Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ
ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ

ইরান কি আরেকটি ইরাক হওয়ার পথে

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২: ৪১
ইরান কি আরেকটি ইরাক হওয়ার পথে

পারস্য উপসাগরের চলমান যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পেতে চাইলে যুদ্ধ পরিচালনাকারী নেতাদের বক্তব্য দিয়ে তা সহজে মেলানো যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে বলছেন, সংঘাতটি খুব শিগগিরই শেষ হবে; আবার একইসঙ্গে এটিকে কেবল শুরুর ধাপ বলেও উল্লেখ করছেন।

Advertisement

অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ৯ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনও জনসমুক্ষে আসেননি। তার অধিনস্তরা বলছেন, তারা আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত চান না, অথচ সেই দেশগুলোর ওপরই হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছালেও এটি কবে বা কীভাবে শেষ হবে তা এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আশা করছে, ইরানকে চাপে ফেলে বশ্যতা স্বীকার বা পতনে বাধ্য করা যাবে। বিপরীতে ইরান চেষ্টা করছে বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে প্রতিপক্ষকে চাপের মুখে ফেলতে। তেহরানের শাসনব্যবস্থা মনে করে, তাদের নিয়ন্ত্রণই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে এবং তারা বিশ্বাস করে যে তাদের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তেলের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ধৈর্য দেখাতে পারবে।

তবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এরইমধ্যে ভয়াবহ। ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ১২ মার্চের মধ্যে ইরানে ১৮ শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। ইরানি হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ৩০ জন মারা গেছে। জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ৭ মার্চ তেহরানের জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলি হামলার পর রাজধানী বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পর্যটন ও ভ্রমণ খাত থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরানের ৫০টিরও বেশি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চারের এক-তৃতীয়াংশেরও কম এখন অ্যাক্টিভ আছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমলেও আক্রমণ বন্ধ হয়নি।

আইআরজিসি সদস্যদের মহড়া। ছবি: রয়টার্স
আইআরজিসি সদস্যদের মহড়া। ছবি: রয়টার্স

সম্প্রতি ইরানি ড্রোন আবুধাবি ও বাহরাইনের তেল শোধনাগার, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওমানের একটি বন্দরে আঘাত করেছে। ১১ মার্চ পারস্য উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যাংকগুলোতেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের শাখা বন্ধ করে দিয়েছে এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড দুবাই থেকে অফিস সরিয়ে নিয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প মাঝে মাঝে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে লক্ষ্যবস্তু করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বারবার বলছেন, ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনী হারায়, তবেই এই যুদ্ধকে সফল বলা যাবে। তবে ইসরায়েল চায় হামলা আরও দীর্ঘস্থায়ী হোক। এদিকে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টকে সীমিত যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইআরজিসিই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষমতার অন্যতম প্রধানস্তম্ভ এই বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের পর তারা আরও শক্তিশালী হতে পারে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ হলেও তার প্রকৃত ক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আলি লারিজানি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তারা দুজনই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা।

তবে আইআরজিসির আধিপত্যের অন্যান্য ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগে তারা দাবি করত যে যেকোনো সংঘাতে ইসরায়েলে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীকে ঘিরে ফেলবে। বাস্তবে তার কিছুই ঘটেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা বা লক্ষ্যভ্রষ্ট গোলাবারুদ বরং তাদের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসরায়েলের ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব বিনাশের লক্ষ্যে হামলা চালানোর কৌশল দেখাচ্ছে যে, আইআরজিসির ভেতরে তথ্য ফাঁসের সমস্যা রয়েছে। গত নয় মাসে তাদের দুইজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে এবং অনেক কমান্ডার আত্মগোপনে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে যে বাহিনী একসময় অত্যন্ত সংগঠিত হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন তা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে।

সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হামলায় ইরানের সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানি তৈরির কারখানাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আইআরজিসি-সম্পৃক্ত জ্বালানি কোম্পানি, তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর এবং আঞ্চলিক অস্ত্র সরবরাহে ব্যবহৃত অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। ১১ মার্চ ইসরায়েল ব্যাংক সেপাহের একটি ডেটা সেন্টারেও আঘাত হানে।

যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতাও আইআরজিসির জন্য কঠিন হতে পারে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ভবিষ্যতে নিজেদের দুর্বলতা কমানোর চেষ্টা করবে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে দুবাই ইরানের অর্থনৈতিক ফুসফুস হিসেবে কাজ করলেও এখন সেখানে ইরানি ব্যবসার ওপর কড়াকড়ি আরোপের আলোচনা চলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ট্রাম্প প্রশাসন ১০ মার্চ কংগ্রেস সদস্যদের তাদের কৌশল নিয়ে ব্রিফ করার পর ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি বোমা হামলা বন্ধের পর ইরান আবার উৎপাদন শুরু করে, তখন কী করা হবে? প্রশাসনের ইঙ্গিত ছিল, তখন আবারও হামলা চালানো হবে।

এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, ভবিষ্যতে ইরান অনেকটা পারস্য উপসাগরে পরবর্তী ইরাকের মতো অবস্থায় পড়তে পারে। দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আংশিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং মাঝেমধ্যে হামলার ঘটনা চলতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসি নিজেদেরকে ইরানের শাসনব্যবস্থার অজেয় রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে তাদের ধারাবাহিক সামরিক ব্যর্থতা সেই ভাবমূর্তিকে ভেঙে দিয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে একটি বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল ইরানে তাদের অবস্থান তারা যতটা শক্ত ভাবছে, বাস্তবে তা অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়: আমেরিকাইরানডোনাল্ড ট্রাম্পযুদ্ধইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