Advertisement Banner

এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে নতুনদের জায়গা নিয়ে নেবে এআই?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে নতুনদের জায়গা নিয়ে নেবে এআই?
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার একমাত্র কারণ এআই নয়, সংকটের সময়ে সাধারণত তরুণ কর্মীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ছবি: রয়টার্স

যেকোনো সংগঠনের কাঠামো ও জ্যামিতি নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তারা জানেন, প্রচলিতভাবে কোম্পানির কাঠামো পিরামিডের মতো। এর মানে হলো নিচে অনেক কর্মী থাকেন, আর ওপরে একক শীর্ষ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন কমে গেলে এই পিরামিড কাঠামো অতীত স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যতের প্রতিষ্ঠান হবে ওবেলিস্কের মতো, আকৃতিতে কাছাকাছি হলেও প্রতিটি স্তরে কম কর্মী। আবার যদি উদ্যোক্তারা একাই বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন, তবে ভবিষ্যতের কাঠামো হয়তো এক বিন্দুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার প্রতীক হলো ‘ডায়মন্ড’ বা হীরকাকৃতি কাঠামো। যদি এআইয়ের প্রভাবে এন্ট্রি-লেভেল ও নতুনদের চাকরি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে হোয়াইট-কলার (দাপ্তরিক, প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা–সম্পর্কিত কাজ) প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওপর ও নিচের স্তর সরু হয়ে মাঝের স্তর প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। এ সম্পর্কিত গবেষণায় এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যও একরকম নয়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিক ব্রিনইলফসন ও তার সহকর্মীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও কাস্টমার সার্ভিস খাতের চাকরিতে ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের সংখ্যা অনেক কমেছে। কিংস কলেজ লন্ডনের বাউকে ক্লেইন টিসেলিঙ্কের আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এআই বেশি ব্যবহার করা হয়, তারা এন্ট্রি-লেভেল নিয়োগ কমাতে বেশি আগ্রহী।

তবে পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মরগান ফ্র্যাঙ্ক ও তার সহ-লেখকদের নতুন এক গবেষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর আগেই এআই-প্রভাবিত শিল্পখাতে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির সম্ভাবনা অবনতির দিকে যাচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার একমাত্র কারণ এআই নয়, সংকটের সময়ে সাধারণত তরুণ কর্মীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ বয়স্ক কর্মীরা তাদের চাকরি আঁকড়ে ধরে থাকেন।

তবে মৌলিক বিশ্লেষণ বলছে, এআইয়ের কারণে এন্ট্রি-লেভেল চাকরি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। নতুন কর্মীরা সাধারণত কর্মজীবনের শুরুতে নথিপত্রভিত্তিক সাধারণ কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এখন সেই কাজ দ্রুত, সস্তা ও বেশি দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে মেশিন। তাছাড়া মেশিনতো প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিব্রতকর প্রশ্নও তোলে না।

এআইয়ের কারণে এন্ট্রি-লেভেল চাকরি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। ছবি: রয়টার্স
এআইয়ের কারণে এন্ট্রি-লেভেল চাকরি নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে। ছবি: রয়টার্স

যদি জুনিয়র কর্মীরা নিজেরাই এআই ব্যবহার করে কাজ শেষ করে ফেলেন, তাহলে তারা আদৌ কতটা শিখছেন, সে প্রশ্নও উঠছে। আর যদি ভবিষ্যতের কাঠামো হয় ডায়মন্ড আকৃতির, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো কেন অন্য কাউকে দিয়ে নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পরে তাদের নিয়োগ দেবে না?

তবে ব্যবস্থাপকদের এন্ট্রি-লেভেল চাকরি না কমানোর তিনটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদে এআই কাজের ধরনে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয়ত, প্রশিক্ষিত কর্মী চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ব্যবস্থা না থাকা আরও বড় ঝুঁকি।

তৃতীয়ত, কর্মী ছাঁটাই না করে স্বাভাবিকভাবে কর্মীসংখ্যা কমানো কম ঝামেলার মনে হলেও, এভাবে এআই দিয়ে দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা যায় না।

নতুন কর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তাদের মধ্যে পুরনো অভ্যাস গেঁড়ে বসতে দেখা যায় না। অনেক তরুণ এআইকে সন্দেহের চোখে দেখলেও তারাই তুলনামূলক বেশি ব্যবহার করেন।

ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন দ্বিগুণেরও বেশি।

আমেরিকার চাকরি খোঁজার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইনডিডের এআই প্রধান হান্না ক্যালহুন বলেন, “এন্ট্রি-লেভেল প্রতিভাকে আমরা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে দেখি।” অভিজ্ঞ কর্মীর বদলে আবার অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ না দিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে তিনি।

শুস্মিথস নামের এক আইন সংস্থা তাদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় উদ্ভাবন ও লিগ্যাল-টেক টিমে কাজের সুযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছে।

সংস্থাটি বলছে, এন্ট্রি-লেভেল চাকরি আরও উন্নত হতে পারে। যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণরত আইনজীবীরা আগে অনেক সময় গবেষণা, নোট নেওয়া ও খসড়া তৈরিতে ব্যয় করতেন। এআই এসব কাজ করলে তারা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলা বা দরকষাকষির মতো কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন।

এআই ব্যবহার থেকে লাভ বাড়ানোর চাপে অনেক প্রতিষ্ঠান এন্ট্রি-লেভেল চাকরি কমাতে প্রলুব্ধ হতে পারে। তবে জুনিয়র কর্মীদের কাজের ধরন নতুন করে ভাবাই হলো সবচেয়ে ভালো পথ।

সম্পর্কিত