খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এই হত্যার বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারে শত শত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে সামনে আরও কঠিন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুপুর ১টার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনায় খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলাকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। ফলে যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। অতিসত্বর তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের চেষ্টা করা হবে।”
নিহত আজমুল হোসেন খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার মসজিদ গলির মেসে ভাড়া থাকতেন।
গত শুক্রবার রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছাদ থেকে তাকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।