Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

নারীকে কি ‘বস্তু’ হিসেবে দেখেন? আপনার দরকার ইলেকট্রিক শক!

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ৩৭
নারীকে কি ‘বস্তু’ হিসেবে দেখেন? আপনার দরকার ইলেকট্রিক শক!
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখা বা সেক্সুয়ালি অবজেক্টিফাই করার কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন উদাহরণ প্রায়ই চোখে পড়ে। কখনো নারীকে খাবারের সঙ্গে, কখনো আবার বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। অর্থাৎ, একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে উপেক্ষা করে আলোচনা হয় কেবল নারীর শারীরিক অবয়ব ঘিরে।

Advertisement

এই প্রবণতা কমানোর কোনো উপায় কি আছে? নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। মাথার ওপরের ভাগে বৈদ্যুতিক হালকা শক দিয়ে মস্তিষ্কের যে অংশটি নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে–এমনই জানাচ্ছে গবেষণাটি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, মাথার ত্বকে ১০ মিনিট ধরে মৃদু বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করলে যৌন আবেদনময় ভঙ্গিতে থাকা নারীদের সোজা ছবি চেনার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের এমন যৌন আবেদনময় সোজা ছবি চেনার ক্ষেত্রে যে পার্থক্য সাধারণ অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল, সেটিও আর ছিল না। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে তূলে ধরা হয় এই খবর।

বিষয়টি একটু কঠিন মনে হচ্ছে?

চলুন, সহজ একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক।

সামনে একজন মানুষের সোজা ছবি রাখা হলো। পাশে রাখা হলো একই মানুষের উল্টো করা ছবি। সাধারণত সোজা ছবিতে থাকা মানুষের মুখ ও শরীর চেনা সহজ হয়। কিন্তু ছবিটি উল্টো করে দিলে তা চিনতে বেশি অসুবিধা হয়। জড়বস্তুর ক্ষেত্রে অবশ্য ছবি সোজা না উল্টো, তা চেনার ওপর তুলনামূলকভাবে কম প্রভাব ফেলে।

আগের গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু যৌন আবেদনময় নারীদের ছবির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা।

নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ঠেকাতে পারছে ৯৯৯?national-emergency

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ উভয় দর্শকের ক্ষেত্রেই যৌন আবেদনময় নারীদের সোজা ও উল্টো ছবি চেনার মধ্যে পার্থক্য তুলনামূলকভাবে কম। পুরুষদের এমন ছবির ক্ষেত্রে কিন্তু এই পার্থক্য এতটা কমেনি। গবেষকদের ধারণা, নারীদের যৌন আবেদনময় ছবিকে মস্তিষ্ক অনেকটা জড়বস্তুর ছবির মতো করে প্রক্রিয়াজাত করে।

নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখা বলতে কী বোঝায়?

গবেষণাটির নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক সিরো সিভিলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “একটা শরীরকে যৌনবস্তু হিসেবে দেখার অর্থ হলো, তাদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে না দেখে কেবল দেখা বা ব্যবহারের জন্য একটি শরীর হিসেবে বিবেচনা করা। এতে তাদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। আর এমন আচরণের শিকার সবচেয়ে বেশি হন নারীরা।”

এই প্রবণতার প্রভাব শুধু দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার সঙ্গে একজন নারীকে হয়রানি সহ্য করতে হওয়ার প্রবণতা, নিজের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

কীভাবে পরীক্ষা চালালেন গবেষকরা?

সোশ্যাল নিউরোসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশ নেন ৫৪ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ শিক্ষার্থী।

প্রথমে তাদের অন্তর্বাস পরা নারী মডেলদের যৌন আবেদনময় ছবি দেখানো হয়। ছবিগুলো সোজা ও উল্টো, দুই অবস্থাতেই দেখানো হয়েছিল। এরপর আগে দেখানো ছবির সঙ্গে নতুন কিছু ছবি মিশিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা আগে দেখা মডেলদের চিনতে পারছেন কি না।

বাণিজ্যিকীকরণ, স্বজনপ্রীতি ও স্বীকৃতির অভাবে কৃষিতে কমছে নারীর অংশগ্রহণwoman farmer

এরপর অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করা হয়। এক দলের মাথার ত্বকে ১০ মিনিট ধরে মৃদু বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। অন্য দলকে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উদ্দীপনা দিয়ে প্লাসিবো চিকিৎসা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে প্রকৃত চিকিৎসার মতো প্রভাব তৈরির উদ্দেশ্যে একটি তুলনামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী ও গবেষক, কেউই জানতেন না কে কোন দলে রয়েছেন।

