সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে বাংলাদেশ। সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেই অনুলিপি পাওয়া গেলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’’
মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং সংঘাতে নিহত হওয়ার কারণে বিশেষ অনুদান হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আশিকের নিয়োগকর্তা সৌদি আরবের সাদ আল-ইসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি তার বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬২ সৌদি রিয়াল জমা দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা। এই অর্থ রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবে জমা হয়েছে। শিগগিরই প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ছাড়া বৈধ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ড অথবা সমমানের পরিচয়পত্র থাকলে নিহতের পরিবার আরও ৩ লাখ টাকা পেতে পারে। পাশাপাশি প্রযোজ্য বিমা সুবিধার আওতায় পরিবারটি আরও ১০ লাখ টাকা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ১০ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজন বাংলাদেশিসহ আরও ৩০৮ জন আহত হন।
নিহত শাহেদ আহমেদ আশিকের বয়স ছিল ৩৫ বছর। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে।