সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) দফায় দফায় মারধর, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় হামলা ও তার মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে হামলার উসকানি, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং অনলাইনে হুমকি দেওয়ার পরও সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ব্লাস্ট। একই সঙ্গে হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।
পাশাপাশি, নিহতের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে সংস্থাটি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত সোমবার শামীম ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পর দিন মঙ্গলবার বিকেলে ফজলুল হক আমিনী তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন, তার বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
পরে আরেকটি লাইভে তিনি শামীমের চিকিৎসাধীন অবস্থানের সামনে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে সেখানে কয়েকশ মানুষ জড়ো হন এবং একপর্যায়ে শামীমকে পল্লী চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের করে দফায় দফায় মারধর করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলেও রাতে শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে পুনরায় মারধর করেন এবং টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে আবারও আঘাত করেন। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম মৃত্যুবরণ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, যেকোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের সহিংসতা আইনের শাসন, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।