বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে উপসাগরীয় উপকূলের দাহরানে নিজেদের সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয় ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুতিদের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুতিরা অগ্রসর হওয়ার পর থেকে এ সংঘাত চলছে।
কর্মীদের ভবন ছেড়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরামকো ও দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথমবারের মতো কোম্পানিটির কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা হতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি আরামকো।
কী কারণে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, আরামকোর সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবরের পর বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক তাসি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল থেকে সরবরাহে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে বৃহস্পতিবার তেলের দাম মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু শহরে আরামকোর স্থাপনা এবং রাজধানী রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার বিষয়টি নিশ্চি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা রিয়াদ এবং পবিত্র নগরী মদিনার আকাশে ড্রোন প্রতিহত করেছে। মদিনার কাছেই অবস্থান ইয়ানবু শহরের।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুতি মিলিশিয়াদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে বন্ধ ছিল। নতুন এই সংঘাত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে আরেকটি রণাঙ্গন তৈরি করেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর দাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তর। ২ জুলাই ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
চলতি মাসের শুরুর দিকে হুতিদের হামলায় আরামকোর সদর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভবনটিতে হামলার পর কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
চলতি মাসে হুতিরা বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তারা এর আগে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আভা বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে বারবার হামলা চালিয়েছে।