার ওই শৌখিন স্বর্ণসন্ধানী কয়েক দিন ধরে ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র দিয়ে স্বর্ণ খুঁজছিলেন। একদিন অনুসন্ধান শেষ করার প্রস্তুতির সময় তার যন্ত্রে একটি দুর্বল সংকেত ধরা পড়ে। প্রথমে সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও মাটি খুঁড়তে শুরু করেন তিনি।
প্রায় ১০ সেন্টিমিটার গভীরে পৌঁছানোর পর যন্ত্রটি জোরালো সংকেত দিতে থাকে। কিছুটা মাটি সরাতেই চোখে পড়ে উজ্জ্বল হলুদ রঙের একটি অংশ। পরে সেটি তুলে বুঝতে পারেন, তিনি অত্যন্ত মূল্যবান একটি স্বর্ণের খণ্ড পেয়েছেন।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোয়ার্টজ খনিজমিশ্রিত খণ্ডটির মোট ওজন এক হাজার ২১৮ গ্রাম। এর মধ্যে প্রায় ৯৪০ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে। স্বর্ণসন্ধানী খণ্ডটির নাম দিয়েছেন ‘টিবুবুরা স্পাড’।
নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়া ওই শৌখিন স্বর্ণসন্ধানী এবিসি নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ অনুসন্ধান করলেও বেশির ভাগ সময় তিনি পুরোনো পেরেক, গুলির খোসা, ঘোড়ার নালসহ নানা পরিত্যক্ত ধাতব বস্তু পেয়েছেন। এবারের আবিষ্কার তার জন্য এক বিরল অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশের হিসাবে প্রায় ৮১ ভরি স্বর্ণ
বাংলাদেশে সাধারণত ভরি হিসেবে স্বর্ণের ওজন ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
সে হিসাবে আবিষ্কৃত খণ্ডটিতে থাকা প্রায় ৯৪০ গ্রাম স্বর্ণ বাংলাদেশের প্রচলিত হিসাবে প্রায় ৮০ দশমিক ৬ ভরির সমান।
তবে প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া স্বর্ণের খণ্ডের মূল্য এবং বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অলংকারের দাম এক নয়। স্বর্ণের বিশুদ্ধতা, বাজারদর, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংগ্রহযোগ্য বস্তু হিসেবে এর বিশেষ মূল্য চূড়ান্ত দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
বিরল আবিষ্কারে নতুন আগ্রহ
ব্রোকেন হিলে দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্বর্ণ অনুসন্ধানের সরঞ্জাম বিক্রি করছেন গ্রেগ স্প্যাংলার। এবিসি নিউজকে তিনি জানান, এত বছরের অভিজ্ঞতায় এক কেজির বেশি ওজনের স্বর্ণের খণ্ড পাওয়ার ঘটনা তিনি আর মাত্র একবার দেখেছেন।
সাধারণত স্বর্ণসন্ধানীরা ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরা কিংবা কণা পেয়ে থাকেন। এত বড় খণ্ড পাওয়া অত্যন্ত বিরল।
স্প্যাংলারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের উচ্চ বাজারমূল্য শৌখিন অনুসন্ধানকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
টিবুবুরা অঞ্চলে স্বর্ণের অনুসন্ধানের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। উনিশ শতকের আশির দশকে সেখানে স্বর্ণের সন্ধান পাওয়ার পর বহু মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ওই এলাকায় আসতে শুরু করেন। সেই ঐতিহাসিক পরিচয় এখনো অঞ্চলটির পর্যটন আকর্ষণের একটি অংশ।

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ মানুষও খুঁজতে পারেন স্বর্ণ
অস্ট্রেলিয়ায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের শৌখিনভাবে স্বর্ণ অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে এই কার্যক্রম ‘ফসিকিং’ নামে পরিচিত।
নিউ সাউথ ওয়েলসে অনুমোদিত স্টেট ফরেস্টগুলোতে শৌখিন স্বর্ণ অনুসন্ধানের জন্য ১২ মাস মেয়াদি অনুমতিপত্রের মূল্য ২৭ দশমিক ৫০ অস্ট্রেলীয় ডলার। একটি অনুমতিপত্রের আওতায় নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার অংশ নিতে পারে।
অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ১০ বছর মেয়াদি ‘মাইনার্স রাইট’ অনুমতিপত্রের মূল্য ২৯ দশমিক ৪০ অস্ট্রেলীয় ডলার।
তবে দুই রাজ্যের নিয়ম এক নয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকারসংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বর্ণ অনুসন্ধানের জন্য পৃথক অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শৌখিন অনুসন্ধানে নির্ধারিত হাতে পরিচালিত সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়। পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে এমন নিষিদ্ধ যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা আইনবিরুদ্ধ।
যে টিবুবুরা এলাকায় স্বর্ণের খণ্ডটি পাওয়া গেছে, সেখানকার কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সোনা অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে টিবুবুরা কমন এলাকায় বর্তমানে ভূমি অধিকারসংক্রান্ত অনুমতির বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়ায় শৌখিন স্বর্ণ অনুসন্ধান নিষিদ্ধ রয়েছে।
ফলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ যে কেউ এ ধরনের শৌখিন অনুসন্ধানে আগ্রহী হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার অনুমতি ও সরকারি নিয়ম আগে যাচাই করা জরুরি।
এক কেজির বেশি ওজনের এই বিরল স্বর্ণের খণ্ড আবিষ্কার আবারও অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে স্বর্ণ অনুসন্ধানে নামলেই এমন মূল্যবান কিছু পাওয়া যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর
মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’
‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’
চুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন, এক মাসের ঘাটতি মিটবে কীভাবে?

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।