রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহতের ঘটনায় আটক কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন ওই অভিযুক্ত কিশোরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের এ আবেদন করেন। জামিন আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত কিশোর গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী একজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো সত্বেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
এর আগে, অভিযুক্ত শিশুকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারের ডানপাশের ড্রাইভিং সিট থেকে ওই কিশোরকে দরজা খুলে বের হতে দেখা যায়। তদন্তে ওই কিশোরের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যহত আছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কিশোরকে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
এদিকে, মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, আসামি আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে প্রাইভেট চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করে মৃত্যু ঘটায়।