Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> জীবনচরচা

হাম হলে কী করণীয়?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৪৪
হাম হলে কী করণীয়?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। তবে হামের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয় প্রাপ্ত বয়স্করাও। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের জন্য হাম বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই রোগ হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisement

হামের লক্ষণসমূহ

হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। সাধারণত শুরুতে উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং গলায় ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরের দু-তিন দিন পর গালের ভেতরের দিকে নীলচে-সাদা ছোট ছোট দাগ দেখা দিতে পারে। এর পর পুরো শরীরে লালচে গুটি বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে এই র‍্যাশ ক্রমে হাত-পা ও সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়।

হাম খুবই ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশি ও সংস্পর্শের মাধ্যমে মুহূর্তেই এর ভাইরাস আক্রান্ত কারো কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে এটি এলাকাজুড়ে ছড়াতে পারে।

র‍্যাশ হওয়ার আগে কীভাবে হাম শনাক্ত করা যায়?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বেশিরভাগ মানুষ শরীরে র‍্যাশ দেখে বোঝেন যে কারো হাম হয়েছে। কিন্তু এই র‍্যাশ হওয়ার আরও ৩-৫ দিন আগেই এই হাম শুরু হয় এবং সে সময় রোগী যাদের সংস্পর্শে এসেছে তারাও ইতোমধ্যে এতে আক্রান্ত হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। র‍্যাশ ওঠার জন্য অপেক্ষা করলে অনেক দেরি হয়ে যায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখনই কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর-কাশি-সর্দির মতো উপসর্গ দেখা যাবে, তখনই তাকে আলাদা রাখতে হবে। পাশাপাশি গলা ব্যাথা শুকনো কাশি, কঞ্জাংক্টিভাইটিস মানে চোখ লাল হওয়া, চোখ থেকে পানি পড়ার মত উপসর্গ দেখা দিলেও একইভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর ভেবে অবহেলা করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যদি এসব উপসর্গ দেখা যায়, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে, তাহলে তাকে বাড়িতে রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা করা জরুরি।

সঠিক পরিচর্যা

হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর সরাসরি কোনো ওষুধ নেই। তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে এর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

বিশ্রাম ও আইসোলেশন

হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা ঘরে রাখা উচিত। অন্তত র‍্যাশ দেখা দেওয়ার পর ৪ থেকে ৫ দিন রোগীকে অন্যদের থেকে দূরে রাখুন। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

পর্যাপ্ত তরল খাবার

জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, ডাবের পানি এবং স্যুপ খাওয়ানো উচিত। শিশু যদি মায়ের দুধ পান করে, তবে তা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।

হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। ছবি: ফ্রিপিক
হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। ছবি: ফ্রিপিক

জ্বর নিয়ন্ত্রণ

জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। শরীর হালকা গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জ করে দিলে রোগী আরাম পায়। তবে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ এড়িয়ে চলতে হবে।

ভিটামিন এ গ্রহণ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম হলে শরীরে ভিটামিন এ-র অভাব দেখা দেয়, যা চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। এটি হামের জটিলতাও অনেকটা কমিয়ে দেয়।

পুষ্টিকর খাবার

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত সহজপাচ্য খাবার খাওয়াতে হবে। অনেক সময় মুখে ঘা হওয়ার কারণে রোগী খেতে চায় না, সেক্ষেত্রে নরম বা তরল খাবার দেওয়া ভালো।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

হাম সাধারণ যত্ন নিলেই সেরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে:

  • যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
  • প্রচণ্ড কানে ব্যথা হলে (যা কান পাকার লক্ষণ হতে পারে)।
  • যদি অনবরত বমি বা পাতলা পায়খানা হয়।
  • রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যায় বা খিঁচুনি দেখা দেয়।
  • চোখের মণি ঘোলা হলে বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে।

প্রতিরোধই মূল সমাধান

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো এমআর টিকা। সরকারের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন নয় মাসের বদলে ছয় মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ দেবে। যারা শৈশবে টিকা নেয়নি, তারাও চিকিৎসকের পরামর্শে এটি গ্রহণ করতে পারেন।

হাম থেকে বাঁচতে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার। শিশুকে সময়মতো টিকা দিন এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে হাম কোনো ভয়ের কারণ নয়।

তথ্যসূত্র: অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট, বিবিসি

বিষয়: প্রতিরোধভাইরাসজ্বর-সর্দি-কাশিজীবনধারাচিকিৎসাচিকিৎসক
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    ঘুম ও বিষণ্নতা জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে

    আমাদের ২৪ ঘণ্টার সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ছন্দ মূলত আলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের চোখ মস্তিষ্কের প্রধান ঘড়িতে সংকেত পাঠায়, যা শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া—যেমন জেগে থাকা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

  • মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    মেধা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখার উপায়

    বয়স বাড়লে মানসিক ক্ষমতা কমে যাওয়া খুব সাধারণ একটি বিষয়, যা বার্ধক্যের অন্যতম একটি ভীতিজনক দিক। তবে বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া কিন্তু একেবারেই অনিবার্য নয়।

  • সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?

    গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

  • সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?

    ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।