হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান।
গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি তাদের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “আমরা বারবার বলেছি, হরমুজ প্রণালি কেবল শত্রুপক্ষের যাতায়াতের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি এখনো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
জোলফাগারি আরও জানান, ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করে এমন নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে ‘নিরাপদ যাতায়াত’ এখনো অনুমোদিত।
মুখপাত্র জোলফাগারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তার একটি তালিকা দেন তিনি। সেগুলো হলো—
- ইরানের বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এটি আর খোলা হবে না।
- ইসরায়েলের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
- এই অঞ্চলে যেসব কোম্পানির মার্কিন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, সেগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
- প্রতিবেশী যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।”
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবে। এতে পুরো অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।