
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
চরচা প্রবাস ডেস্ক

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রচলিত জনশক্তি রপ্তানির সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে দক্ষ কর্মী অভিবাসন, বিনিয়োগ, বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন এক সেমিনারে বক্তারা।
তারা বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় দেশটির পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মশক্তি উন্নয়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে ন্যায্য নিয়োগপ্রক্রিয়া, শ্রমিকদের অধিকার এবং অভিবাসী কর্মীদের উন্নত সুরক্ষা।
আজ শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস) যৌথভাবে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক (পূর্ব ও পশ্চিম) অনুবিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
হুমায়ুন কবির পারস্পরিক আস্থা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি শ্রমিকদের অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কৃষি, যোগাযোগব্যবস্থা, সরবরাহ ও পরিবহন-সংক্রান্ত লজিস্টিকস, সরবরাহব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্য উদীয়মান খাতে দুই দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্ককে প্রচলিত শ্রম অভিবাসনের গণ্ডি থেকে বের করে বৃহত্তর কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, কার্যকর তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের ওপরও গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দক্ষ কর্মী অভিবাসন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ভূমিকামূলক বক্তব্যে এনএসইউর উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করা হলে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সেমিনারে দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনএসইউর অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের সমন্বয়ক সেলিম রেজা।
নুরুজ্জামান বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের উদীয়মান সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তার আলোচনায় গুরুত্ব পায় অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ এবং মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কৌশলগত তাৎপর্য।
সেলিম রেজা প্রচলিত জনশক্তি রপ্তানির মডেলকে দক্ষতাভিত্তিক অংশীদারত্বে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে ন্যায্য নিয়োগপ্রক্রিয়া, শ্রমিকদের অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন ও কার্যকর শ্রমিক সুরক্ষার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আরও টেকসই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে সৌদি আরবের শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা নিয়ে কর্মীদের প্রস্তুত করতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ উজ জামান মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৌশলগত ভূমিকা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডেটা অবকাঠামোর মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।
বিআইআইএসএসের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো বেনুকা ফেরদৌসী বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের গন্তব্য বহুমুখী করার এবং সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল শ্রমবাজার নীতি, বিশেষ করে নিতাকাত কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে সক্ষম দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি প্রতিষ্ঠান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ, যুব সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা শ্রম অভিবাসন, বিনিয়োগ, বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ ও কর্মশক্তি উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা বলেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক থেকে বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এনএসইউর স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক শেখ তৌফিক এম হক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন।
অভিবাসনপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সুরক্ষায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।