Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

সৌদির হাতে এত অস্ত্র, কিন্তু কৌশলে ব্যর্থ

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৪৪
সৌদির হাতে এত অস্ত্র, কিন্তু কৌশলে ব্যর্থ
সৌদি আরবের জেদ্দায় হুতিদের হামলার পর সৌদি আরামকোর একটি জ্বালানি তেল সংরক্ষণাগার থেকে আগুনের ধোঁয়া উঠছে। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের সামরিক বাজেট ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভার বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত হলেও, রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যের অভাবে এসব সামরিক পরাক্রম কার্যকর ফলাফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, দীর্ঘ বিরতির পর গত শনিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি অনুসারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাওয়ায় এই গ্রীষ্মে তীব্র হওয়া সংঘাতের ভয়াবহ রূপ পুনরায় সামনে এসেছে। এই একটি একক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরবের কোটি কোটি ডলার মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

Advertisement

২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনী লালন করার পরও সৌদি আরব হুতিদের প্রতিহত করতে পারেনি; বরং উল্টো তারা ইয়েমেনের সমগ্র লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যানুসারে, হুতিরা ইতিমধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখল করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের ওপর নিজেদের মালিকানা দাবি করছে, যা প্রমাণ করে যে সামরিক সক্ষমতা সত্ত্বেও রিয়াদ ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

এই সংঘাতের সূচনা ঘটেছিল ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ, যখন হুতি বিদ্রোহীদের দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবেশদ্বার বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র এডেন শহরের দিকে এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সৌদি আরব প্রথমবার বিমান হামলা শুরু করে। সময়ের পরিক্রমায় ২০২২ সালে গৃহীত একটি যুদ্ধবিরতি এই সংঘাতকে কিছুটা প্রশমিত করলেও চলতি বছরের ২০ জুলাই পরিস্থিতি পুনরায় মারাত্মক আকার ধারণ করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ওই দিন হুতি বিদ্রোহীরা সরাসরি সৌদি আরবের বন্দরগুলো ও তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার এবং ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্টের গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সানা শহরে অবস্থানরত ইরানি বিপ্লবী গার্ডের উপদেষ্টাদের কার্যক্রম ও নতুন আগমন প্রতিহত করার জন্য সৌদি আরব যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, মূলত তারই প্রতিশোধ হিসেবে হুতিরা এই কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ চাপিয়ে দেয়।

মিডিল ইস্ট মনিটরের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উত্তেজনা বৃদ্ধির এই সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সৌদি আরবের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কারণ ওয়াশিংটন খুব সীমিত ভূমিকার মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ রেখেছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দুই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায় যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ১০ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতি আস্তানায় সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ জানান। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

হুতিদের ঠেকাতে অস্ত্র নয়, মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা চায় সৌদিSoudi-US

বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যদিও হোয়াইট হাউস কিংবা ওয়াশিংটনস্থিত সৌদি দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উপরন্তু, সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন যে, হুতিরা নিজেরাই তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, হুতিরা বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক জাহাজকে অবাধে চলাচল করতে দিলেও কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর ক্ষুব্ধ, যা সিএনএনের মতে সরাসরি সৌদি আরবকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছিল। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বারবারা লিফ ট্রাম্পের এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্যকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও বিস্ময়কর বলে আখ্যায়িত করেছেন।

যদিও সরাসরি হামলায় ট্রাম্প প্রশাসন অংশ নেয়নি, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রিয়াদের সামরিক সহযোগিতা একবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সৌদি যুবরাজের সাথে জেদ্দায় বৈঠক করেছেন বলে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা পরবর্তীতে এই সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য বলে জানান। অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অভিযানে না গিয়ে কেবল গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে রিয়াদকে সহায়তা দিচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধুমাত্র নতুন অস্ত্র কিংবা আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করে এই জটিল সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। সৌদি বিমান বাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে তাদের পরাজয় বা ব্যর্থতা কখনোই অস্ত্রের ঘাটতির কারণে ঘটেনি। মূল সমস্যাটি নিহিত ছিল বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য কোনো রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অনুপস্থিতিতে। সানা সেন্টারের গবেষক ইয়াসমীন আল-ইরিয়ানী আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, এই সংঘাতের নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনা বৃদ্ধির লাটাই বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে হুতিদের হাতে চলে গেছে। এই বাস্তবতায় রিয়াদের জন্য হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করার অবাস্তব স্বপ্ন না দেখে তাদের সীমাবদ্ধ রাখা বা কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

মার্কিন সমর্থনের এই অনিশ্চয়তার মুখে রিয়াদ আঞ্চলিক শক্তিশালী পক্ষগুলোর দিকে নজর দিয়েছে এবং নতুন করে সামরিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আগস্ট মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একযোগে একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সেদেশের এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে সৌদি আরবের কিছু প্রযুক্তিগত বা সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে এবং তুরস্কের পক্ষে সেই চাহিদাগুলো মেটাতে কোনো বাধা নেই। তবে পাকিস্তান এই চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে চুক্তির অধীনে হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনিই হয়নি। অন্যদিকে, ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক ইসমাইল নোমান তেলসি আল জাজিরাকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তুরস্ক শেষ পর্যন্ত কোনো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সৈন্য পাঠাবে না।

