
আন্তর্জাতিক ক্রয়ের আওতায় কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

জাহাজে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫-৬ হাজার টন ডিজেল বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে খালাস (লাইটারিং) করতে হবে। এই কাজ শেষ করতে অন্তত দুই দফা অপারেশন প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো নবম জাহাজ। আজ শুক্রবার বিকেলে জাহাজটি ডলফিন জেটিতে নোঙর করেছে বলে জানিয়েছেন বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মোমিতা।

গত ১১ ও ২৩ মার্চ একই পাইপলাইনের মাধ্যমে দুই দফায় ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। সর্বশেষ চালানসহ এ পর্যন্ত ভারত থেকে পাইপলাইনে মোট ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

ব্রিফিং এ আরো জানানো হয়, গত শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে অনলাইন সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে সারা দেশের সকল পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে।

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একইসঙ্গে বাজার তদারকিতে সারা দেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসার কথা রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আগামীকাল মঙ্গলবার বন্দরের ডলফিন জেটিতে জাহাজটি বার্থিং করার পরিকল্পনা আছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত আমদানির অভাব নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাজাত সংকট। সরকার যদি গত বছরের ‘কোটা পদ্ধতি’ থেকে সরে এসে বর্তমানের বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ায়, তবে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।

পরিবহন মালিক ও চালকদের অভিযোগ, সরকার জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করে দেওয়ার পর তেলের পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে ৭০ লিটার ডিজেল দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ২০ থেকে ৩০ লিটারের বেশি মিলছে না। ফলে একটি বাসের জন্য ৮-১০টি পাম্প ঘুরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। ইতোমধ্যে এই জ্বালানি তেলের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার একদিকে ভারত থেকে পাইপলাইনে আমদানি বাড়াতে চায়।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার একদিকে ভারত থেকে পাইপলাইনে আমদানি বাড়াতে চায়।