ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদলের এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে আলমদি গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা (৩৮) ও শামীম মোল্লার (৩৬) বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া, অপর অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন ওরফে নান্নু মোল্লার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শুক্রবার রাতে সাতলা এলাকায় যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলায় আহত রাশেদ আমিন হাওলাদার জানান, সাতলা সেতুর কাছে তাদের ওপর হামলা হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
কিন্তু ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাওসারকে কোপায়। রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচলেও কাওসার গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা কাওসারকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাশেদের অভিযোগ, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জেরেই কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে ঢাকা ও বরিশাল থেকে লোকজন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে সাতলায় আসে।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করার অভিযোগে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার টোল প্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
তিনি বলেন, “রাতে কেউ তিন অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।”
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।