লোহিত সাগরের এই অস্থিতিশীলতার কারণে প্রতিবেশী দেশ মিশর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মে মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, ২০২৩ সাল থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের ক্রমাগত হামলার কারণে সুয়েজ খাল থেকে মিশরের রাজস্ব আয় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করছে। ফলে কায়রোর পক্ষে বাব আল-মান্দেব প্রণালির এই নিরাপত্তাহীনতাকে কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই, বরং এটি তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি।

এই পুরো সমীকরণে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা কঠিন। ইরানি বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সামরিক সাফল্যকে একটি মহান বিজয় বলে অভিহিত করেছেন।

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে আমেরিকার দ্বারস্থ সৌদি যুবরাজ, ট্রাম্পের প্রত্যাখান trump prince salman

কারণ, বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় প্রধান কৌশলগত সমুদ্রপথ বা চোকপয়েন্টে একটি শক্তিশালী মিত্র থাকা তেহরানের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যদিও হুতিরা দাবি করেছে যে, তারা কেবল সৌদি মালিকানাধীন বা সৌদিগামী জাহাজগুলোতেই বাধা সৃষ্টি করছে এবং ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন অধিকাংশ জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করছে, তবুও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

তাছাড়া হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতারও একটি সীমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান থেকে হুতিদের কাছে অস্ত্র চোরাচালানের পথগুলো বন্ধ করতে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সফল হওয়া অসম্ভব। কারণ চোরাচালানকারী নেটওয়ার্কগুলো দ্রুত কৌশল বদলে ফেলে এবং স্থানীয়ভাবেই ইয়েমেনে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যন্ত্রাংশ সরবরাহ ধীরগতি করা গেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।

রয়্যাল কলেজ লন্ডনের বিশ্লেষক নওয়াফ ওবাইদ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের কাজ চলছে এবং হুতিদের ওপর একটি ব্যাপক সামরিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা হামলা আসতে পারে। এই যুদ্ধ সম্ভবত কোনো বিশাল সেনা অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং বর্ধিত বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রক্সি বাহিনীর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত রূপ নেবে। ইতিমধ্যে সিউল ইকনোমিক ডেইলি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, সৌদি আরব তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে বিভিন্ন মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিল, কিন্তু খুব কম দেশই তাতে সাড়া দিয়েছে।

দিন শেষে, সৌদি আরবের জন্য শিক্ষাটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও নির্মম। তারা পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র কিনেও একজন তুলনামূলক দরিদ্র ও অনিয়মিত শত্রুর কাছ থেকে নিজেদের সীমান্ত ও রাজধানী রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক মিত্ররা রিয়াদের কাছে বিপুল মূল্যে অস্ত্র বিক্রি করবে এবং তাদের গোয়েন্দা তথ্য দেবে, কিন্তু সৌদি আরবের হয়ে ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছাই তাদের নেই। ফলে সৌদি জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে এক বিরাট বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশাল সামরিক শক্তি শত্রু পক্ষকে ক্ষয়ক্ষতি বা শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু কৌশলগত রাজনৈতিক রোডম্যাপ ছাড়া কেবল গোলাবারুদ দিয়ে কোনো স্থায়ী জয় অর্জিত হয় না। ২০১৫ সালে রিয়াদ যে সত্যটি প্রথমবার উপলব্ধি করেছিল, তা আজ নতুন করে আবার তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। একটি নিখুঁত ও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া রিয়াদ কেবল তাদের অস্ত্রের খাতা ভারী করে আরেকটি দীর্ঘ ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে। কোনো স্থায়ী বিজয়ের জন্য নয়। গবেষকদের মতে সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটলেও ইয়েমেনের এই যুদ্ধ টিকে থাকবে কি না। কারণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং এটি সৌদি নিরাপত্তা, ইরানি প্রভাব, ইয়েমেনি সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্যের এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।

বিষয়: সৌদি আরবআফ্রিকাসামরিক বাহিনীহুতিডোনাল্ড ট্রাম্পআইআরজিসি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ২

    সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে বিয়ে সারলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর

  • ৩

    মিরপুরে ৩ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

  • ৪

    ‘মাদরাসার সভাপতি-সেক্রেটারিও জানে না সেখানে কী পড়ানো হয়’

  • ৫

    ‘শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করেনি’

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরান যুদ্ধ: বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো

    ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা—কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি

  • এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়, দায় কি শুধু শিক্ষার্থীর, নাকি রাষ্ট্রেরও?

    গত ২২ বছরের মধ্যে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষাদানের দুর্বলতার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রথাগত পদ্ধতিও এই ফলাফলের জন্য দায়ী।

  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পশ্চিম ইউরোপ

    পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা ইউরোপের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ

  • ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ইরান ও ইউক্রেন: যুদ্ধই গিলে খাবে ট্রাম্পকে!

    ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াই নয়; এটি তার পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর মার্কিন জনগণের মূল্যায়নেরও পরীক্ষা। ইউক্রেনের প্রতি অবস্থান পরিবর্তন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ এবং শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষ রিপাবলিকান ভোটব্যাংকেও প্রভ