যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার ইউক্রেনের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়নি রাশিয়া। তবে রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দেশটির বিভিন্ন শহরের পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মস্কো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাতের হামলা নিয়ে দেওয়া দৈনিক বিবরণীতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার কোনো উল্লেখ করেনি। ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র শুধু বলেন, এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত রোববার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দুই দিন আগে ট্রাম্প রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে একটি চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন। এর আওতায় রাশিয়াকে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হয়, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গত দুই দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার কোনো তেল শোধনাগারে হামলা চালায়নি। তবে এ সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে। সোমবারও রাশিয়া ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়।
মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এড়িয়ে গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে চারজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত আরও এক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাতভর হামলায় ১৭টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার ছোড়া ১০৮টি ড্রোনের মধ্যে ৮৮টি ভূপাতিত করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলের একটি পণ্য পরিবহন টার্মিনাল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খারকিভে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় খমেলনিতস্কি অঞ্চলে একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করলে দেশটিকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেলেনস্কির দপ্তরের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে কিয়েভে রাশিয়ার ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের আগে তারা কোনো আগাম নজরদারিমূলক সতর্কবার্তা পায়নি। এ ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মন্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।