সচরাচর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলোতে বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য প্রায়ই তাকিয়ে থাকতে হয় নানা সমীকরণের দিকে। একই চিত্র এবার চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও। নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, যেখানে আফগানিস্তানকে শুধু হারালেই তা যথেষ্ট হবে না।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানে হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। আর তাতেই ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে আছে বাংলাদেশের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ফাইনালের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে আফ্রিকার দলটির।
প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচটির সমীকরণ ছিল বেশ পরিষ্কার। ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অন্তত ১৯৬ রান করতে পারলেই হেরে গেলেও ফাইনা নিশ্চিত হয়ে যেত তাদের। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে জিম্বাবুয়ে। আর তাতেই টিকে গেছে বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা।
দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের নেট রান-রেট -০.৫৯। আর বাংলাদেশের -১.৯৮। তাই নাজমুল-তাসকিনদের ফাইনালে যেতে হলে শুধু জয় পেলেই চলবে না, হিসাব মেলাতে হবে নেট রান রেটেরও। জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে আফগানিস্তানের সঙ্গে ফাইনাল খেলতে হলে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে নির্দিষ্ট ব্যবধানে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।
আগামী বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করলে কমপক্ষে ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। আর রান তাড়া করতে নামলে প্রতিপক্ষের দেওয়া লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করবে জয়ের সমীকরণ।
যেমন, আফগানিস্তান যদি বাংলাদেশকে ২৫০ রানের লক্ষ্য দেয়, তাহলে সেই রান ৪১.৩ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে হবে বাংলাদেশকে। তাহলেই নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অলিখিত সেমিফাইনালে। বাংলাদেশকে জিততে হবে, পাশাপাশি নজর রাখতে হবে রান রেটের দিকেও। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের জন্য ম্যাচটি অনেকটাই নিয়মরক্ষার। জিতলে তো বটেই, এমনকি ২১৬ রানের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনাল খেলবে তারা।