ফলাফলে দেখা যায়, প্লাসিবো পাওয়া দলের অংশগ্রহণকারীরা পুরুষ মডেলদের উল্টো ছবির তুলনায় সোজা ছবি সহজে চিনতে পেরেছেন। অর্থাৎ, সোজাভাবে দেখানো ছবি তো সহজেই চিনেছেন, তবে উল্টোভাবে দেখানো ছবি অতটা চিনতে পারেননি। কিন্তু নারী মডেলদের ছবির ক্ষেত্রে এই ব্যবধানটা অনেক কম ছিল।

অন্যদিকে, প্রকৃত বৈদ্যুতিক শক পাওয়া দলের অংশগ্রহণকারীরা নারীদের সোজা ছবি আগের তুলনায় ভালোভাবে চিনতে পেরেছেন। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের উল্টো ছবি চেনার ক্ষেত্রে আগের পার্থক্যটিও আর দেখা যায়নি।

তাহলে কি বৈদ্যুতিক শক দিয় যৌনবৈষম্য দূর হবে?

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। গবেষণার ফলাফল দেখে এমনটা ভাবার কারণ নেই যে, মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা দিলেই নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর হয়ে যাবে।

অধ্যাপক সিভিলে বলেন, “আমাদের গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল বলছে, মস্তিষ্কে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রয়োগ করে যৌন আবেদনময় নারীদের ছবি দেখার ও বোঝার প্রক্রিয়ায় অন্তত সাময়িকভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

কিন্তু সেক্সিজম বা যৌনবৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি এখনই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়, সে ব্যাখ্যায় সিভিলে বলেন, “এটি ছিল পরীক্ষাগারে পরিচালিত একটি গবেষণা। আমরা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ পরিমাপ করিনি। আর মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা কোনোভাবেই যৌনবৈষম্য দূর করার সমাধান নয়। তবে নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য এই গবেষণা নতুন একটি পথ খুলে দিয়েছে।”

আগে এ ধরনের পক্ষপাত কমানোর চেষ্টা করা হতো ছবিতে পরিবর্তন এনে কিংবা দর্শকের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। যেমন, শরীরের যৌন আবেদনময় অংশ ঝাপসা করে দেওয়া, ছবির ব্যক্তির মানবিক পরিচয় তুলে ধরা বা দর্শকের ক্ষমতাবোধ কমানোর চেষ্টা করা।

কিন্তু এই গবেষণায় গবেষকেরা সরাসরি ছবি দেখা ব্যক্তির মস্তিষ্কে উদ্দীপনা প্রয়োগ করেছেন।

অধ্যাপক সিভিলের মতে, দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের একই ছবি দেখানো হয়েছিল। তাই পক্ষপাতের কারণ শুধু ছবির মধ্যে নয়, বরং মানুষ ছবিগুলোকে যেভাবে দেখে ও বোঝে, তার মধ্যেও থাকতে পারে।

এই ফলাফল নারী-পুরুষভিত্তিক পক্ষপাত কীভাবে মানুষের দৃষ্টিতে তৈরি হয়, তা বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই পরিবর্তন কতক্ষণ স্থায়ী হয় এবং বাস্তব জীবনে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিষয়: নারীবাংলাদেশনারী কর্মীনারী পাচারযৌন নির্যাতনযৌনকর্মী
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিবিআইকে দেওয়া তথ্যে দীপ জানিয়েছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিতে তাদের কয়েক

  • সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    সাকিব-তামিমরা নেই, তবুও কেন স্পিন উইকেটে আস্থা বাংলাদেশের?

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেট বরাবরই এক ধাঁধাঁর বিষয়। বিশেষ করে স্পিন নির্ভর কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলার কৌশল হিসেবে ধীরগতির ও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় এক যুগ ধরে চলে আসছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেই কৌশলই বাংলাদেশের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ি

  • মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানব মস্তিষ্ক বিকাশের এক জটিল রহস্যের দরজা খুলেছে

    মানবমস্তিষ্কের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক জিনগত ত্রুটিযুক্ত স্নায়ুকোষ বা নিউরন অপসারিত হয়। জন্মের সময়ের কাছাকাছি এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক যেন নিজের কোষগুলোর গুণগত মান যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা ত্রুটিপূর্ণ কোষ সরিয়ে দেয়। নেচার সাময়িকীতে গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি গবেষণায় মানুষের

  • মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    মঙ্গলের ৪১০ কোটি বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন জলময় পরিবেশের সন্ধান

    টেঘাজা ০০১-এর আবিষ্কার মঙ্গল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে—গ্রহটি সব সময় বর্তমানের মতো শীতল ও শুষ্ক ছিল না। তার জন্মলগ্নে সেখানে পানি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং তুলনামূলক ঘন বায়ুমণ্ডলসহ ভিন্ন এক পরিবেশ থাকতে পারে।