ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় অন্যকে ফাঁসানোর অভিযোগে এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পৃথক তদন্তে মিথ্যা ও সাজানো বলে প্রমাণ পাওয়ায় যায়।
গতকাল রোববার ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবদুল হামিদ ২৮ বছর বয়সী লাবলী আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খবর ইউএনবির।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গীর উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা) গ্রামের লাবলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় একই এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের (৩২) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।
এজাহারে লাবলী অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ নুরুল ইসলামের ভুট্টাক্ষেতে তাকে একা পেয়ে সাদ্দাম জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশ প্রথমে অভিযোগটি তদন্ত করে মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো বলে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদ্দামের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং আর্থিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়।
তবে লাবলী পুলিশের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।
এরপর ট্রাইব্যুনাল ঠাকুরগাঁও পিবিআইকে আরও তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইও তদন্ত শেষে অভিযোগটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে প্রতিবেদন দেয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে সাদ্দামকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭(১) ধারায় লাবলীর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন আদালত এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রোববার লাবলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত লাবলীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।