গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।”
ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে। বাসা-বাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ট্যারিফের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অফশোর ও অনশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।”
আমির খসরু বলেন, “মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দেশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।”
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে। এরপর অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়বে।